আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ১৫০০টা পরিযায়ী পাখির রহসয়জনকভাবে মৃত্যু হল রাজস্থানে। মঙ্গলবার ওই পাখিগুলির মৃতদেহ ডুডু জেলার লবণাক্ত জলে ভরা সম্ভর হ্রদের পাড়ে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। এই ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশপ্রেমী এবং পশুবিজ্ঞানীদের মধ্যে। মৃত পাখিদের মধ্যে আছে প্লোভার, কমন কুট, ব্ল্যাক উইঙ্গড স্টিল্ট, নর্দার্ন শোভেলার্স, রাডি শেলডাক, পায়েড অ্যাভোকেটের মতো পরিযায়ী পাখিদের প্রজাতি।
সহকারী বন সংরক্ষক সঞ্জয় কৌশিক জানালেন, এদিন সকালে ২০–২৫টা প্রজাতির পরিযায়ী পাখির মৃতদেহ হ্রদের পাড় এবং লাগোয়া অঞ্চলে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তাঁরাই বন দপ্তরে খবর দিলে বনকর্মীরা গিয়ে পাখিগুলির দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে সঞ্জয়ের অনুমান, চোরাশিকার নয়, জলে বিষক্রিয়া বা ব্যাক্টেরিয়ার প্রভাবেই এভাবে হ্রদের পাশে মিলেছে পাখিগুলির দেহ। তবে পাখিগুলির দেহের ময়নাতদন্তের পরই প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফরেস্ট রেঞ্জার রাজেন্দ্র জাখরের অবশ্য মত, দিন কয়েক আগে হওয়া শিলাবৃষ্টির জেরেও মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে পাখিগুলির। স্থানীয় বাসিন্দা তথা পাখিপ্রেমী অভিনব বৈষ্ণব এবং তাঁদের বন্ধুদের  অভিযোগ, শুধু এই পাখিগুলিই নয়, বেশ কিছুদিন ধরেই সম্ভর হ্রদ এবং লাগোয়া অঞ্চলগুলিতে মারা যাচ্ছে পরিযায়ী পাখির দল। কমপক্ষে ৫০০০টা পাখি ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছে। 
ইতিমধ্যেই জয়পুর থেকে স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা গিয়ে ওই হ্রদের জলের নমুনা নিয়ে ভোপালে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্ত দলের পশু চিকিৎসক অশোক রাও বার্ড ফ্লু–র আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ফ্লু হলে পাখিদের দেহ থেকে বর্জ্য নির্গত হয়। কিন্তু সম্ভর হ্রদ বা তার আশপাশে কোথাও এধরনের কিছু মেলেনি। রাজস্থানের পশুপালন দপ্তরের নোডাল অফিসার আরজি উজ্জ্বলও সহকারী বন সংরক্ষক সঞ্জয় কৌশিকের সুরে সুর মিলিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করে বলেছেন, জলে বিষক্রিয়া হয়ে থাকতে পারে পা লবনাক্ত জলের এই হ্রদে নুনের পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে। যার ফলে এই জল পান করে পাখিদের শরীরে নুনের পরিমাণ বেড়ে গিয়েই মৃত্যু হয়েছে তাদের। যদিও পুরোটাই এখনও তদন্ত সাপেক্ষ বলে জানিয়েছেন উজ্জ্বল।
প্রতি বছরি সম্ভর হ্রদে শীতের সময় প্রায় তিন লক্ষ পরিযায়ী পাখি ভিড় করে। তার মধ্যে প্রায় ৫০০০০ ফ্লেমিঙ্গো এবং এক লক্ষ ওয়েডার প্রতিবারই আসে। এছাড়া স্টিল্ট, গারগ্যানে, স্টিন্ট, গাল সহ রকমারি প্রজাতির পাখিরা এই হ্রদে আসে। অথচ স্থানীয় বাসিন্দা থেকে বনকর্মীদেরও এই হ্রদ এবং সংলগ্ন অঞ্চলের সংরক্ষণ এবং সৌন্দর্যায়নে কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ করেছেন পরিবেশপ্রেমী এবং পক্ষী বিশারদরা।
ছবি:‌ এএনআই  ‌

জনপ্রিয়

Back To Top