আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ১৪ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। গোটা বিশ্ব জুড়ে পালিত হচ্ছে ভ্যালেন্টাইন’‌স ডে। প্রেম দিবসে মেতে ছিল এই দেশও। এদিনই ছুটি কাটিয়ে কাজে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন সিআরপিএফের জওয়ানরা। কিন্তু তাঁরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি যে তাঁদের আর কাজে যোগ দেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে ১৫ নাগাদ শ্রীনগর–জম্মু হাইওয়েতে ৭৮টি সিআরপিএফের কনভয়ে হামলা চালায় আত্মঘাতী জঙ্গি। ঘটনায় নিহত হয় ৪২টি তরতাজা প্রাণ। এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতে মুহূর্তে প্রেম দিবসের খুশি দুঃখে পরিণত হয়। গোটা দেশ ক্ষোভ উগরে দেয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। 
রীতিমতো ‘‌উরি’‌ সিনেমার প্রথম দৃশ্যের কায়দায় কনভয়ে হামলা চালায় আত্মঘাতী জঙ্গি আদিল। তখন হাইওয়ে দিয়ে পরপর কনভয় যাচ্ছিল। আচমকাই বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ে জঙ্গিরা। বিস্ফোরকের পর লুকিয়ে থাকা জঙ্গিরা জওয়ানদের ওপর গুলি চালাতে চালাতে পালিয়ে যায়। গোটা ঘটনা সামনে আসতেই, রাগে–ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা দেশ। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টা সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পোস্ট হতে শুরু করে দেয়। ভ্যালেন্টাইন’‌স ডে–কে উপেক্ষা করে নেটিজেনদের অ্যাকাউন্টের ছবি বদলে যায় কালো রঙে, কেউ কেউ সিআরপিএফের লোগো দেয় নিজেদের প্রোফাইল পিকচারে।

সকলেরই দাবি একটাই, এবার আর কথার প্রতিশ্রুতি নয়, সোজা হামলা। বিভিন্ন পোস্ট, শহিদদের উদ্দেশ্য করে কবিতা, পাকিস্তান–বিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি নেটিজেনরা দাবি জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ব্ল্যাক ডে হিসাবে ঘোষণা করা হোক। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমালোচনায় সরব হয়েছেন বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী। 
বৃহস্পতিবার সকালে যে সব নেটিজেনদের ফেসবুক–ইনস্টা ভ্যালেন্টাইন’‌স ডে–র পোস্টে ভরা ছিল, বিকেল থেকেই তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টে দেখা গেল অন্য পোস্ট। অনেকেই প্রেম দিবসের ছবি–পোস্ট মুছে দিয়ে নিহত শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। রাজনৈতিকবিদ থেকে বলিউড অভিনেতা–অভিনেত্রী সকলেই নিজের নিজের মতো শহিদ জওয়ান ও তাঁদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট করেছেন বিভিন্ন লেখা। এই ঘটনার পর গোটা দেশ রাগে ফুঁসছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে প্রত্যেক দেশবাসীর এখন একটাই দাবি, হয়ে যাক দ্বিতীয় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। আর কোনও আশা–ভরসা নয়, এবার কিছু করে দেখানোর সময় এসেছে। যদিও নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, এই হামলার প্রতিশোধ নেবে ভারত। কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। 

জনপ্রিয়

Back To Top