আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ নোভেল করোনাভাইরাসে প্রকোপে থরহরি কম্পমান সারা বিশ্ব। ১৮৮টি দেশে মারা গিয়েছেন ১৩০৬৯জন মানুষ। মোট আক্রান্ত ৩০৮৪৬৩জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৯৫৮৩২জন। এত উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেও এই মারণ ভাইরাসের কিছু ভালো প্রভাবও খুঁজে পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যেমন করোনাভাইরাসের জন্য প্রায় বিশ্ব জোড়া লকডাউন চলছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যানবাহন চলাচল, কলকারখানা কোথাও পুরোপুরি বন্ধ। তো কোথাও নগন্য। রাস্তায় মানুষজের চলাফেরাও হাতেগোনা। আর তার ফলে বায়ুদূষণ, জলদূষণ বা শব্দদূষণের মাত্রা কমে গিয়েছে বিশাল হারে। বলছেন পরিবেশবিদরা। প্রমাণ হিসেবে তাঁরা নাসার গত ফেব্রুয়ারির উপগ্রহ চিত্র হাতে পেয়েছেন তাঁরা যেখানে দেখা যাচ্ছে ইতালি, স্পেন সহ ইওরোপের বিভিন্ন দেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা ভারত, পাকিস্তান সহ দক্ষিণ এশিয়ার উপর থেকে নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড বা এনও২–র আস্তরণ বিশাল হারে কমে গিয়েছে।

যানবাহন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং কলকারখানার ধোঁয়া থেকেই প্রধানত তৈরি হয় এনও২। ইইউ–র এক বিশেষজ্ঞ বললেন, এই দূষণকণা মাত্র একদিনব্যাপী আয়ুর হলেও শ্বাসযন্ত্রে প্রদাহ তৈরি করে যা ভয়ানক ক্ষতিকারক। শুধু এনও২–ই নয়, কার্বন ডাই অক্সাইড বা সিও২, কার্বন মোনোঅক্সাইড বা সিও, ধূলিকণাও মাত্রাতিরিক্ত ভাবে কমেছে। তবে পরিবেশবিদদের মতে যেহেতু সিও সিও২–র প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী, সেহেতু আরও কয়েকদিন না গেলে এর প্রভাব কতটা কমেছে সেটা বলা সম্ভব নয়। 
শুধু বায়ুদূষণই নয়, এই লকডাউনের ফলে জলদূষণ বা শব্দদূষণও ভীষণভাবে কমেছে। ইতালির ভেনিস বিখ্যাত তার খাঁড়ি এবং সেখানে ভেসে বেড়ানো গন্ডোলাবিহারের জন্য। লকডাউনের ফলে বন্ধ গন্ডোলাবিহার। ফলে খাঁড়ির জল এখন স্ফটিকস্বচ্ছ। ঝাঁকেঝাঁকে মাছ খেলে বেড়াচ্ছে তার ভিতর অন্যসময় যা দেখা যায় না। একই দৃশ্য মুম্বই, চেন্নাই, গোয়া, পুরীর সৈকতেও।

ঝকঝকে সৈকতের বালুকণা থেকে যেন সোনা ঝিলিক দিচ্ছে।
এত গেল পরিবেশ দূষণের কথা। আরেকটা জিনিস যেটা বিশেষজ্ঞরা স্বস্তি পেয়েছেন তাহল, করোনাভাইরাসে ত্রস্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাবড় শক্তিশালী দেশের রাষ্ট্রনায়ক থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদীরাও। আইএস আগেই তার সদস্যদের বলে দিয়েছে করোনাআক্রান্ত দেশে না যেতে। ফলে জঙ্গি হামলার ভয় এখন আপাতত নেই। শক্তিশালী দেশগুলি নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে পরস্পরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনেও এখন বিরাম দিয়েছে। আর দিন কয়েক আগেও সিএএ–বিরোধীদের বিরুদ্ধে যে উষ্মা উগড়ে দিতে শুরু করেছিল কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি, তারাও এখন ছোট্ট একটা ভাইরাসের ভয়ে গৃহবন্দি। উল্টে সবাই একজোট হয়ে কোভিড–১৯ রোখার চেষ্টা করছে।
তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াচ্ছে, যে ভাইরাসকে কব্জা করতে লড়ছে সারা বিশ্ব, তার বেশ কিছু ভালো গুণও আছে। সেরকমটাই মনে হচ্ছে নাকি?‌    

জনপ্রিয়

Back To Top