আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আগামী ২৭ তারিখ জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং মহাকাশপ্রেমী জন্য এক বিশেষ দিন। এই দিন একইসঙ্গে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ এবং ব্লাড মুন দেখা যাবে আকাশে। আর সব থেকে জরুরি বিষয় হল, ভারতে এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ সম্পূর্ণরূপে দেখা যাবে। দিল্লিতে সব থেকে ভালোভাবে দেখা গেলেও, দেশের অন্যান্য জায়গাও বাদ পড়বে না। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকা, পূর্ব আফ্রিকা, মধ্য প্রাচ্যের আরব দেশগুলি এবং মধ্য এশিয়া থেকেও দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ।   
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২৭ তারিখের পূর্ণগ্রাসই ২১ শতকের সব থেকে দীর্ঘ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে। রাত পৌনে ১২টা থেকে শুরু হবে আংশিক গ্রহণ। পূর্ণগ্রাস শুরুর সময় ২৮ তারিখ ভোররাত ১টা। ভোররাত ১.‌৫১ মিনিটে চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার সব থেকে কাছে থাকবে। যার অর্থ, ওই সময়ই পূ্র্ণগ্রহণ তার চরম পর্যায়ে থাকবে। ভোর পৌনে তিনটে নাগাদ পূর্ণগ্রাস ছেড়ে যাবে। এরপর আংশিক গ্রহণ শুরু হবে ভোর ৩.‌৪৯ মিনিট নাগাদ এবং চন্দ্রগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে ছাড়বে ভোর পাঁচটা নাগাদ। পুরো গ্রহণের সময়কাল মোট ৬ ঘণ্টা ১৪ মিনিট বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। 
শুধু পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের জন্যই মহাকাশপ্রেমীদের কাছে এতো গুরুত্বপূ্র্ণ নয় ২৭ তারিখের গ্রহণ। এই দিন একইসঙ্গে হবে ২১ শতকের সব থেকে দীর্ঘ এই ব্লাড মুনও। যা গত ১০০ বছরে দেখেনি পৃথিবী। মোট এক ঘণ্টা ৪৩ মিনিট দেখা যাবে ব্লাড মুন। জন হ্যাগি এবং মার্ক ব্লিৎজ্‌ ২০০৭ সালে প্রথম এই ব্লাড মুনের তত্ত্ব জনসমক্ষে আনেন। ইহুদিদের ছুটির দিন অনুযায়ী, যদি কোনও বছর পরপর চারটি চন্দ্রগ্রহণ, ৬টি পূর্ণিমা এবং এর মাঝে কোনও আংশিক চন্দ্রগ্রহণ না পড়ে, তাহলে সেই ঘটনাকেই বলা হয় ব্লাড মুন। যদিও জ্যোতির্বিজ্ঞানে ব্লাড মুনের কোনও অস্বিত্ব নেই, কিন্তু ক্রিশ্চান ধর্মভিরুদের কাছে এর গুরুত্ব অসীম। কারণ ‘‌বুক অফ জোয়েল’‌–এ উল্লেখ রয়েছে, যখন সূ্র্য কালো হয়ে যাবে আর চাঁদ লাল রঙের হবে, তখনই পৃথিবীর শেষদিন ঘনিয়ে আসবে। 
তবে বিজ্ঞানী আর ধর্মভীরুদের বাকবিতন্ডা পাশে সরিয়ে রেখে মহাকাশপ্রেমীরা সব থেকে দীর্ঘ চন্দ্রগ্রহণ যদি দেখতে চান, তাহলে আনন্দে চোখ রাখুন ২৭ জুলাই রাতের আকাশে।           ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top