আজকালের প্রতিবেদন: নেমে যাচ্ছে জলস্তর। সমীক্ষা বলছে আগামীদিনে তীব্র হতে চলেছে জল সঙ্কট। জলশূন্য হতে পারে দেশের বেশ কয়েকটি বড় শহর। অথচ প্রয়োজনীয় বৃষ্টির দেখা নেই। পান করার জন্য জল লাগে ১–২ শতাংশ। ৭০ শতাংশের কাছাকাছি জল লাগে কৃষিকাজের জন্য। জলের এই সঙ্কট মেটাতে সরকারি স্তরে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। উদ্যোগ নিয়েছে সিএসআইআর–সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (‌সিএমইআরআই)‌, দুর্গাপুর। তাদের তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহার করে নোংরা জলও ফের ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে। হয়ে উঠবে পানীয় যোগ্য। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে একথা জানালেন সংস্থার ডিরেক্টর অধ্যাপক হরিশ হিরানি। তিনি বলেন, ‘‌৯০ শতাংশ জলই অন্য কাজে লাগে। এই জলটা যদি পরিস্রুত করে ব্যবহার করা যায় তবে জলের অভাব মিটবে।’‌ সেইসঙ্গে তঁাদের তৈরি প্রযুক্তির সাহায্যে অতিরিক্ত ‘‌আয়রন’, ‘‌ফ্লোরাইড’‌–সহ‌ এবং অন্যান্য জিনিসও জল থেকে মুক্ত করা যাবে। পাশাপাশি শরীরে 
ফ্লোরাইডের উপস্থিতি আছে কি না তা জানার জন্য একটি ‘‌কিট’‌ও তৈরি করেছেন তাঁরা।
বিষয়টি নিয়ে সংস্থার সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ‌ড.‌ প্রিয়ব্রত ব্যানার্জি বলেন, ‘দেশে প্রতিদিন ৬৭ হাজার মিলিয়ন লিটার জল নষ্ট হচ্ছে। ‌আমাদের এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক ঘণ্টায় ১ হাজার লিটার এই অব্যবহার্য জলকে ব্যবহার্য করে তোলা যাবে। যা চাষ এবং অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা যাবে। এর খরচ পড়বে ৩ লক্ষ টাকা। এই একই পরিমাণ জলকে পানীয় জলেও পরিবর্তন করা যাবে। খরচ ৫ লক্ষ টাকা।’‌ সংস্থার পক্ষে জানানো হয়েছে যদি কোনও পুরসভা থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তবে তারা ‘‌পাইলট প্রজেক্ট’‌ সেখানে করে দিতে পারবে। এদিন হরিয়ানার একটি সংস্থার হাতে আর্সেনিক এবং আয়রনমুক্ত করার এবং হাওড়ার একটি সংস্থার হাতে আর্সেনিক মুক্ত করার প্রযুক্তি তুলে 
দিল তারা। তাদের মধ্যে পঁাচ বছরের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহারের চুক্তি হয়েছে। ছিলেন সিনিয়র প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট অ্যান্ড হেড অফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ ড.‌ অঞ্জলি চ্যাটার্জি প্রমুখ। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top