সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: ‘‌চন্দ্রপৃষ্ঠের ১০০ কিমি ওপর থেকে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে ইসরোর অরবিটার। চাঁদের দক্ষিণাঞ্চলের মানচিত্র স্পষ্ট করতে ক্রমাগত ছবি তুলে যাচ্ছে কক্ষপথ অতিক্রমকারী নিঃসঙ্গ সেই যান। ওদিকে এই প্রথম চাঁদের দক্ষিণ মেরুর মাটি সন্তর্পণে ছুঁতে তৈরি ল্যান্ডার। ভূমিস্পর্শ সফল হলেই ল্যান্ডারের পেটের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে রোভার। গুটি গুটি পায়ে এগোবে চাঁদের মাটিতে। সব মিলিয়ে নজর রেখে বসে আছে গোটা বিশ্ব।’‌ 
শুক্রবার দুপুরে ভারতে বসেই একথাই বলছিলেন মহাকাশচারী জেরি লিনেনগার। ১৯৮৬ থেকে ২০০১,  কক্ষপথে থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেছিল রুশ মহাকাশ স্টেশন ‘‌মির’‌। মিরে ৫ মাস কাটিয়েছিলেন জেরি। তাঁকে ভারতে পাঠিয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেল। চন্দ্রপৃষ্ঠে ইসরোর ল্যান্ডার অবতরণ ও রোভারের চলে ফিরে বেড়ানোর লাইভ ধারাবিবরণী গোটা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তাঁরই। 
জেরি বলেন, ‘এপর্যন্ত চাঁদে ল্যান্ডারের সফল অবতরণ করাতে পেরেছে আমেরিকা, রাশিয়া ও চীন। তবে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ইসরোর ল্যান্ডার নামলে সেটা হবে রেকর্ড। ওখানেই রয়েছে চাঁদের মাটিতে হিমায়িত জলের ভাণ্ডার। ২০২৪ সালে ফের চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে আমেরিকা। নাসাও চাইবে জলের ভাণ্ডারের কাছাকাছি কোনও জায়গায় তাদের ল্যান্ডারকে নামাতে। সুতরাং ‌এই অভিযানে শুধু ভারতেরই সুবিধা হবে না, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যে অগ্রগতি হবে তা মহাকাশ অভিযানে শামিল বিশ্বের সব দেশকেই সাহায্য করবে। ’‌ 
এত কম খরচে ভারতের চন্দ্রাভিযান কর্মসূচিতে রীতিমতো বিস্মিত এই মহাকাশচারী। গোটা প্রকল্পে খরচ হচ্ছে ৯৭৮ কোটি টাকা, যা হলিউডের ছবি অ্যাভেঞ্জার্স:এন্ডগেম–এর বাজেটের চেয়ে কম। তাই লিনেনগারের মন্তব্য, ‘অভিযানের খরচ যত কম হবে, তত বেশিবার অভিযান করা যাবে। আর অভিযান থেকে যত বেশি আমরা শিখব, তত বেশি মানুষের জ্ঞানের জগৎ প্রসারিত হবে। তাই ইসরোর কাছে সকলের শেখা উচিত।’‌ তিনি জানিয়েছেন, ইসরোর চন্দ্রযানে একটা লেসার রশ্মি প্রতিফলক নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে নাসা। 

জনপ্রিয়

Back To Top