আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ নদীতে প্লাবন। এদিকে তরুণীর সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় এসে পড়েছে। নিকটতম হাসপাতাল ১৫ কিলোমিটার দূরে। সেখানে পৌঁছতে তাই অন্তঃসত্ত্বাকে রান্নার গামলায় চাপিয়ে নদী পার করল পরিবার। যদিও শেষরক্ষা হল না। চিকিৎসকদের গাফিলতিতে বাঁচল না সদ্যোজাত। ছত্তিশগড়ের বিজাপুরের ঘটনা।
প্রসূতির স্বামী হরিশ ইয়ালম ভোপালপতলম টাউনের কমিউনিটি হাসপাতালের চিকিৎসকদের দিকে আঙুল তুলেছেন। জানিয়েছেন, যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন স্ত্রী লক্ষ্মী। হাসপাতালে চিকিৎসক ছিলেন না। স্বাস্থ্যকর্মীরা হাত গুটিয়ে চিকিৎসকের অপেক্ষায় বসেছিলেন। সময়মতো চিকিৎসক এলে সদ্যোজাতকে বাঁচানো যেত। ১৩ জুলাইয়ের ঘটনা। 
ব্লক মেডিক্যাল অফিসারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন হরিশ। কাজ না হলে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হবেন বলে জানালেন। বিএমও অজয় রামটেকে জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়ে ওই হাসপাতালের তিন স্বাস্থ্যকর্মীকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। সেই রাতে কী হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। যদিও হরিশ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বিএমও–র দপ্তরের তরফে কিছুই জানানো হয়নি তাঁকে।
লক্ষ্মীর বয়স ৩৫। চার বছর আগে ৩৩ বছরের হরিশের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। এই প্রথম বার সন্তানধারণ করেছিলেন তিনি। এমনিতে তাঁরা বিজাপুর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে মামিদগুড়ায় থাকেন। কিন্তু হালপাতাল কাছে বলে এই সময়টায় লক্ষ্মী নিজের বাপের বাড়ি মিনুর গ্রামে থাকছিলেন। সেখান থেকে ভোপালপতনম স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। বিজাপুরের তহশীল টাউন হল ভোপালপতনম। 
হরিশ জানালেন, প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে নদী প্লাবিত হয়। তাই লক্ষ্মীকে রান্নার বড় গামলায় চাপিয়ে নদী পার করানো হয়। নদী পেরিয়া গোরলাতে দাঁড়িয়ে ছিল অ্যাম্বুল্যান্স। তাতে চাপিয়ে লক্ষ্মীকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেল ৩টেয় পৌঁছন তাঁরা। হরিশা জানান, এর পর কর্তব্যরত নার্স অনেকবারই লক্ষ্মীকে এসে দেখে যান। কিন্তু বাড়ির লোককে কিছুই জানাতে চাননি। রাত ৮টায় তাঁর ডিউটি শেষ হলে অন্য নার্স আসেন। 
ততক্ষণে লক্ষ্মী যন্ত্রণায় কাঁদছেন। হরিশ আর্জি জানান, তাঁদের যেন বিজাপুর হাসপাতালে রেফার করা হয়। নার্সরা তাও করেননি। জানিয়ে দেন, তাঁর প্রসবের সময় এসেছে। তাঁরা স্বাভাবিক উপায়ে প্রসব করানোর চেষ্টা করেই যেতে থাকেন। রাত ৯টা লাগাদ লক্ষ্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর রক্তচাপ নেমে যায়। বাধ্য হয়ে তখন চিকিৎসককে ডাকেন নার্সরা। রাত সাড়ে ১০টায় চিকিৎসক গোপী কিষাণ আসেন। তিনি অস্ত্রোপচার করলেও শিশুটি বাঁচেনি। হরিশের কথায়, ডা.‌ কিষাণ জানিয়েছেন আর আধ ঘণ্টা দেরি হলে লক্ষ্মীও বাঁচতেন না।

জনপ্রিয়

Back To Top