আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বাবা ছাগল চড়ান। মা ১০০ দিনের কাজ করেন। নুন আনতে পান্তা ফুরনোর হাল সংসারে। সেই পরিবারের ছেলে এন জীবিতকুমার ডাক্তারির প্রবেশিকা নিট–এ সফল। ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৬৬৪ পেলেন তিনি।
তামিলনাড়ুর থেনি জেলার বাসিন্দা জীবিতকুমারের র‌্যাঙ্ক হল ১৮২৩। সারা দেশের সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের মধ্যে প্রথম। থেনি জেলার পেরিয়াকুলামের কাছে সিলভারপাত্তি টাউনের গভমেন্ট মডেল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে পড়তেন তিনি। কোচিংয়ে পড়ার সামর্থ্য ছিল না। পাশে দাঁড়িয়েছেন সরকারি স্কুলেরই এক শিক্ষক সবরীমালা জয়াকান্ধন। 
এই নিয়ে দ্বিতীয়বার নিট দিলেন জীবিতকুমার। গত বছর নিট–এ বসেছিলেন। জীবিতর স্কুল ৪৫ দিনের একটি কোচিং ক্লাসের ব্যবস্থা করে দেয়। তাতে লাভ হয়নি। অসফল হন জীবিত। পাশে দাঁড়ান সবরীমালা। অতীতে সরকারি স্কুলের এক ছাত্রী নিট–এ অসফল হয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। সেজন্য অনশনে বসেছিলেন সবরীমালা। পুলিশ সেই অনশন ভেঙে দেয়। 
এর পরই চাকরি ছেড়ে দেন সবরীমালা। জেলার সরকারি স্কুলে ঘুরে ঘুরে ইচ্ছুক পড়ুয়াদের নিট–এর প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সাহায্যেই সফল হলেন জীবিত। কিন্তু তাঁর দরিদ্র বাবার কাছে ছেলেকে ডাক্তারি পড়ানোর সামর্থ্য নেই। সবরীমালার আবেদন, রাজ্য সরকার এগিয়ে এলে একমাত্র চিকিৎসক হতে পারবেন জীবিতকুমার। তার পর জীবিতর সাহায্য এবং অনুপ্রেরণায় অনেক সরকারি স্কুলের পড়ুয়া নিট–এ সফল হতে পারবে ভবিষ্যতে। 
 

জনপ্রিয়

Back To Top