দেবাশিস দত্ত: ‌পুজোর মধ্যেই ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (‌আইসিএ)‌ সভাপতি হলেন অশোক মালহোত্রা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ভারতীয় বোর্ডের কাজকর্মে স্বচ্ছতা রাখার জন্য যে যে শর্ত আরোপ করতে চেয়েছিল লোধা কমিশন, তার মধ্যে একটি ক্রিকেটারদের সংগঠন তৈরি। বলা হয়েছিল, বোর্ডের আওতাধীন অ্যাসোসিয়েশনগুলির প্রত্যেকটিতে ভোটাধিকার দিতে হবে ক্রিকেটারদের। শোনা যাচ্ছে, এই সংস্থাগুলির অধিকাংশেই ক্রিকেটারদের গুরুত্ব বেড়েছে। ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতাও দেওয়া হচ্ছে (‌তামিলনাড়ু, হরিয়ানায় অবশ্য ক্রিকেটারদের এই ক্ষমতা দেওয়া হয়নি এখনও)‌।
কপিলদেব, অংশুমান গায়কোয়াড়, শান্তা রঙ্গস্বামীরা বোর্ড কর্তাদের অনুরোধে ক্রিকেটারদের সংগঠন তৈরির প্রাথমিক কাজ শেষ করে ফেলেছেন। এবার কমিটি তৈরি করে কাজ শুরু করার পালা। সেজন্যই আইসিএ বোর্ড। মালহোত্রা হয়েছেন সভাপতি। সচিব তিনজন— আশু দানি, হিতেশ মজুমদার, সিদ্ধার্থ সাহিব সিং। কোষাধ্যক্ষ পদে কিশোরকুমার শর্মা এবং ভি কৃষ্ণস্বামী। আইসিএ মেম্বার রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে থাকছেন রাজেশ নায়ার ও যজুবেন্দ্র সিং। ক্রিকেটারদের সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলে থাকবেন সুরিন্দর খান্না। আরও দুটি পদ আছে। বোর্ডের অ্যাপেক্স কাউন্সিলে থাকবেন সংগঠনের দুই প্রতিনিধি। একজন পুরুষ ও একজন মহিলা। 
সব রাজ্য থেকে একজন করে পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেটারকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যাঁরা রাজ্যে ক্রিকেটের পরিকাঠামো, সুযোগ–‌সুবিধা নিয়ে আলোচনা করবেন বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে। তাঁদের মতামত অ্যাপেক্স কাউন্সিলেও তুলে ধরা হবে। বাংলা থেকে স্নেহাশিস গাঙ্গুলি ও গার্গী ব্যানার্জিকে মনোনীত করা হয়েছে (‌যেমন মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন থেকে থাকবেন কিরণ পোয়ার, ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন থেকে করণ দুবে)‌।‌ সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জানালেন, তাঁর ভবিষ্যৎ করণীয়। 
প্রশ্ন:‌ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেন?‌ 
অশোক মালহোত্রা:‌ ভেরি সিম্পল। বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল। নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে অন্য কেউ আবেদন করেনি বলে আমি প্রেসিডেন্ট হয়ে গেলাম। 
প্রশ্ন:‌ এ তো বিশাল দায়িত্ব।
মালহোত্রা: তা তো বটেই। বোর্ড যেভাবে এবার ক্রিকেটারদের নিয়ে আসছে তাতে প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব বাড়বে। আমাদের মূল দায়িত্ব যাতে সুষ্ঠুভাবে এদেশে ক্রিকেট খেলা হয় আর যোগ্যরা বঞ্চিত না হয়। ক্রিকেটারদের যেভাবে প্রতিটি স্তরে রাখা হয়েছে, তাতে ক্রিকেটারদের মতামতকে আর অগ্রাহ্য করা যাবে না। আমি আনন্দিত এবং উত্তেজিত এই দায়িত্ব পেয়ে। জানতাম অতি বিখ্যাত বা বিখ্যাত ক্রিকেটাররা এই সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় কর্তা হতে পারবেন না স্বার্থের সঙ্ঘাতের কারণে। তাই প্রেসিডেন্ট হওয়ার আবেদন করেছিলাম। অঙ্কটা মিলে গেল। কমিটি মোটামুটি তৈরি হয়েই গেছে। দুটো পজিশন ছাড়া। ওই দুটোয় হয়তো ভোট হবে। কমিটিতে আসা প্রত্যেক ক্রিকেটারকে বলব, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি দূরে সরিয়ে রেখে সামগ্রিকভাবে দেশের ক্রিকেটের উন্নতির কথা ভাবতে। 
প্রশ্ন:‌ ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন?‌ 
মালহোত্রা: অবশ্যই।  কতদিন ধরে ওইসব দেশে ক্রিকেটারদের সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। আমরাও চেষ্টা করব ওদের সঙ্গে কথা বলে নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে।
 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top