রাজকুমার মণ্ডল: লড়াইয়ে খামতি নেই বিন্দুমাত্র। এখন প্রশিক্ষক নেই। একাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন। ভোর চারটেয় লম্বা দৌড় দিয়ে শুরু। তারপর ক্যারাটের ক্লাব হাওড়া অ্যাসেম্বলিতে অনুশীলন। পাঁচ বছর বয়স থেকেই শুরু অদম্য লড়াই। ক্যারাটে শিখবেই, এই জেদে অনড়। নাছোড়বান্দা অন্বেষা দাসের জেদে বাবা বাধ্য হয়ে বেছে নিলেন অলিম্পিক গেম ‘‌তাইকোন্ডো’‌। 
প্রথমে স্থানীয় প্রশিক্ষক ইন্দ্রনীল গুপ্তার কাছে প্রশিক্ষণ শুরু অন্বেষার। এক বছরের মধ্যেই জেলাস্তরের প্রতিযোগিতায় সোনা জয়। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি লরেটো ডে স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে। রাজ্য স্কুল চ্যাম্পিয়নশিপেও সোনা জয়। ২০১৬–‌য় ভুটানে আন্তর্জাতিক তাইকোন্ডোতে রুপো। দিল্লিতে ওপেন ইন্টারন্যাশনাল তাইকোন্ডোয় সোনা। ২০১৮–য় জাতীয় সাব জুনিয়র তাইকোন্ডো চ্যাম্পিয়নশিপেও সোনা। সম্প্রতি দার্জিলিংয়ে রাজ্য তাইকোন্ডোতেও সাব ‌জুনিয়র ও ক্যাডেট বিভাগে সোনা। আন্তর্জাতিক, জাতীয়, রাজ্য–‌সহ বিভিন্ন স্তরে মোট ২২টি সোনা, ৫টি রুপো ও ১টি ব্রোঞ্জ রয়েছে এই দ্বাদশীর। 
ছোটবেলা থেকেই তারকা তাইকোন্ডো খেলোয়াড় কৌশিস মালিকের ভক্ত অন্বেষা। এখন কোচ না থাকলেও কৌশিসের সঙ্গে অনুশীলন করার সুযোগ মিলেছে। দিল্লির পিস তাইকোন্ডো অ্যাকাডেমিতে আফগানিস্তানের কোচ সৈয়দ হাসান রেজের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করবে খুব শীঘ্রই। 
তবে খরচ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বারবার। বাবা অনুপম দাস ও মা শুভ্রা দাস দুজনেই নাট্যকর্মী। খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত দম্পতি। তবে লক্ষ্যে অনড় অন্বেষা। তার বক্তব্য, ‘‌বড় প্রতিযোগিতায় সোনা জিতলে তবেই আমি মনে করব বাবা–‌‌মায়ের জন্য কিছু করতে পেরেছি।’‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top