আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভৌতবিজ্ঞানে এবছরের নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষিত হল মঙ্গলবার। মেডিসিনের মতো এক্ষেত্রেও পুরস্কার বিজয়ী তিনজন। তাঁরা হলেন ব্রিটেনের রজার পেনরোস, জার্মানির রেনহার্ড গেঞ্জেল এবং আমেরিকার অ্যান্ড্রিয়া গেজ। ব্রহ্মাণ্ডের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান কৃষ্ণ গহ্বর নিয়ে গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার জিতেছেন এই তিন বিজ্ঞানী। একথা জানানো হয়েছে নোবেল কমিটির তরফে। 
‘জেনারেল ‌থিওরি অফ রিলেটিভিটি’‌ যা মূলত কৃষ্ণ গহ্বর সৃষ্টির মূলে, সেটাই দেখিয়েছেন ৮৯ বছরের পেনরোস। ৬৮ বছরের গেঞ্জেল এবং ৫৫ বছরের গেজ যৌথভাবে খোঁজ পেয়েছেন যে, একটা অদৃশ্য এবং অত্যধিক ভারী বস্তু আমাদের ব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্রে অবস্থিত হয়ে নক্ষত্রদের কক্ষপথের পরিচালনা করে।
১৯০১ সালে এই পুরস্কার বিতরণ শুরু হওয়ার পর ভৌতবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী মহিলাদের মধ্যে অ্যান্ড্রিয়া গেজ চতুর্থ। পুরস্কার জেতার কথা শুনেই আপ্লুত গেজ বলেন, ‘‌আশা করি এই বিভাগে নতুন প্রজন্মের মেয়েদেরও আমি উৎসাহিত করতে পারলাম।’
১৯৬৫ সাল থেকে কৃষ্ণ গহ্বরের সৃষ্টির কারণ নিয়ে অঙ্ক কষছেন পেনরোস। তাতে তিনি দেখতে পেয়েছেন, কৃষ্ণ গহ্বর আলাদা করে তৈরি হতে পারে যার মধ্যে দিয় আলোও যেতে পারে না। তাঁর পরীক্ষাতেই প্রমাণ মিলেছিল যে, যখন কোনও ভারী নক্ষত্র নিজের ভারের তলাতেই চাপা পড়ে যায় তখন অত্যধিক ঘন বস্তু কৃষ্ণ গহ্বর তৈরি হয়। যা আইনস্টাইনের ‘‌জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভি’‌–র প্রত্যক্ষ ফল। গেঞ্জেল এবং গেজ গত ১৯৯০ সাল থেকে মিল্কি ওয়ের কেন্দ্রে স্যাজিটেরিয়াস এ‌*  নামক অঞ্চল নিয়ে গবেষণা করছিলেন।  পৃথিবীর বৃহত্তম টেলিস্কোপে তাঁরা দেখেছিলেন সূর্যের ভরের থেকে ৪০ লক্ষ গুণ বেশি ওজনের একটা অত্যধিক ভারী, অদৃশ্য বস্তুকে, যেটা তার চারপাশের নক্ষত্রদের টানছে। যার ফলেই আমরা আমাদের ছায়াপথের একটা বর্তুলাকার ছবি দেখতে পাই। ‌  ‌

জনপ্রিয়

Back To Top