আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌কী কাণ্ড! এমন বিড়ম্বনাতেও যে পড়তে হবে সেটা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেননি পুলিস কর্তারা। কন্ট্রোল রুমে ফোন করে তখন রীতিমতো কান্নাকাটি জুড়েছেন এক যুবক। পুলিসের গাড়ি তাঁর চাইই চাই। তা না হলে নাকি বাড়ি যাওয়াই হবে না তাঁর।
আচমকা বিপদে পড়া নাগরিকদের দরজায় চটজলজি পৌঁছে যাওয়ার জন্যই এই জরুরি বা বিপদকালীন নম্বর ‘১০০।’ তবে এই নম্বরে ফোন করে মানুষ যে শুধু সাহায্য চায় তাই নয়, আগেও নানা রকম বুজরুকি সহ্য করতে হয়েছে পুলিশ কর্মীদের। কখনও আবার ভুয়ো ফোনে হুমকিও উড়ে এসেছে অন্য প্রান্ত থেকে। সে সব না হয় বরদাস্ত করা যায়, কিন্তু তাই বলে পুলিসের গাড়িতে বাড়ি যাবো বলে বাচ্চাদের মতো কান্না জুড়বেন এক যুবক! তাও আবার সাত সকালে ব্যস্ত সময়, কিছুক্ষণের জন্য হলেও হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল পুলিস কন্ট্রোল রুমে।


‘আমি বাড়ি যাবো, সাহায্য চাই’। ১০০ ডায়াল করে যুবকের প্রথম কথা ছিল ঠিক এমনই। খানিক অবাক, খানিক হতভম্ব হয়ে পুলিস কর্মী যখন বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করছেন, তখনই ফের সরব যুবক, বললেন ‘আমার কাছে পয়সা নেই। বাস ভাড়া দিতে পারবো না। পুলিসের গাড়িতে চাপিয়ে আমাকে গুন্নুরে পৌঁছে দেবেন?’ উত্তরপ্রদেশের সম্বল জেলার গ্রাম গুন্নুর। সেখানেই যেতে চাইছেন যুবক।  ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে তিনি ১০০ ডায়াল করেছিলেন সেটা জানা যায়নি, তবে এমন আবদার শুনে প্রথমে চমকে গেলেও, পুলিস কর্মী বেশ নরম হয়েই যুবককে বোঝাবার চেষ্টা করেন যে কন্ট্রোল রুমের এই নম্বর বিশেষ জরুরি অবস্থার জন্য। এটা কোনও বাস পরিষেবা নয়, যে কাউকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে।

 
তাতেও অবশ্য দমেননি যুবক। ফের তাঁর সাফ জবাব, ‘সাহায্যই তো চেয়েছি। এই পরিষেবা তো সরকারই দিয়েছে। তাহলে কেন নয়? আমি পুলিসের গাড়ি চেপেই বাড়ি যাবো। ’পুলিস ও যুবকের এই কথোপকথনের দু’টি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতেই হাসির ফোয়ারা ছুটেছে নেট দুনিয়ায়। অনেকেই পরবর্তী ভিডিও দেখার আর্জি জানিয়েছেন। কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, ‘তারপর কী হলো?’ ভিডিওতে অবশ্য পুলিসের গাড়িতেই দেখা গেছে যুবককে। বহাল তবিয়তে আরাম করে সিটে বসে হাসি মুখে বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। যুবকের কাতর আবেদন শুনে তাঁকে শেষমেশ বাড়ি পৌঁছে দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নেয় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

জনপ্রিয়

Back To Top