আজকাল ওয়েবডেস্ক: মারণ রোগ‌ ক্যানসার সমাজে সবচেয়ে বিপজ্জনক। এখনও পর্যন্ত এমন কোনও ওষুধ আবিষ্কার হয়নি যা দিয়ে ক্যানসার সারানো যায়। এই রোগকে নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে, কিন্তু নিরাময় নয়। ক্যানসার কী কখনও সারিয়ে তোলা সম্ভব হবে? বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে কয়েকশো বিজ্ঞানী নানা সময়ে ক্যানসার নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং এখনও করছেন। 
কখনও জিন থেরাপি, আবার কখনও ইমিউনোথেরাপি এইভাবে আংশিক সাফল্য এসেছে। ক্যানসার রোগীর অর্থাৎ আয়ু বাড়ানো গিয়েছে, সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব হয়নি। এই রোগ কেমন আচরণ করবে, টিউমার সেল কত দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে তা কার্যত বলা অসম্ভব। কিন্তু সম্প্রতি আমেরিকায় একটি গবেষণাগারে চলছে ক্যানসার নিরাময়ের পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ। ১২ বছরের প্রচেষ্টায় কয়েকজন বিজ্ঞানী তৈরি করেছেন এক ধরণের টিকা। সেই টিকা এখন দেওয়া হচ্ছে কুকুরকে। এই পরীক্ষার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে ৮০০টি পোষা কুকুর। তাদের মালিকের অনুমতিতেই করা হচ্ছে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 
কিভাবে করা হয় এই পরীক্ষা?‌ জানা গিয়েছে, তাদের নানারকমের পরীক্ষা করে তাদের শরীরকে এই প্রতিষেধক নেওয়ার জন্য প্রথমে তৈরি করা হয়েছে। তারপর তাদের এক এক করে দেওয়া হবে ক্যানসারের এই ভ্যাকসিন।
এই বিষয়ে গবেষণার সঙ্গে এএসইউ বায়োডিজাইন ইনস্টিটিউটের স্টিফেন জনস্টন এবং ডুগ থ্যাম জানান, গত এক শতাব্দীতে শুধুমাত্র নানা রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারের মধ্যে দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ক্যানসারের কথা আলাদা। ক্যানসারের প্রতিষেধক বার করা সহজ নয়। অসুখটাই এমন গোলমেলে।
কিন্তু এত প্রাণী থাকতে কুকুরের দেহে কেন হচ্ছে পরীক্ষা? কারণ, কুকুর আর মানুষের পরিবেশ অনেকটাই এক। কুকুর মানুষের পোষ্য। খাবার, ওষুধপত্র একই ধরণের দুই ক্ষেত্রেই। এমনকী মানুষ ও কুকুরের দেহে ক্যানসারের ছড়িয়ে পড়ার ধরণও একইরকম। তাই কুকুরের উপর এই পরীক্ষা সফল হলে খুব সম্ভাবনা আছে যে মানুষের দেহেও এই প্রতিষেধক সফল হতে পারে। এমন আশার কথা শুনিয়েছেন দুই বিজ্ঞানী।

জনপ্রিয়

Back To Top