আজকালের প্রতিবেদন: সকালবেলায় শুভেচ্ছা জানিয়ে সেলফোনে ‘‌গুড মর্নিং মেসেজ’‌?‌ সাবধান, এর মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে বিপদ। মেসেজটি খুলে পড়লেই গোটা ফোনটির যাবতীয় তথ্য চলে যেতে পারে হ্যাকারদের হাতে। পুরো মোবাইল ফোনটিই ‘‌ক্লোন’‌ হয়ে যেতে পারে। গোপনীয়তার পর্দাটা একবারেই উঠে যেতে পারে। মেসেজ যত বেশি এক ফোন থেকে আরেক ফোনে ফরোয়ার্ড হবে, তত বেশি হ্যাকারদের লাভ। বিশেষ করে ভিডিও মেসেজ। অধিকাংশ সময় যার উৎস জানা যায় না। হ্যাকাররা তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেয়। যা ঘুরতে থাকে এক সেলফোন থেকে অন্য সেলফোনে। এদের হাত থেকে বঁাচার জন্য দেশের প্রয়োজন আরও বেশি এথিক্যাল হ্যাকার। যারা সুরক্ষা দেবে। আলোচনায় উঠে এল এই তথ্য। যার আয়োজক সল্টলেকের ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়রিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (‌আইইএম)‌। পোশাকি নাম ইন্টারন্যাশনাল এথিক্যাল হ্যাকিং কনফারেন্স। শুক্রবার দু’‌দিনের এই আলোচনা শুরু হল তাদের গুরুকুল ক্যাম্পাসে। যেখানে বিশ্বের ১৫টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ছাড়াও যোগ দিয়েছেন ইসরোর পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার জি শ্রীনিবাস রাও, ইন্ডিয়ান স্কুল অব এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সন্দীপ সেনগুপ্ত, কলকাতা পুলিসের সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞ রঞ্জন চক্রবর্তী ও অন্যরা। 
বর্তমান ডিজিটাল ওয়ার্লডে এথিক্যাল এবং আনএথিক্যাল হ্যাকিং শব্দ দুটি খুবই পরিচিত। দুয়ের মধ্যে তফাত বোঝাতে গিয়ে আইইএমের প্রফেসর অভিজিৎ বোস জানালেন, ‘‌যে হ্যাকাররা অসাধু হ্যাকারদের হাত থেকে সাইটগুলিকে রক্ষা করেন, তাঁরাই এথিক্যাল হ্যাকার।’‌ 
ভারতে প্রয়োজনের তুলনায় এই এথিক্যাল হ্যাকারদের সংখ্যা খুবই কম। এদিন সন্দীপ সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, দেশে প্রয়োজন পঁাচ লাখ। কিন্তু আছে ৫০ হাজার। কারণ, এই বিষয়টাই অনেকের কাছে পরিচিত নয়। অথচ অন্য জায়গায় যেখানে সুযোগ কম, সেখানে চাকরির জন্য অনেক বেশি আবেদন জমা পড়ছে। আগামী দিনে এই এথিক্যাল হ্যাকিংই হবে চাকরির অন্যতম বৃহৎ ক্ষেত্র। 
বর্তমান বিশ্বে যন্ত্র মানব বা রোবটের সাহায্যেও এথিক্যাল হ্যাকিং করা হচ্ছে। কিন্তু তার ক্ষমতা সীমিত। তার মধ্যে যে ‘‌প্রোগ্রাম’‌ করা আছে সেটির বাইরে কিছু হলেই রোবট আর সেটি করতে পারবে না। তার ফলে অবশ্যই প্রয়োজন হয়ে পড়ছে মানুষের। 
এমনকী স্যাটেলাইটগুলিও হ্যাকিং করার চেষ্টা করা হয়। এদিনের আলোচনায় উঠে এসেছে এই তথ্য। 
হ্যাকিং প্রতিরোধে পড়ুয়াদের ভিতর থেকেই যাতে একটি ‘‌সুরক্ষা দল’‌ তৈরি করা যায়, সে ব্যাপারে জোর দিয়েছেন জি শ্রীনিবাস রাও। আইইএমের ডিরেক্টর প্রফেসর ড.‌ সত্যজিৎ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘‌পূর্ব ভারতে এথিক্যাল হ্যাকিং এবং স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন এডুকেশনের উন্নতির জন্য ইসরো উদ্যোগী হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমরা নোডাল এজেন্সি হিসেবে কাজ করব।’‌ ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top