আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‌প্রস্তুতি শেষ। আগামী ৬ অগাস্ট ফ্লোরিডার কেপ ক্যানভেরাল থেকে রওনা দেবে নাসার মহাকাশযান পার্কার সোলার প্রোব। ভাবছেন নাসার এই মহাকাশযানের বিশেষত্ব কী। বিশেষত্ব হল মহাকাশবিজ্ঞানী ইউজিন নিউম্যান পার্কারের নামাঙ্কিত এই মহাকাশযান ঢুকে যাবে সূর্যবলয়ের ভিতরে।
শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। ছোট একটি গাড়ির আয়তনের এই রোবট মহাকাশযান সাত বছরের মধ্যে পৌঁছবে সূর্ববলয়ের কাছাকাছি। তারপর তা সূর্যবলয়ের এতোটাই ভিতরে ঢুকবে যে তখন পার্কারের দূরত্ব সূর্যপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৬.‌১ মিলিয়ন কিলোমিটার হবে। যা এর আগে সূর্যের গবেষণায় পাঠানো সব মহাকাশযানের থেকে সাত গুণ নিকটবর্তী। এর আগে ১৯৭৬ সালে হিলিওস–২ মহাকাশযান সূ্র্যপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ মিলিয়ন কিলোমিটার দূর পর্যন্ত গিয়েছিল।

 
এই সূর্যবলয়েই উৎপন্ন হয় সৌরঝড়, যা থেকে উদ্‌গত হয় শক্তিশালী কণা। যার ফলে প্রভাবিত হয় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। কীভাবে এবং কেন এই সৌরঝড় তৈরি হচ্ছে, শক্তিশালী কণাগুলিই বা কীভাবে কাজ করছে, সেসব জানতেই পাঠানো হচ্ছে পার্কার সোলার প্রোবকে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আশা, সূর্যের ভিতরের এই তথ্য জানা গেলে পৃথিবীর আবহাওয়া সম্পর্কে গবেষণাও আরও ভালোভাবে করা যাবে। ১.‌৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে তৈরি হয়েছে এই প্রকল্প। পার্কার প্রোবের যন্ত্রপাতিগুলি সূ্র্যবলয়ের প্লাজমা, শক্তিশালী কণা, বৈদ্যুতিক এবং চৌম্বক ক্ষেত্র, সৌরঝড় সামলানোর মতো করে তৈরি। মহাকাশযান যখন সূর্যবলয়ের কাছে পৌঁছবে, তখন ১৩৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার উত্তাপ সহ্য করেও ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপ সহ্য করার মতো একটি ঢাকনা দেওয়া আছে যন্ত্রপাতিগুলির উপর।          ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top