সুনীল গাভাসকার: আজ এমন দুটো দলের খেলা, যারা সম্প্রতি যা খেলছিল, তার থেকে এই বিশ্বকাপে ভাল খেলছে। আবার পরক্ষণেই নিজেদের আগের ধারা বজায় রেখেই অনিশ্চয়তায় মোড়া ক্রিকেটও উপহার দিচ্ছে। এই অবস্থায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর বাংলাদেশ টনটনে সোমবার মুখোমুখি। ‌‌‌
টনটনের পিচে ব্যাট করার সুখ অন্য। সমারসেটের হয়ে খেলার সময় আমার এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপে টনটনের ম্যাচগুলোর স্কোর দেখেও সেটা বিলক্ষণ বোঝা যাচ্ছে। আসলে উইকেটের সোজাসুজি যে বাউন্ডারি তা ছোট হওয়ায়, বিগ–হিটারদের তো বটেই যারা সাধারণ মানের ব্যাটসম্যান, তারাও প্রলুব্ধ হচ্ছে। ‌‌
মাথার ওপর দিয়ে ব্যাটসম্যানরা যাতে শট মারতে না পারে, তার জন্য বোলারদের নিজেদের লাইন প্রয়োজনে একটু–আধটু বদলাতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা যেন ভরসা রাখে শর্ট পিচ ডেলিভারিতে। কারণ, খুব বেশি ব্যাটসম্যান নিজেদের ওজন পেছনের পায়ে নিয়ে যেতে পারে না। রোহিত শর্মা এই কাজটা চমৎকার পারে। রোহিত এই ব্যাপারে এতই স্বচ্ছন্দ যে ওকে বাউন্সার দেওয়াই বৃথা। 
বাংলাদেশের সমস্যা হল, ওদের বোলাররা রানের গতি আটকাতে পারে না। আটকাতে গেলে জোফ্রা আর্চার বা জসপ্রীত বুমরার মতো গতি চাই। কিংবা ফ্লাইট আর লুপ চাই চাহালের মতো। অন্য স্পিনাররা সে অর্থে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ছাপ রাখতে পারেনি। 
সোমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের শর্ট পিচ বল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা কীভাবে সামলায়, সেটা দেখার আগ্রহ আছে। ওরা প্রথম ম্যাচে শর্ট পিচ ডেলিভারিতে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলেছিল। ইংল্যান্ডের এই ভিজে এবং ভারী আবহাওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দীর্ঘদেহী পেসাররা সাহায্য পাবে, সেটাই প্রত্যাশিত। এখন নিয়ম করে বৃষ্টি হওযায় মাঝেমধ্যেই খেলা বন্ধও থাকছে। সাময়িক সেই বিরতির পর মাঠে পিরে এসে ওরা যখন বল হাতে রান আপে দাঁড়াবে, তখনও ওরা আবহাওয়ার সাহায্য পাবে। 
ওই পেসারদের দেখার পাশাপাশি আমার আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশ স্পিনারদের দিয়ে বোলিং শুরু করালে ক্রিস গেল, যে কিনা আইপিএলে বারবার অফস্পিনারের হাতে পরাস্ত হয়েছে, সে কী করে সেটাও দেখার। 
ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিশ্চয়ই চাইবে এখানে জিতে ইংল্যান্ডের কাছে হারের যন্ত্রণা ভুলতে। টনটনে ওদের সামনে সে সুযোগ রয়েছে। ‌দেখা যাক। 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top