আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ছোট থেকে সংসার সামলাতে দেখেছেন মা’‌কে। একদিনও ছুটি না নিয়ে স্বামী–সন্তানদের কথা চিন্তা করেছেন। বাইরে কোথাও ঘুরতেও যাননি। আর তাই মা’‌কে দেশ দেখানোর কথা ভাবেন কর্নাটকের মাইসোরের বাসিন্দা ডি কৃষ্ণ কুমার। আর তাই শেষপর্যন্ত চাকরি ছেড়ে ২০ বছর আগে বাবার উপহার দেওয়া স্কুটারে চড়িয়েই মা’‌কে নিয়ে ভারত ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েছেন ৩৯ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি। আর এই খবর সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল ডি কৃষ্ণ। মায়ের প্রতি ছেলের এই ভালবাসার প্রশংসায় নেটিজেনরাও। 
জানা গিয়েছে, কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকতেন ডি কৃষ্ণ। বছর খানেক আগে তাঁর বাবা মারা গিয়েছেন। তারপর থেকে মাইসোরে একাই থাকেন তাঁর মা। সম্প্রতি মা তাঁর ছেলের কাছে হাম্পি দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। মায়ের এই ইচ্ছার কথার শুনে, মনে মনে কষ্টও পেয়েছিলেন কৃষ্ণ। ভেবেছিলেন, বাড়ির কাছের এত বিখ্যাত জায়গাটিও দেখা হয়নি ৭০ বছর বয়সি মায়ের! এরপরই নিজের কাজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঠিক করেন ভারতের বিভিন্ন জায়গা ঘুরিয়ে দেখাবেন মা’‌কে। গত সাত মাসে বাবার দেওয়া সেই স্কুটারে মাকে বসিয়ে তিনি পাড়ি দিয়েছেন প্রায় ৪৮ হাজার ১০০ কিলোমিটার পথ। নেপাল, ভুটান–সহ মাকে ঘুরিয়েছেন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। মাকে নিয়ে দেশ ভ্রমণকে কৃষ্ণ নাম দিয়েছেন মাতৃ সেবা সংকল্প যাত্রা। কেরল, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, ছত্তিশগড়, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, সিকিম, অসম, মেঘালয় এই সব জায়গায় তিনি মাকে ঘুরিয়েছেন। আর বাবার দেওয়া এই স্কুটারে যেতে যেতে তাঁর মনে হয়, বাবাও যেন তাঁদের সঙ্গেই আছেন। মা চূড়ারত্নাকে নিয়ে কৃষ্ণের এই ভ্রমণের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল। ব্যবসায়ী আনন্দ মহিন্দ্রা থেকে নান্দি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনোজ কুমার– সবাই কৃষ্ণের মাতৃভক্তি দেখে আবেগে বিহ্বল হয়েছেন। আর প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন কৃষ্ণকে। মাকে নিয়ে কৃষ্ণ যাতে আরও জায়গায় ঘুরতে পারেন সে জন্য তাঁকে মহিন্দ্রা ‘কেইউভি ১০০ এনএক্সটি’ গাড়িটি উপহার দেওয়ারও ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন আনন্দ। ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top