অগ্নি পাণ্ডে: ‘ধরো তোমার সামনে রয়েছে ডেভিড ওয়ার্নার বা অান্দ্রে রাসেল। কীভাবে এই দু’‌জন ব্যাটসম্যানকে তুমি বোলিং করবে? ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কী করতে চাও বলে তারপর বোলিং করো।’ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোরের কোচ মাইক হেসন এমনই বলেছিলেন বাংলার জোরে বোলার আকাশদীপকে।
তখন তাঁর কথা শুনে নিজে মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিলেন ঠিক কোথায় বল ফেলবেন তিনি ডেভিড ওয়ার্নার এবং আন্দ্রে রাসেলের বিরুদ্ধে। সেইমতোই বোলিং করে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন আকাশদীপ। তাকিয়ে রয়েছেন আইপিএল নিলামের দিকে। যা হবে ১৯ ডিসেম্বর কলকাতায়।
দেশের অনূর্ধ্ব ২৩ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার সবথেকে কৃপণ জোরে বোলার। এ বছরেই সই করেছেন মোহনবাগানে। দুর্গাপুরের আকাশদীপ ইতিমধ্যেই বাংলা ক্রিকেটে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। অনূর্ধ্ব ২৩ প্রতিযোগিতায় দুরন্ত পারফরমেন্স করার কারণেই তাঁকে ট্রায়ালে ডেকেছিল আইপিএলে বিরাট কোহলির ফ্র‌্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর। এর পাশাপাশি আকাশদীপকে ডেকে ছিল রাজস্থান রয়্যালসও। দুটো ফ্র‌্যাঞ্চাইজিতে ট্রায়াল দিয়ে কলকাতায় ফিরেছেন বাংলার এই জোরে বোলার।
বৃহস্পতিবার বাংলার অনুশীলন দেখতে গিয়েছিলেন আকাশদীপ। তখনই বলছিলেন আইপিএলে দুটো ফ্র‌্যাঞ্চাইজিতে ট্রায়াল দিয়ে আসার অভিজ্ঞতার কথা। আকাশের কথায়, ‘একদম অন্য ধরনের অভিজ্ঞতা। নিজের নাম রেজিস্টার করিয়েছিলাম। তারপর অনূর্ধ্ব ২৩ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই নিজে থেকে দুটো ফ্র্যাঞ্চাইজি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। ট্রায়াল দিতে যাওয়ার কথা বলে। এখন দেখার ১৯ তারিখ কী হয়। আমি আশাবাদী।’
উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটসম্যানকে বেঁধে রেখে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে সুনাম অর্জন করেছেন আকাশদীপ। ‘আমি বরাবরই ব্যাটসম্যানকে আটকে রাখায় বিশ্বাসী। আমার ইকনমি রেট এমন জায়গায় নিয়ে যেতে চাই যে পরের দিকে ব্যাটসম্যান আমাকে মারতে গিয়ে আউট হওয়ার চেষ্টা করে। তাই আঁটোসাঁটো বোলিংই আমার প্রধান অস্ত্র।’
বাংলার কোচ অরুণলালের খুব প্রিয় পাত্র হয়ে উঠেছেন বিজয় হাজারে এবং মুস্তাক আলি প্রতিযোগিতার সময় থেকেই। ‘লালজি’ নেটে বহুক্ষণ সময় দিচ্ছেন আকাশদীপকে। ‘স্যর, আমার বোলিং খুব পছন্দ করেন। নেটে অনেক কিছু বোঝান। একবার স্যর আমাকে বলেছিলেন যে আমার হাতে ইনস্যুইং ছাড়া আর কোনও অস্ত্রই নেই। অস্ত্র আরও বাড়াতে হবে। স্যরের কথা শুনে আমি তারপর নিজেই ভেবে ভেবে এখন একটা ওভারে পাঁচরকম ডেলিভারি করতে শিখে গেছি। কোনওটা নাক্‌ল বল, কোনওটা স্লোয়ার, কোনওটা আমার যা স্বাভাবিক ইনস্যুইং, কোনওটা ইয়র্কার। এক ওভারে বোলিংয়ে বৈচিত্র আনতে শিখে গেছি।’ বেশ দাপটের সঙ্গে বলেন আকাশদীপ।
জুটিতে বোলিং পছন্দ করেন। আকাশদীপের কথায়, ‘আমি যে ধরনের বোলিং করি সেক্ষেত্রে আমাকে পার্টনারশিপে বোলিং করতেই হবে। আমার বলে ব্যাটসম্যানরা মারতে পারে না। তাই অন্য দিকের বোলাররা উইকেট নিয়ে চলে যায়। এটাই আমি চাই। আমি কৃপণ বোলিং করতেই সবচেয়ে বেশি ভালবাসি।’ পছন্দ করেন বাংলা সিনিয়র দলের জোরে বোলিং বিভাগের প্রতিযোগিতা। ‘কাউকে সরিয়ে জায়গা করে নিতে চাই না। তবে জোরে বোলারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা উপভোগ করি।’‌

নিলামে চমকে দেওয়ার অপেক্ষায় আকাশদীপ।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top