‌আজকালের প্রতিবেদন: ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের জন্য মুম্বই ফুটবল এরিনায় ২৫ জুন থেকে প্রস্তুতি শুরু করছেন ভারতীয় ফুটবল দলের চিফ কোচ ইগর স্টিম্যাক। জাতীয় শিবিরে ৩৫ জন ফুটবলারকে ডেকেছেন তিনি। কিংস কাপের দল ও শিবিরে থাকা ফুটবলাররা তো আছেনই, পাশাপাশি আনাস–সহ পাঁচ ফুটবলারকে এই শিবিরে ডাকলেন স্টিম্যাক। 
এঁরা হলেন সার্থক গলুই, নরেন্দ্র গেহলট, মন্দার রাও, আশিক কুরনিয়ান, নিখিল পূজারি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল অবসর ভাঙিয়ে আনাসকে জাতীয় শিবিরে ফেরানো। এর আগে আফ্রো–এশিয়ান গেমসের আগে বিজয়নকে অবসরের সিদ্ধান্ত বাতিল করিয়ে ভারতীয় দলে খেলিয়েছিলেন তৎকালীন ভারতীয় কোচ স্টিফেন কনস্টানটাইন। বাইচুংকেও একইভাবে অবসরের ভাবনা সরিয়ে দলে ফেরান আরেক কোচ বব হাউটন। এবার আনাসকে একইভাবে অবসর ভেঙে জাতীয় দলের জার্সি পরতে উদ্বুদ্ধ করলেন স্টিম্যাক। বছরের শুরুতে এশিয়ান কাপের শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন ভারতীয় দলের স্টপার আনাস। কিন্তু ফোন করে আনাসকে সেই সিদ্ধান্ত বদল করে দেশের হয়ে খেলার জন্য রাজি করিয়েছেন স্টিম্যাক। 
ভারতীয় দলের চিফ কোচ কিংস কাপের দুটো ম্যাচ দেখে এটা বেশ বুঝে গেছেন, ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে তাজিকিস্তান, সিরিয়া, উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হতে ও ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ সামলাতে সন্দেশ ও রাহুল বেকের স্টপার লাইনের কম্বিনেশন দিয়ে চলবে না। আদিল খানও এঁদের কারও স্টপারে বিকল্প হতে পারেন না। তাই রক্ষণে জমাট ভাব আনতে তড়িঘড়ি আনাসকে ডেকেছেন শিবিরে। স্টিম্যাকের প্রতিক্রিয়া, ‘‌আগের কোচ স্টিফেনের সময় ভারতীয় দলের পরিচ্ছন্ন পারফরমেন্সে আনাসের একটা বড় ভূমিকা ছিল। ওকে ফোন করে অবসর ভেঙে ফিরে আসতে বলি। তাতে ও সাড়া দেওয়ায় খুশি। দেশের জার্সিতে খেলা সব ফুটবলারের কাছেই গর্বের ব্যাপার। ফুটবলাররা সকলেই দেশের হয়ে খেলার দাবিদার। তবে দলে ঢুকতে জাতীয় শিবিরে কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে সেরাটা দিতে হবে ফুটবলারদের। বলে রাখি, আমার নজর থাকবে নতুন মরশুমে আই লিগ ও আইএসএল ক্লাবে খেলা ফুটবলারদের পারফরমেন্সের ওপর। শুভেচ্ছা রইল ওদের জন্য।’‌ 
জাতীয় শিবিরে ডাক পাওয়া আনাসের প্রতিক্রিয়া, ‘‌স্টিম্যাক যে আমাকে ফোন করে জাতীয় শিবিরে যোগ দিতে বলবেন, ভাবিনি। আমি অভিভূত। সহকারী কোচ ভেঙ্কি ভাই (‌‌ভেঙ্কটেশ)‌ আমার সঙ্গে তার পর বিশদে কথা বলেছেন। আমি শিবিরে যোগ দিতে মুখিয়ে আছি। কোচের আস্থার মর্যাদা দিতে হবে। এক বছর আগের তরতাজা ভাবটা যেন ফিরে এসেছে। এখন আমি শুধুই শিবিরে ফোকাস করছি। দলে ঢোকার কথা ভাবছি না। শিবিরে সেরাটা দেব, তাতে যা হওয়ার হবে। সব কোচের আলাদা দর্শন থাকে। এর আগে স্টিফেনের কোচিংয়ে কিছু ভাল হয়েছে, এখন সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলে জানছি, স্টিম্যাকের কোচিং অসাধারণ। তাঁর অগাধ অভিজ্ঞতার স্বাদ পেতে চাই।’‌ 
কিংস কাপের মতোই ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে আরও একঝাঁক নতুন ফুটবলারকে খেলিয়ে প্রাক্‌–বিশ্বকাপের ম্যাচের আগে দল গোছানোর পরিকল্পনা নিয়ে যে এগোবেন স্টিম্যাক, সেটা তাঁর মনোভাবে স্পষ্ট। জাতীয় শিবিরে ডাক পেয়েছেন গুরপ্রীত, অমরিন্দার, কমলজিৎ, বিশাল (‌গোলকিপার)‌, প্রীতম, নিশুকুমার, বেকে, সালাম, সন্দেশ, আদিল, আনাস, আনোয়ার, সার্থক, শুভাশিস, নরেন্দ্র (‌ডিফেন্ডার)‌, উদান্তা, জ্যাকিচাঁদ, ব্র‌্যান্ডন, অনিরুদ্ধ, রেনিয়ার, প্রণয়, রওলিন, বিনীত, সাহাল, অমরজিৎ, ছাঙতে, মন্দার, আশিক, নিখিল, সুসেইরাজ (মিডফিল্ডার)‌, বলবন্ত, সুনীল, জবি, ফারুক, মনবীর।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top