জলই জীবন। কিন্তু সেই জলের মধ্যেই যখন পাওয়া যায় আর্সেনিকের হাতছানি, তখন সেই জলই মানুষের জীবননাশের কারণ পর্যন্ত হতে পারে। ‌এই আর্সেনিকমুক্ত জল পেতে এক মহতী উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ বাঙালি সুবর্ণ দেবনাথ। যাঁর সংস্থার নাম নায়গ্রা ওয়াটার সলিউশন প্রাঃ লিঃ। বিনা বিদ্যুতে উন্নতমানের জল পরিশোধন যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আর্সেনিক ফ্লুরাইড বা জলে মিশ্রিত সকল প্রকার দূষিত পদার্থ পরিশোধন করে  কীভাবে শুদ্ধ পানীয় জল সকল মানুষ নিজের বাড়িতে করতে পারেন, তারই প্রচেষ্টা চালান সুবর্ণ দেবনাথ। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলস  প্রচেষ্টায় যে পরিশোধন যন্ত্র আবিষ্কার করেন, সেটি এখন বাজারে রমরমিয়ে চলছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ নায়গ্রা–‌র তৈরি  পরিশেধন যন্ত্র পরীক্ষা করে দেখে যে, বিনা বিদ্যুতে কাজ করা যন্ত্রটি জল ঠিকমতো পরিশোধন করতে সক্ষম। আর্সেনিকমুক্ত জল পান করে বহু মানুষকে রোগাক্রান্ত হতে দেখেছিলেন তিনি। এটাও বুঝেছিলেন, রাজ্যের সর্বত্র বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার সম্ভব নয়। তাই তিনি আবিষ্কার করলেন এমন যন্ত্র, যা বিদ্যুৎ ছাড়াই চলবে। পোর্টেবল অর্থাৎ এক জায়গা থেকে যন্ত্রটি অন্যত্র নিয়ে যাওয়া যাবে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে যখন আর্সেনিকের ভয়াবহতা গ্রাস করছে মানুষকে, ঠিক তখনই সচেতন বাঙালি হিসেবে সকলের মঙ্গল কামনায় সুবর্ণবাবুর এই নিঃস্বার্থ পদক্ষেপ সত্যিই অভাবনীয়। গোবরডাঙার কারখানায় তৈরি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই যন্ত্র যাতে সব ধরনের মানুষ ব্যবহার করতে পারেন, সেজন্য এর দামও কম রেখেছেন। বাংলার ঘরে ঘরে নায়গ্রা–‌র এই পরিশোধিত যন্ত্র যাতে পৌঁছে যায়, তার জন্য সুবর্ণবাবুর নিরলস প্রচেষ্টা তারিফ করার মতো। পরিশোধন যন্ত্র তৈরির ৬‌ বছর পর সরকারি ‘‌পেটেন্ট’‌ পায় এই সংস্থা। এই যন্ত্রের সফল আবিষ্কারক সুবর্ণ দেবনাথ সরকারি–‌বেসরকারি বহু পুরস্কারও পেয়েছেন। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top