আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ অবশেষে কি মিলবে প্রাণের সন্ধান লাল গ্রহ মঙ্গলে। অন্তত নাসার সাম্প্রতিকতম রিপোর্টে তেমনটাই ইঙ্গিত মিলেছে। নাসার মঙ্গলে পাঠানো মহাকাশযান কিউরিওসিটি রোভার পৃথিবীর সময় বুধবা‌র যে পরীক্ষা করেছে, তাতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দেখেছেন লাল গ্রহের বাতাসে রয়েছে উচ্চমাত্রায় মিথেন গ্যাস। আর তাতেই অবাক হয়েছে তাঁরা। কারণ পৃথিবীতে এই গ্যাস নির্গত হয় জীবিত প্রাণীর দ্বারা। বৃহস্পতিবার কিউরিওসিটির পাঠানো তথ্য হাতে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এরপর শুক্রবার বিজ্ঞানীরা সেই তথ্য নিয়ে গবেষণা করে তাঁরা রীতিমতো উচ্ছসিত। যদিও এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও করেনি নাসা।
এনিয়ে এখনও টানা পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা বলে ই–মেলে লিখেছেন কিউরিওসিটির প্রকল্প বিজ্ঞানী অশ্বিন আর বাসবাড়া। কিউরিওসিটি ফের শুক্রবারও কিছু নতুন তথ্য পাঠিয়েছে। যাতে আরও উৎসাহী হয়ে উঠে নতুন করে গবেষণায় নেমেছেন বিজ্ঞানীরা। আগামী সোমবার সেই পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে পারে। 
বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্বল্প মাত্রাতেও যদি মঙ্গলের বাতাসে মিথেন থাকে তাহলে তার অর্থ সূর্যকিরণ এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সেই অনুকণাগুলি আগামী কয়েক শতকে ভেঙে যাবে। তার মানে এখন যে মিথেন মিলেছে তা খুব সম্প্রতি হয়েছে। পৃথিবীতে মাইক্রোবস্‌ বা মিথোজিন সেই জায়গায় থাকে যেখানে অক্সিজেনের অভাব আছে। যেমন ভূগর্ভস্থ পাথরের খাঁজে বা পশুপাখিদের পাকস্থলীতে। প্রাণীরা মিথেনকে শরীরের বর্জ্য হিসেবে ত্যাগ করে থাকে। তবে জিওথারমাল বিক্রিয়াতেও মিথেন তৈরি হয় এনেক সময় বলেও জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা এও মনে করছেন, হয়ত কিউরিওসিটির পরীক্ষায় পাওয়া মঙ্গলের মিথেন অনেক প্রাচীনকালের। যা কয়েক হাজার বছর ধরে কোনও পাথরের তলায় চাপা পড়েছিল। হঠাৎ ফাটলে তা বেরিয়ে পড়েছে।     তবে সব কিছুই এখন গবেষণা স্তরে রয়েছে। আরও পরীক্ষানিরীক্ষা না করলে কিছুই বোঝা যাবে না বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
ছবি:‌ বোয়িং বোয়িং    

জনপ্রিয়

Back To Top