আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনে পুলিশি হেফাজতে ব্যবসায়ী বাবা–ছেলের মৃত্যুতে প্রতিবাদ গোটা দেশের। আঙুল উঠছে পুলিশের দিকেই। অভিযোগ, প্রচণ্ড অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই বাবা–ছেলের মৃত্যু। সমালোচনার মুখে পড়ে তদন্তভার সিবিআই–এর হাতে তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ই পালানিস্বামী। 
এদিন পালানিস্বামী জানালেন, ‘‌সরকার সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাদ্রাজ হাইকোর্টের থেকে অনুমতি পেলেই মামলাটি সিবিআই–এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। পরের শুনানিতে এটা করা হবে। এখন মাদ্রাজ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।’‌ 
তুতিকোরিনের ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে সাথানকুলামের ঘটনা। ১৯ জুন লকডাউনের নিয়ম লঙ্ঘন করে দোকান খোলা রেখেছিলেন জে জয়রাজ (‌৫৯)‌ এবং ছেলে বেনিকস ইমানুয়েল (‌৩১)‌। পুলিশ তাঁদের তুলে নিয়ে যায়। হেফাজতে চরম অত্যাচার চালায়। পরিবারের অভিযোগ, ময়নাতদন্তে দেখা গেছে মৃতদের পায়ুতে ক্ষত। বুকের লোম টেনে ছেঁড়া হয়েছে। সোমবার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় বেনিকসের। পরে মৃত্যু হয় তাঁর। পরের দিন, মঙ্গলবার মারা যান তাঁর বাবা জয়রাজও। 
জয়রাজের স্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বিচার চান। এ প্রসঙ্গে তিনি মিনিয়াপোলিসে পুলিশের হাতে নিহত জর্জ ফ্লয়েডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। দেশজুড়ে তুমুল প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়। সরকারকে একহাত নেয় বিরোধী ডিএমকে। অভিনেতা–রাজনীতিক কমল হাসান সরাসরি অভিযুক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী এবং সরকারকে।
দুই সাব ইনস্পেক্টর সহ চার জন পুলিশ কর্মীকে ঘটনায় সাসপেন্ড করা হয়েছে। একজন ইনস্পেক্টরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামী, উপমুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভাম। এবার সিবিআই–এর হাতে দেওয়া হল তদন্তভার। 
 

জনপ্রিয়

Back To Top