আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আবার সেই চন্দ্রাভিযান। আবার সেখানে পা রাখতে চলেছে মানুষ। অ্যাপোলো ১১–এর চন্দ্রাভিযানের ৫০ বছর উপলক্ষ্যে নাসা ঘোষণা করেছে ২০২৪ সালে চাঁদে প্রথম মহিলা এবং পরবর্তী পুরুষ নভশ্চর পাঠাতে চলেছে তারা। নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জিম ব্রাইডেনস্টাইন বললেন, ‘‌নাসার ওরিওন মহাকাশযান এবং স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেটকে চাঁদে নিয়ে যাবে আর্টেমিস ১ রকেট। ঠিক যেমন ১৯৬০ সালে মানবতার বিশাল পদক্ষেপের সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা। গ্রিক পুরাণে অ্যাপোলোর যমজ বোন তথা চন্দ্রদেবী আর্টেমিসের নামেই এই প্রোগ্রামের নাম রাখা হয়েছে।’‌ তবে কোন মহাকাশচারী চাঁদে যাবেন সেব্যাপারে এখনও কোনও নাম নির্ধারণ করেনি নাসা।
আর্টেমিসে যে নভশ্চররা চাঁদে নামবেন, তাঁরা চাঁদের অদেখা জায়গাগুলি ঘুরে দেখবেন। শুধু চাঁদই নয়, সেখান থেকে মহাকাশ নিয়েও গবেষণা চালাবেন তাঁরা। যন্ত্রের বদলে মানুষ নিজে গেলে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ সম্পর্কে আরও বেশি তথ্য জানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ব্রাইডেনস্টাইন আরও বলেছেন, তাঁরা চেষ্টা করছেন ২০২৮–এর মধ্যে চাঁদকে মানুষের বসবাসযোগ্য করে তুলতে। যাতে সেখানে থেকে মহাকাশ গবেষণা আরও ভালোভাবে করতে পারেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের পরিকল্পনা রয়েছে চাঁদকে স্টপ ওভার স্টেশন বা পা রাখার জায়গা করে সেখান থেকে আরও সহজে মঙ্গল অভিযান করা।
আর্টেমিস ১–এর জন্য খরচ হবে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯৬০ সালের ১৬ জুলাই রওনা দিয়ে ২০ জুলাই চাঁদে নেমেছিল নাসার মহাকাশযান অ্যাপোলো ১১। চাঁদের বুকে পা রেখেছিলেন প্রথমে নীল আর্মস্ট্রং এবং পরে এডউইন ওরফে বাজ অলড্রিন। অ্যাপোলো ১১–র মধ্যে ছিলেন মাইক কলিন্স। মহাকাশচারীরা পৃথিবীতে ফিরেছিলেন ২৪ জুলাই। তাঁদের রকেট নেমেছিল প্রশান্ত মহাসাগরে। তবে নাসার পুরো চন্দ্রাভিযান শেষ হয়েছিল ১৯৭২ সালে। তাতে খরচ হয়েছিল ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
যদিও এব্যাপারে বিতর্ক রয়েছে যে নাসা সেসময় কোনও মানুষ পাঠায়নি চাঁদে। তৎকালীন শীতযুদ্ধে রাশিয়াকে হারাতেই এই ছক কষেছিল আমেরিকা। চাঁদে আর্মস্ট্রং–এর পা রাখা ওই ছবি মেরু প্রদেশের কোনও তোলা। কারণ মাত্র আটদিনের মাথায় চাঁদে গিয়ে ফের পৃথিবীতে ফিরে আসা সেই সময় অসম্ভব বলেই মনে করেন একদল বিজ্ঞানী। তাছাড়া চাঁদে পোঁতা মার্কিন পতাকার সামনে দাঁড়ানো আর্মস্ট্রং–এর ছবিতে দেখা গিয়েছিল পতাকা উড়ছে। যদিও পরবর্তীকালে চাঁদ নিয়ে গবেষণা আবিষ্কার হয় চাঁদে বাতাস নেই। তাই পতাকা ওড়া সম্ভব নয়। তবে এসবে এখন মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। আমরা অপেক্ষা করি আরও পাঁচ বছর, যখন চাঁদে পা রাখবেন কোনও মহিলা।    
‌‌‌‌ছবি:‌ নাসা

জনপ্রিয়

Back To Top