বিভাস ভট্টাচার্য: এক ক্লিকেই খুলে যায় অচেনা জগতের দরজাটা। যেখানে ভাল এবং মন্দ দুই–‌ই আছে। শিশুরা অনেক সময়েই না চিনতে পেরে অজান্তেই ঢুকে পড়ছে এই অচেনা জগতে। ইন্টারনেটের দৌলতে। পথটা যদি ভুল হয় তবে তার প্রভাব পড়ে তাদের ওপর। মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া, আবার কখনও অজান্তেই জড়িয়ে পড়া এমন কিছু ঘটনায় যা বিড়ম্বনায় ফেলে তাদের অভিভাবকদের। এগিয়ে এসেছে গুগল। পরামর্শ, শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারে ‘‌ক্রোম’‌–এর সহায়তা নিতে। যাতে আপত্তিজনক ওয়েব‌সাইট থেকে শিশুদের দূরে সরিয়ে রাখা যায়। 
কখনও ‘‌ব্লু হোয়েল’‌, আবার কখনও ‘‌মোমো চ্যালেঞ্জ’‌। ইন্টারনেটে এই খেলাগুলির প্রতি শিশুদের আসক্তি এবং তাকে কেন্দ্র করে একের পর এক ঘটনার কথা সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। এর খপ্পরে পড়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুরা বহু ক্ষেত্রে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটিয়েছে। অবস্থাটা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে প্রশাসন থেকে এই খেলাগুলি নিয়ে সচেতনতা অভিযান শুরু হয়। মনোবিদ ড.‌ অনুত্তমা ব্যানার্জি বলেন, ‘‌বর্তমান প্রজন্ম থেকে ইন্টারনেটের ব্যবহার দূরে সরিয়ে রাখা যাবে না। অভিভাবকদের উচিত যে সাইটগুলি নিয়ে তাদের শিশুরা নাড়াচড়া করছে, সেগুলি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা। শিশুদের বোঝানো। যদি ওই সাইটগুলি থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে তারা আরও বেশি কৌতূহল দেখাবে। সেইসঙ্গে বাবা বা মাকে শিশুদের সঙ্গে এমনভাবে মিশতে হবে যেন বাচ্চারা যেন তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে আমি বলতে পারি ব্লু হোয়েল বা মোমো চ্যালেঞ্জ খেলাতে এমন কী আছে যে তা তাদের পরিবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে?‌ যাতে না হয় সেটা দেখার দায়িত্ব কিন্তু তাদের অভিভাবকদেরই।’‌ 
শিশুরা কতটা সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করবে তা ঠিক করতে হবে অভিভাবকদেরই। প্রয়োজনে অভিভাবকরা গুগলের ‘‌ফ্যামিলি লিঙ্ক’‌–এর সাহায্য নিতে পারেন। এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রতিদিনের সময়সীমা নির্দিষ্ট করা এবং ব্যবহারের জন্য শিশুরা যে যন্ত্রটি ব্যবহার করছে তা তাদের জানতে না দিয়েই ‘‌লক’‌ করা যায়। প্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়গুলি থেকে শিশুদের দূরে সরিয়ে রাখার জন্যও এটি কাজে লাগে। আবার কী চ্যানেল দেখবে বা কী দেখবে না সেটা ঠিক করার জন্য প্রয়োজনে ‘‌ইউটিউব কিডস’‌–এর সাহায্যও নেওয়া যেতে পারে। 
গুগলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রোগ্রাম ‘‌বি ইন্টারনেট অসাম’‌। যার সাহায্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় কী কী বিষয় মাথায় রাখা উচিত বা আগামী দিনে কীভাবে এ বিষয়ে একজন দায়িত্বপূর্ণ নাগরিক হয়ে ওঠা যায় তা শিশুরা জানতে পারবে। সেইসঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় নিরাপত্তার দিকটি কীভাবে সুরক্ষিত রাখতে হয় এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ফলে শিশুরা আত্মবিশ্বাসীও হয়ে উঠতে পারবে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top