আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ প্রতিবারের মতো এবার আর পুরীর ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দিরে ছিল না লাখো ভক্তদের সমাগম। ছিল না উৎসবের আবহও। কোভিড–১৯–এর প্রকোপ আর তার জেরে চলা লকডাউনের কারণে পুরোহিত আর পান্ডারাই ১০৮ ঘড়া সুগন্ধি জলে স্নানযাত্রা সম্পন্ন করলেন জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা আর সুদর্শন চক্রের। প্রতিবছর জৈষ্ঠমাসের পূর্ণিমায় হয় তিন দেবদেবীর স্নানযাত্রা। তার ১৪ দিন পর আষাঢ়ে হয় রথযাত্রা। এবার তিন ভাইবোনের রথ তৈরি হয়ে গেলেও রথের সময় পুরীর বাইরের কোনও মানুষ যেন ঢুকতে পারে, সেই বন্দোবস্ত করতে পুলিশকে আবেদন করেছে জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ। কারণ, প্রতিবারই রথযাত্রায় ঈশ্বরের মানবলীলা দেখতে দেশবিদেশের কয়েক লক্ষ ভক্ত এবং পর্যটকদের সমাগম হয় পুরীতে। তবে মাহেশের মতো রথযাত্রা বাতিলের কথা এখনও ঘোষণা করেনি পুরী মন্দির কর্তৃপক্ষ।
এদিন রীতি মেনে পুরীর মহারাজ গজপতি দিব্যসিংহ দেব স্নান মন্ডপ ঝাঁটিয়ে পরিষ্কার করেন। তারপর ৩৫ ঘড়া জলে জগন্নাথ, ৩৩ ঘড়া জলে বলভদ্র, ২২ ঘড়া জলে সুভদ্রা এবং ১৮ ঘড়া জলে সুদর্শন চক্রের স্নান সম্পন্ন করেন পুরোহিতরা। তারপর বিগ্রহদের ‘‌হাতি বেশ’‌ বা হাতির মতো পোশাক পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় অনসরা ঘরে। হিন্দু ধর্মের প্রথমপূজ্য গণেশের প্রতি সম্মানজ্ঞাপনেই এই হাতির মতো পোশাক পরানোর রীতি। পুরীর রীতি অনুযায়ী,  স্নানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন দেবতারা। তাই ওই ঘরে তাঁদের বিশ্রামে রাখা হয় পরবর্তী ১৪ দিন, রথযাত্রা পর্যন্ত। রথের দিন ফের রাজবেশ পরিয়ে রথে তোলা হয়। কিন্তু এবার কোভিড–১৯ মহামারীর জন্য রথের সময় অতিরিক্ত ভক্ত সমাগম না করার দিকেই নজর দিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। 
ছবি:‌ ওটিভি

জনপ্রিয়

Back To Top