আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আমরা কোন যুগে বাস করছি জানেন, মেঘালয় যুগে। ৪২০০ বছর আগে শুরু হয়ে যে যুগ আজও চলছে। যেহেতু মেঘালয়ের একটি গুহায় মেলা স্ট্যালাগমাইট দেখে এই যুগ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা সে জন্য এর নাম মেঘালয়ান যুগ রেখেছেন তাঁরা।  
পৃথিবীর অস্তিত্বের ৪.‌৬ বিলিয়ন বছরকে বিভিন্ন ভাগে করেছেন ভূবিজ্ঞানীরা। তার মধ্যে অন্যতম হলোসিন এপোক। গত ১১,৭০০ বছর ধরে পৃথিবীতে যেসব প্রাকৃতিক উত্থানপতন, আবহাওয়া পরিবর্তনের মতো ঘটনা ঘটেছে তা হলোসিন এপোকেই হয়েছে। আবার তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে।  হলোসিন এপোকের তিনটি ভাগ রয়েছে— মধ্য হলোসিন নর্তগ্রিপ্পিয়ান যুগ যা হয়েছিল ৮৩০০ বছর আগে। আদি হলোসিন গ্রিনল্যান্ডিয়ান যুগ যার সময়কাল ছিল ১১৭০০ বছর আগে। এবং শেষ ও অন্যতম মেঘালয়ান যুগ যা শুরু হয়েছিল ৪২০০ বছর আগে। 
মেঘালয় যুগ পৃথিবীর ভূবিজ্ঞানে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ, এই যুগ শুরু হয়েছিল ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা খরা দিয়ে। বলছেন, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ জিওলজিক্যাল সায়েন্স বা আইইউজিএস–এর সাধারণ সম্পাদক স্ট্যানলি ফিনি। তিনি বললেন, এই দীর্ঘকালব্যাপী খরা প্রভাবিত করেছিল মিশর, গ্রিস, সিরিয়া, মেসোপটেমিয়া, প্যালেস্তাইন, সিন্ধু এবং চিনের মতো তৎকালীন সব কৃষিনির্ভর সভ্যতাকে।

এই সময়ই খরা কবলিত মানুষরা প্রাণ বাঁচাতে আরও নদী উপত্যকার দিকে সরতে শুরু করে। চাষ ব্যবস্থা, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, খরার জন্য আবহাওয়ায় আসা পরিবর্তনের ফলেই মহাসাগরের গতি এবং বায়ুমণ্ডল পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। এই আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রমাণ মেঘালয় সহ পৃথিবীর সাতটি মহাদেশের পলিস্তরেই মিলেছে। অনুসন্ধানকারী বিজ্ঞানীদের দলটি মেঘালয় যুগের প্রস্তাব আইইউজিএস–কে পাঠালে তা সর্বসম্মতিতে পাস হয়েছে। তারপরই হলোসিন এপোকের শেষ যুগকে মেঘালয় যুগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, সাধারণত, সমুদ্রগর্ভ, জলাশয়ের তলা, হিমবাহের স্তর, স্ট্যালাকটাইট, স্ট্যালাগমাইটে মেলা পলিস্তর দেখেই হলোসিন এপোকের যুগ ভাগ করা হয়ে থাকে। যেমন গ্রিনল্যান্ডিয়ান বা নর্থ গ্রিপ্পিয়ান যুগ ভাগ হয়েছে গ্রিনল্যান্ডের হিমবাহে পাওয়া যাওয়া পলিস্তর দেখে।
কারণ যাই হোক, ভূবিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কারের সঙ্গেই পৃথিবীর জীবন ইতিহাসে নিজের নাম তুলে বিরল সম্মানের অধিকারী হয়ে গেল উত্তরপূর্ব ভারতের এক ছোট্ট পাহাড়ি রাজ্য মেঘালয়।                ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top