আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আয়ুর্বেদ চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারে ডিগ্রি নিয়েছিল। ডিগ্রি কাজে লাগিয়ে বেআইনিভাবে অন্তত ১২৫ জনের কিডনি পাচার করেছে। দিল্লি ও তার আশষপাশের রাজ্যে খুন করেছে প্রায় ১০০ জনকে। ৫০–এর পর আর সংখ্যাটা কোনওদিন গোনেনি। এ হেন চিকিৎসক দেবেন্দ্র শর্মাকে ধরল দিল্লি পুলিশ। 
ধরা আগেই পড়েছিল। জয়পুরের জেলে ছিল। জানুয়ারিতে প্যারোলে ছাড়া পায়। কিছুদিন নিজের গ্রামে থাকে। তার পরেই ফেরার হয়ে যায় সে। নতুন করে এক পূর্ব পরিচিত এক মহিলাকে বিয়ে করে। সেই মহিলার স্বামী মারা গেছেন। দেবেন্দ্র সম্পর্কে সবই জানতেন তিনি। দিল্লিতে এসে নতুন করে সম্পত্তি কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করে। দিল্লির অদূরে বাপরোলাতে লুকিয়ে বসেছিল ৬২ বছরের চিকিৎসক। শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ল। 
আদতে উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের বাসিন্দা দেবেন্দ্র। এর  আগে জাল গ্যাস এজেন্সি এবং কিডনি পাচার চক্র চালানোর জন্য দু’‌বার গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু তাকে বেশিদিন জেলে রাখা যায়নি। কোনও না কোনওভাবে পালিয়েছে। সোমবার রাতে কনট প্লেসে মার্শাল হাউস বেচার দালালি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে জেরা শুরু হয়েছে। শান্ত মাথায় নিজের সব দোষ স্বীকার করেছে দেবেন্দ্র। জানিয়েছে, তার এই কুকীর্তির জন্য ২০০৪ সালে স্ত্রী, সন্তানরাও ছেড়ে গেছে।
বিহারের সিওয়ান থেকে আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় স্নাতক পাশ করে। ১৯৮৪ সালে জয়পুরে ক্লিনিক খোলে। ১৯৯২ সালে গ্যাসের ডিলারশিপ নেওয়ার জন্য ১১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে। কিন্তু সে ব্যবসায় চোট খায়। চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়ে সে। টাকা উপার্জনের জন্য এর পরই অপরাধের রাস্তা বেছে নেয় দেবেন্দ্র। ১৯৯৪ সালে কিডনি পাচার শুরু করে। জয়পুর, বল্লভগড় এবং গুরুগ্রাম থেকে চলত কাজ।
১৯৯৪ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ১২৫ জনেরও বেশি মানুষের কিডনি পাচার করেছে দেবেন্দ্র। প্রতিটি কাজের জন্য ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা পেত। পাশাপাশি ১৯৯৫ সালে আলিগড়ের ছড়া গ্রামে ভুয়ো গ্যাস এজেন্সি খোলে সে। ২০০১-এ উত্তরপ্রদেশেরই আমরোহাতে আরও একটি ভুয়ো গ্যাস এজেন্সি খোলে। সেই অভিযোগে গ্রেফতারও হয়েছিল দেবেন্দ্র। ২০০৩ সালে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ফের জয়পুরে গিয়ে ক্লিনিক শুরু করে। 
এর পরই খুনের খেলায় মেতে ওঠে দেবেন্দ্র। জোটায় সঙ্গি। সঙ্গীদের নিয়ে ট্যাক্সি ভাড়া করে আলিগড়ে রওনা হত। পথে নির্জন জায়গায় চালকদের খুন করত। তাঁদের দেহ কাসগঞ্জের হাজরা খালে ফেলে দিত কুমিরকে খাওয়ানোর জন্য। তার পর সেই ট্যাক্সিগুলোকে কাসগঞ্জেরই কোনও গ্রাহকের কাছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করত। শুধু তাই নয়, এলপিজি গ্যাসবোঝাই লরির চালককে খুন করে সিলিন্ডার ছিনতাই করত। তার পর সেগুলো নিজের এজেন্সি থেকে বিক্রি করত। লরিগুলোকে নির্জন জায়গায় ফেলে আসত দেবেন্দ্ররা। জীবনে মোট ক’‌টা খুন করেছে, মনেই নেই দেবেন্দ্রর। 

জনপ্রিয়

Back To Top