আজকাল ওয়েবডেস্ক: আয়লান কুর্দিকে মনে আছে। সেই তিন বছরের ছোট্ট সিরীয় শিশু। সমুদ্র তীরে উল্টে পড়ে থাকা যার নিথর দেহের ছবি দেখে কেঁপে উঠেছিল সারা বিশ্ব। তখনই, আল কায়দার হাত থেকে বাঁচতে ইরাক, সিরিয়ার লক্ষ লক্ষ বিপন্ন শরণার্থীদের ইওরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রকৃত রূপটা বোধগম্য হয়েছিল বিশ্ববাসীর।
সেরকম না হলেও শিউরে ওঠার মতোই ছবি দেখা গেল ছত্তিশগড়ে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক হাতে দড়ি ধরে ট্রাকের ছাদে চড়ার চেষ্টা করছেন এক যুবক। তাঁর আরেক হাতে ঝুলছে ছোট্ট এক শিশু। যিনি সম্ভবত শিশুটির বাবা। আর নিচে দাঁড়িয়ে হাত তুলে কোনওরকমে শিশুর পড়ে যাওয়া আটকানোর চেষ্টা করছেন এক মহিলা, যিনি সম্ভবত শিশুটির মা। ট্রাকের মাথায় আরও অনেকে বসে রয়েছেন এবং নিচে দাঁড়িয়ে অনেকজন। ছত্তিশগড়ের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার এই অসহায় চেষ্টা ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, তাঁদের করুণ দশা। ওই ট্রাকের শ্রমিকরা বললেন, তাঁরা সবাই ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে তেলঙ্গানায় থাকেন। লকডাউনের জন্য কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাতে অর্থও ফুরিয়ে গিয়েছে। তাই আর কোনও উপায় না দেখে ওই ট্রাকে চড়ে ফেরার চেষ্টা করেছেন। শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনগুলি সম্পর্কে তাঁদের কাছে কোনও তথ্যও আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা। ঘটনাস্থলে থাকা তেলঙ্গানা পরিবহন দপ্তরের এক অফিসার বললেন, প্রশাসন ওই সব শ্রমিকদের বিশেষ বাসের কোনও ব্যবস্থা করেনি এবং তাঁর পক্ষে সেটা একা করা অসম্ভব। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top