আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সারা পৃথিবীতে এখন জনসংখ্যা ১৭ শতাংশ। ভূমি রয়েছে ২.‌৫ শতাংশ এবং জল রয়েছে ৪ শতাংশ। উষ্ণায়নের কোপে ইতিমধ্যেই পড়েছে মেরু অঞ্চল সহ বিশ্বের বহু এলাকা। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই ধাক্কা লেগেছে ভারতেও। কীভাবে তা জানতে হলে চোখ বুলাতে হবে এই তথ্যগুলিতে।
সাধারণত জুনের মধ্যেই দক্ষিণপশ্চিম মৌসুমি বায়ু ঢুকে পড়ে সারা ভারতে। এবার বর্ষা এসেছে ৪৫ দিন পর, যা এখনও পর্যন্ত রেকর্ড দেরি। বর্ষাকাল দেশে থাকে সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর মধ্যে শুধু জুনেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৭ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়ে যায়। কিন্তু এবছর জুন পর্যন্ত বর্ষার বৃষ্টির ঘাটতি ৫০ শতাংশেরও বেশি। এখনও উত্তর প্রদেশ রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, পাঞ্জাব, বিহার এবং মহারাষ্ট্রের বেশ কিছু অঞ্চল সহ ভারতের বহু রাজ্যে পুরোপুরি ঢোকেনি বর্ষা। দেশের ৫০ শতাংশ কৃষিকর্মই বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। তাই বর্ষার ঘাটতি একদিকে যেমন উদ্বেগ বাড়িয়েছে কৃষকদের , আরেকদিকে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বিশেষজ্ঞদের কপালেও।
একটি পরিবেশ সংক্রান্ত পত্রিকার সমীক্ষা বলছে, পয়লা মার্চ থেকে শুরু করে গত ১০০ দিনে দেশের ২২টি রাজ্যে ৭০বার তাপপ্রবাহ চলেছে। শুধু বিহারেই তাপপ্রবাহে ২০০ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। তামিল নাড়ুতেও তাপপ্রবাহে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, পাঞ্জাব, রাজস্থান, দিল্লি এবং উত্তর প্রদেশে আগামী ৪৮ ঘণ্টা তাপমাত্রার পারদ থাকবে স্বাভাবিকের থেকে ৫.‌১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। দেশের অন্যান্য বহু রাজ্যেও পারদ স্বাভাবিকের থেকে ৩–৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকবে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী দিনগুলিতে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূ্র্ণ এলাকাগুলিতে আরও তাপপ্রবাহ চলবে।

এজন্য বাড়বে মৃত্যু। বৃষ্টি কম হওয়ার প্রভাব পড়তে পারে এই সিন্ধু এবং গঙ্গা অববাহিকায় অবস্থিত এই দেশগুলির অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়। আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। ২০১০–১৬–র মধ্যে যেখানে ১৭৮টা তাপপ্রবাহ হয়েছিল ২০১৭–য় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২৪–এ। তবে বিজ্ঞানীদের মনে আশা জাগিয়ে ২০১৮–য় সেই সংখ্যা নেমে দাঁড়ায় ৩৩১–য়।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গেই ভারতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জলসঙ্কট। এবছর ভূগর্ভস্থ জলের হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৫৪ শতাংশয়। কেন্দ্রীয় জল কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জুনে দেশের ৯০টি জলাধারে ২০ শতাংশেরও কম জল আছে। চেন্নাইয়ের জলাধারগুলি সম্পূর্ণ শুষ্ক। তার ফলও হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে চেন্নাই। সেখানকার তীব্র জলসঙ্কট ত্রাসের সৃষ্টি করেছে অন্য রাজ্যগুলির মনেও। 
পৃথিবীর অন্য দেশগুলিতেও তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বর্ষায় ঘাটতি চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশেষজ্ঞ এবং প্রশাসনের কাছে। মরুরাষ্ট্র সৌদি আরব এবং কুয়েতে এবছর এখনও পর্যন্ত তাপমাত্রার পারদ ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছে। ফ্রান্সে পারদ ছুঁয়েছে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সুমেরু অঞ্চলের আলাস্কার তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া রক্ষায় সরকারের নিষ্ক্রীয়তার প্রতিবাদে আমেরিকা, ইংল্যান্ড এবং ইওরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কয়েকশো ছাত্রছাত্রী। তথ্য বলছে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে ৭০ শতাংশের বেশি কার্বোন নির্গত করার জন্য দায়ী ১০টি রাষ্ট্র। বায়ুমন্ডলে ৫০ শতাংশ কার্বোন নির্গত করার জন্য দায়ী রাষ্ট্রগুলির মধ্যে ভারতের স্থান চতুর্থ। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আগামী ১২ বছরের মধ্যে ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসবে পৃথিবীতে। যা থেকে রক্ষা পাবে না ভারতও।                   

জনপ্রিয়

Back To Top