বিশ্বজিৎ দাস, কটক, ২৪ ফেব্রুয়ারি- সোমবার সকাল ১০টা ২০ মিনিট। মন্দ আলোয় ড্রিমস ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হলেন দুই আম্পায়ার। পরবর্তী তিন ঘণ্টা আড্ডার মেজাজে বাংলার ক্রিকেটাররা। যেখানে ঘুরে–ফিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল ইডেনে কর্ণাটকের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল প্রসঙ্গ।
এমনিতেই নিয়মরক্ষার্থে শেষদিন মাঠে নেমেছিল দুই শিবির। আগের দিনের ৩৬১/‌৭ হাতে খেলতে নেমে ৩৭৩ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলা। দ্বিতীয় ইনিংসে ওডিশার ১০ ওভার (‌৩৯/‌০)‌ ব্যাটিংয়ের পরই মন্দ আলোয় সেই যে ম্যাচ থমকাল, তারপর আর খেলা শুরু হয়নি। দুপুর ১.‌২৫ মিনিটে দুই দলের অধিনায়কের সম্মতিতে ম্যাচে ইতি টেনে দেন আম্পায়াররা। যা দেখে হাঁফ ছেড়ে বাংলা দলের এক সদস্যের প্রতিক্রিয়া, ‘‌যাক বাবা, সারাদিনের বেকার পরিশ্রমটা আর করতে হবে না।’‌
রবিবার থেকেই সেমিফাইনালের আবহে ঢুকে পড়েছিলেন অভিমন্যু ঈশ্বরনরা। সোমবার সকাল থেকে তাতে আরও গতি লেগেছে। জম্মুতে যখন জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে কর্ণাটক, তখন কটকে বসেই ইডেনের রণকৌশল ছকতে শুরু করে দিয়েছে বঙ্গব্রিগেড। ২৯ তারিখ থেকে ইডেনে রনজি সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ করুণ নায়াররা। থাকবেন লোকেশ রাহুলও। তবে সাম্প্রতিক পারফরমেন্সে আত্মবিশ্বাসী বাংলা শিবির। তারকাখচিত কর্ণাটকের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালকে টুর্নামেন্টের একটা সাধারণ ম্যাচ হিসেবেই দেখতে চাইছে তারা। অধিনায়ক অভিমন্যু তো বলেই দিলেন, ‘‌বিপক্ষে কে সেটা ভেবে কী লাভ?‌ এটা ঠিক যে, কর্ণাটক ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা দলের একটা। তবে আমরা ওটা সেমিফাইনাল নয়, রনজির আরেকটা ম্যাচ ধরেই নামব। চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে সেরা দলগুলোকে হারাতেই হবে। বিশ্বাস করি আমাদের এই দলের সেই ক্ষমতা আছে।’‌ 
অভিমন্যুর সুরে সুর মেলালেন মনোজ তেওয়ারিও। দু’‌বছর আগে পুনেতে দিল্লির বিরুদ্ধে সেই বিপর্যস্ত রনজি সেমিফাইনালে যিনি বাংলাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‌এই দলটার সাফল্যের পিছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে ক্রিকেটারদের ইতিবাচক মানসিকতা। ভুল করেও কারও ভাবনায় যদি নেতিবাচক কিছু ভেসে ওঠে, বাকিরা সঙ্ঘবদ্ধভাবে সেটা মিটিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সেটাই ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলছে।’‌ কর্ণাটক প্রসঙ্গে তাঁর অভিমত, ‘‌ওরা শক্তিশালী দল ঠিকই। তবে আমাদের এই দলটার সেই শক্তির মোকাবিলা করার ক্ষমতা আছে বলেই আমার বিশ্বাস।’‌
ঘরের মাঠে নিজেদের শক্তি অনুযায়ী উইকেটের আর্জির কথাও ঘুরিয়ে স্বীকার করে নিয়েছেন অভিমন্যু। আকাশদীপ ফিট হয়ে যাওয়ায় পেস বিভাগে স্বাস্থ্যকর লড়াই। যা নিয়ে বঙ্গ অধিনায়ক বললেন, ‘‌পেস বিভাগে যেমন স্বাস্থ্যকর লড়াই রয়েছে, তেমনই একটা বড় ভাবনা ছিল আমাদের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের রান না পাওয়া। এখানে দ্বিতীয় ইনিংসে অভিষেক রামন রান পেয়েছে। আমি এবং কৌশিক ঘোষও কিছু রান করেছি। কিছু ফাঁকফোকর এখনও আছে। আশা করি মাঝের ক’‌দিনে সেই সমস্যা মিটিয়ে ফেলা যাবে।’‌
এদিনই রাতের বিমানে কলকাতা ফিরেছেন অভিমন্যুরা। সেমিফাইনালের জন্য ক্রিকেটারদের তরতাজা রাখতে পরের দু’‌দিন বিশ্রাম। আজ, মঙ্গলবার কর্ণাটক ম্যাচের দল বাছবেন নির্বাচকরা। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে যুদ্ধের মহড়া।
স্কোর
বাংলা প্রথম ইনিংস:‌ ৩৩২।
ওডিশা প্রথম ইনিংস:‌ ২৫০।
বাংলা দ্বিতীয় ইনিংস:‌ (‌আগের দিনের ৩৬১/‌৭ এর পর)‌ শাহবাজ ক প্রীত সিং ব সূর্যকান্ত ৬৪, মুকেশ এলবিডব্লু ব দেবব্রত ৬, ঈশান অপরাজিত ০, নীলকণ্ঠ ব সূর্যকান্ত ০, অতিরিক্ত ২৬। মোট (‌১৩৮ ওভারে, ১০ উইকেটে)‌ ৩৭৩।
উইকেট পতন:‌ ৮/‌৩৬১, ৯/‌৩৭৩, ১০/‌৩৭৩।
বোলিং:‌ সূর্যকান্ত ২৭–৪–৬৭–২, বসন্ত ১৬–৭–২১–০, দেবব্রত ২৮–৭–৬৯–২, প্রীত সিং ২২–০–৭০–১, গোবিন্দ ৩১–৬–৯৫–৩, অনুরাগ ১৩–২–২৬–২, শান্তনু ১–০–২–০।
ওডিশা দ্বিতীয় ইনিংস:‌ অনুরাগ অপরাজিত ২৪, শান্তনু অপরাজিত ১৪, অতিরিক্ত ১। মোট (‌১০ ওভারে, বিনা উইকেটে)‌ ৩৯।
বোলিং:‌ নীলকণ্ঠ ৫–১–২০–০, মুকেশ ৫–০–১৮–০।
ম্যাচ ড্র। প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকায় সেমিফাইনালে বাংলা।
 ম্যাচের সেরা:‌ অনুষ্টুপ মজুমদার

রনজি ট্রফির সেমিফাইনালে ওঠার পর বাংলা দল। সোমবার কটকে। ছবি: টুইটার

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top