‌‌‌‌সংবাদ সংস্থা-হোয়াট্‌সঅ্যাপে ভুয়ো খবরের জেরে গণপিটুনির মতো গুরুতর অপরাধ রুখতে সংস্থার কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। তারই প্রেক্ষিতে আজ হোয়াট্‌সঅ্যাপ জানিয়েছে, তারা এমন কোনও সফ্‌টঅয়্যার তৈরি করতে পারবে না, যাতে ভুয়ো খবরের উৎপত্তি কোন্‌ অ্যাকাউন্ট থেকে হয়েছে, তা বলে দেওয়া যায়। কারণ তাতে ‘‌অভিযুক্তের’‌ ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের প্রশ্ন এসে যায়।‌
চলতি সপ্তাহেই হোয়াট্‌সঅ্যাপ সিইও ক্রিস ড্যানিয়েলসের সঙ্গে প্রসাদের বৈঠক হয়েছে। ভুয়ো খবরের উৎপত্তি কোথায়, তা সংস্থার কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলেছিলেন প্রসাদ। 
হোয়াট্‌সঅ্যাপ–‌‌এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘‌এন্ড–‌টু–‌এন্ড এনক্রিপশন, অর্থাৎ কার সঙ্গে কার কী কথা হয়েছে, তা গোপন রাখা সংস্থার নীতি। গোপনীয়তা রক্ষা না–‌হলে, সেই নীতি লঙ্ঘিত হবে।’‌ মুখপাত্রটি জানিয়েছেন, ‘‌সব ধরনের স্পর্শকাতর কথোকথনের জন্য হোয়াট্‌সঅ্যাপে ভরসা রাখেন ব্যবহারকারীরা। তাতে যেমন পরিবারের মানুষজন আছেন, তেমনই রয়েছেন চিকিৎসক, আইনজীবী, ব্যাঙ্ক–‌কর্মীরাও। ভারতে যাতে আমাদের মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য না ছড়ায়, সে–‌বিষয়ে মানুষকে সজাগ করতে, ওয়াকিবহাল করতে উদ্যোগী হবে হোয়াট্‌সঅ্যাপ।’‌ 
গত কয়েক মাস ধরে তাদের প্ল্যাটফর্মে অনবরত ভুয়ো খবর ছড়ানোয় সমালোচনার মুখে পড়েছে হোয়াট্‌সঅ্যাপ। তাদের সিইও–‌র সঙ্গে বৈঠক শেষে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেছিলেন, ভুয়ো খবর যারা ছড়াচ্ছে, তাদের খুঁজতে প্রযুক্তিগত সমাধান চাই। এই সংক্রান্ত সমস্যা জানাতে একজন আধিকারিক নিয়োগের প্রয়োজন। ভারতের ডিজিটাল আন্দোলনে হোয়াট্‌সঅ্যাপের বড় ভূমিকা আছে, এ কথা স্বীকার করেও মন্ত্রী বলেন, ভুয়ো খবর না রুখতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে প্ররোচনার মামলাও হতে পারে। 
আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে ফেসবুক, টুইটার, হোয়াট্‌সঅ্যাপ মারফত ভুয়ো খবর ছড়াতে পারে। আশঙ্কায় সরকার। তাই বিশেষ সতর্কও। ইতিমধ্যে ভুয়ো খবর রুখতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানতে ওই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে দুটি নোটিস পাঠিয়েছে সরকার। জবাবে তারা জানিয়েছে, তারা ভারতে একটি সদস্য–‌দল তৈরি করেছে। এবং কিছু নতুন ‘‌ফিচার’‌ আনছে যাতে ফরওয়ার্ডেড মেসেজের উৎস পাওয়া যায়। একই সময়ে একই মেসেজ ফরওয়ার্ড করার সীমাও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ভুয়ো খবর কী করে ধরা যায়, তার জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচিও করছে। প্রসঙ্গত, ভারতে হোয়াট্‌সঅ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০ কোটি, যা বিশ্বে সর্বাধিক।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top