আজকালের প্রতিবেদন: কেউ ইঞ্জিনিয়ার, আবার কেউ বা সাধারণ চাকুরে, কারুর শখ কৃষিকাজের, কারুর আবার অভিনয়ের। কারুর আবার রান্নার শখ। সকলের মধ্যে একটা জায়গাতে খুব মিল। এঁরা ‘‌উদ্যোগী’‌ বাঙালি। প্রত্যেকেই আজ পরিচিত হয়ে উঠেছেন ইউটিউবের মাধ্যমে। সকলেই সফল। বৃহস্পতিবার শহরে একটি অনুষ্ঠানে ‘‌বঙ্‌ গাই, ওয়ান্ডার মুন্না, নীলকান্ত হালদার দ্য ইন্ডিয়ান গার্ডেনার এবং ভিল ফুড’‌ নামে তাদের চার বাংলা চ্যানেলের প্রতিষ্ঠাতাকে সম্মানিত করল ইউটিউব। ছিলেন এরকম ১১৭টি বাংলা চ্যানেলের প্রতিনিধিরা। 
নতুন ধারণাকে হাতিয়ার করে রাজ্য থেকে ইউটিউবের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে ২০১৬ থেকে। ভারতে ইউটিউবের ডিরেক্টর, কনটেন্ট পার্টনারশিপ, সত্য রাঘবন জানিয়েছেন একথা। তঁার কথায়, দেশের অন্য জায়গায় এভাবে ২০১৪–‌তে এগিয়ে আসা শুরু হলেও এই রাজ্যতে শুরু হয়েছে ২০১৬–‌তে। এই চ্যানেলের সংখ্যা বাড়ছে। এখন এই রাজ্যের ৪০০ চ্যানেল আছে যার গ্রাহকের সংখ্যা ১ লক্ষেরও বেশি। 
কীভাবে শুরু হল?‌ ওয়ান্ডার মুন্নার মালিক ইন্দ্রাণী বিশ্বাস জানিয়েছেন, চাকরির খোঁজে ছিলেন। অথচ কিছু হচ্ছিল না। অভিনয় করতে ভালবাসতেন। এটাকে হাতিয়ার করে ইউটিউবের মাধ্যমে এগিয়ে গেলে কেমন হয়?‌ ২০১৭–‌তে শুরু করলেন। এখন শুধুই এগিয়ে যাওয়া। 
গ্রামের ছেলে কাজল সরকার। শহুরে রান্না পছন্দ করলেও বেশি পছন্দ করতেন ঘরে মা, ঠাকুরমার হাতের রান্নাকে। কীভাবে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় এই রান্না?‌ ২০১৭–‌তে তৈরি করে ফেললেন ভিল ফুড নামে চ্যানেল। ভোজন রসিকরা পছন্দ করে ফেলেছেন তঁার চ্যানেলকে।
আবার নিছক বাগানের শখকেই ছেলে মেয়েদের অনুরোধে ইউটিউবের মাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন নীলকান্ত হালদার। এরপরেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তঁার চ্যানেল। এখন কৃষিকাজের জন্য তিনি অনেকেরই ভরসা। 
ফটো তোলার নেশাটা অনেকদিন ধরেই ছিল। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় সেরকমভাবেই বন্ধুদের সঙ্গে মিশে ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে তুলে দেন  কিরণ দত্ত। এরপরেই তৈরি করেন বঙ্‌ গাই। কেল্লা ফতে। আবার কেউ আছেন যিনি শ্বশুরবাড়িতে এসে রান্না করতে করতে তৈরি করে ফেললেন নতুন নতুন রেসিপি। শম্পা দেবনাথ শর্মার ‘‌শম্পা’‌জ কিচেন’‌ তৈরির রহস্য এটাই। 
সকলেই রেকর্ডিং শুরু করেছিলেন মোবাইল ফোনে। এখন প্রত্যেকেরই নিজস্ব রেকর্ডিংয়ের লোক আছে। ব্যবহার হচ্ছে দামি ক্যামেরা। বিজ্ঞাপন থেকে আসা আয়ের অঙ্কটাও যথেষ্টই ঈর্ষণীয়। ইউটিউবকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তঁারা। জীবনের এই ‘‌ইউ টার্ন’‌–এর জন্য।

পুরস্কৃত করা হল চার বাংলা চ্যানেলের প্রতিষ্ঠাতাকে। দঁাড়িয়ে (‌বঁা দিক থেকে)‌ বং গাই–‌এর কিরণ দত্ত, ওয়ান্ডার মুন্না–‌র ইন্দ্রাণী বিশ্বাস, নীলকান্ত হালদার দ্য ইন্ডিয়ান গার্ডেনার এবং ভিল ফুডের কাজল সরকারের সঙ্গে ভারতে ইউটিউবের ডিরেক্টর (‌কনটেন্ট পার্টনারশিপ)‌ সত্য রাঘবন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top