আজকালের প্রতিবেদন: স্বপ্নের বোলিং ছাড়া আর কী–ই বা বলা যেতে পারে। এক ইনিংসে ১০ উইকেট!‌ এই ধরনের কৃতিত্ব খুব কম বোলারেরই রয়েছে। অনূর্ধ্ব ১৬ বিজয় মার্চেন্ট ট্রফিতে এমনই দুর্দান্ত নজির গড়েছে মেঘালয়ের অফস্পিনার নির্দেশ বৈশ্য। 
অসমের তেজপুরে অসম ভ্যালি স্কুল মাঠে বিজয় মার্চেন্ট ট্রফির খেলা ছিল মেঘালয় ও নাগাল্যান্ডের। নির্দেশের অফস্পিনের জাদুতে ১১৩ রানেই গুটিয়ে যায় নাগাল্যান্ডের ইনিংস। ২১ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৫১ রানে বিপক্ষের সবকটি উইকেটই তুলে নেয় নির্দেশ। তার অফস্পিনে দিশা খুঁজে পায়নি নাগাল্যান্ড ব্যাটসম্যানরা। দিনের শেষে মেঘালয় ৪ উইকেট হারিয়ে ১০৯ তুলেছে। 
নির্দেশের কাজ অবশ্য সহজ করে দিয়েছিল মাঠের পরিবেশ। নিজের মুখেই স্বীকার করেছে ১৫ বছর বয়সী এই তরুণ অফস্পিনার। নজির গড়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। দিনের খেলার শেষে নির্দেশ বলে, ‘‌ভাবিনি ম্যাচে ১০ উইকেট পাব। এই রকম নজির গড়তে পেরে আমি উত্তেজিত। দিনের শুরু থেকেই পরিবেশ বোলারদের অনুকূলে ছিল। উইকেটে ময়েশ্চার ছিল। আমি সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়েছি। আমার কাছে সত্যিই একটা খুব ভাল দিন। সতীর্থদের কাছ থেকেও দারুণ সাহায্য পেয়েছি।’‌ 
নির্দেশ বৈশ্যর আসল বাড়ি উত্তরপ্রদেশের মিরাটে। প্রবীণ কুমার, ভুবনেশ্বর কুমাররা যে কোচের হাতে তৈরি, সেই সঞ্জয় রাস্তোগিই তৈরি করেছেন নির্দেশকে। অতিথি ক্রিকেটার হিসেবে ২ বছর আগে মেঘালয়ে চলে আসে।  মিরাটই নির্দেশের ক্রিকেটের আঁতুড়ঘর। তার কথায়, ‌‘‌আমি মিরাটেই বেড়ে উঠেছি। ছোটবেলা থেকে ভিক্টোরিয়া পার্কে রাস্তোগি স্যরের কাছেই ক্রিকেট শিখেছি। এই সাফল্যের জন্য স্যরের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’‌ প্রবীণ কুমার, ভুবনেশ্বর কুমারদের কাছ থেকে পরামর্শ পেয়েছে বলেও দাবি করেছে নির্দেশ। সে বলে, ‘অফসিজনে প্রবীণভাই, ভুবিভাইরা ভিক্টোরিয়া পার্কে প্র‌্যাকটিস করতে চলে আসেন। আমাদের নানারকম পরামর্শ দেন।’‌ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান নির্দেশ। বাবা নয়ডা অথরিটিতে কাজ করেন, মা গৃহবধূ। আপাতত ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই লক্ষ্য নির্দেশের। ‌ ‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top