সংবাদ সংস্থা, বেঙ্গালুরু: আকাশে মেঘ না থাকলে, এই কদিন চঁাদ যেন একটু বেশিই চকচকে মনে হয়েছে। ভারতের চন্দ্রযান প্রথম পা রাখবে চঁাদের মাটিতে। চঁাদ তার জন্যে যেন সেজেগুজে আলো জ্বালিয়ে তৈরি! হাতে চঁাদ পাওয়ার এই চেষ্টা যতটা ভারতের বৈজ্ঞানিক সাফল্য, ততটাই ১৩০ কোটি মানুষের দেশের সম্মিলিত আবেগের উদ্‌যাপন। ক্রিকেট নয়, ফুটবল নয়, চঁাদে নামার মুহূর্তটি সরাসরি দেখাল দূরদর্শন। দেশবাসীর মুখ উদ্ভাসিত হল চঁাদের আলোয়।
স্বাধীন ভারতে যিনি মহাকাশ বিজ্ঞানচর্চা শুরু করেছিলেন, সেই বিক্রম সারাভাইয়ের নামাঙ্কিত অবতরণ যান, অর্থাৎ ‘ল্যান্ডার’‌, বিক্রম। রাত দেড়টায় কেমনভাবে চঁাদের মাটিতে নামল বিক্রম?‌ ঠিক যেভাবে সদ্যোজাত শিশুকে দোলনায় শুইয়ে দিতে হয়। অতটাই সাবধানে। আলতো করে, কিন্তু পুরোপুরি সুরক্ষিত রেখে। বলেছেন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর বিজ্ঞানীরা।
‘‌সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে’‌। বারবার কথাটা বলছিলেন ইসরো–র সভাপতি কে শিবন। শুক্রবার মাঝরাত পর্যন্ত সবকিছু একেবারে নিখুঁতভাবেই চলেছে বলে খবর ছিল। বাকিটাও ঠিকঠাকই হল। শুক্রবার রাত দেড়টা থেকে দুটোর মধ্যে অনুসন্ধানী যান ‘‌প্রজ্ঞান’‌কে ভেতরে নিয়ে পালকের মতো ভেসে চঁাদের পিঠে নামে ‘‌বিক্রম’‌। এই এক ঘণ্টার মধ্যে সবথেকে উদ্বেগের সময় ছিল শেষ পনেরো মিনিট। বিক্রমের চঁাদের মাটি ছোঁয়ার মুহূর্ত থেকে থিতু হওয়া পর্যন্ত। তার পর একটু জিরিয়ে নিয়েছে বিক্রম। ঘণ্টা তিনেক। তার পর ভারতীয় সময় সকাল ৫.‌৩০ থেকে ৬.‌৩০, এই এক ঘণ্টা বরাদ্দ ছিল ‘‌ল্যান্ডার’‌ বিক্রমের ভেতর থেকে রোভার ‘‌প্রজ্ঞান’‌–এর বেরিয়ে আসার জন্য। বাইরে এসে নিজের সোলার প্যানেল প্রথমে মেলে ধরে প্রজ্ঞান। সৌরশক্তিই তাকে চালাবে। অবতরণ ক্ষেত্র থেকে ৫০০ মিটার দূর পর্যন্ত গড়গড়িয়ে যেতে পারবে সে। নমুনা সংগ্রহ করবে চঁাদের মাটি, পাথরের। খুঁজবে জলের দাগ। যাচাই করে দেখবে কোনও নতুন খনিজ পদার্থ আছে কিনা চঁাদের জমিতে।
এই প্রথম ভারতের নাগালে চঁাদ। রাত ১.‌১০ থেকে অবতরণের লাইভ সম্প্রচার করল দূরদর্শন। ইসরোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে এবং তাদের ইউ টিউব, ফেসবুক, ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও দেখা গেছে এই দৃশ্য। বাকি দেশের সঙ্গে একই দমবন্ধ উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষা করেছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা, যঁারা এতদিন এই চন্দ্র অভিযান সফল করতে দিনরাত কাজ করেছেন। চন্দ্রযানের প্রথম নির্ধারিত উৎক্ষেপণ একেবারে শেষ মুহূর্তে কারিগরি গোলযোগের কারণে বাতিল হয়ে যাওয়ার পর থেকে একটু বেশিই সতর্ক ছিল ইসরো। একটু বেশি সাবধান। সেই কারণে উদ্বেগও বেশি ছিল। কারণ অত্যন্ত জটিল এই অভিযান, যেখানে পৃথিবীতে থাকা নিয়ন্ত্রণকক্ষের কম্পিউটার থেকে চঁাদের মাটিতে পা–‌রাখা ল্যান্ডারের সেন্সর, সবকিছু নিখুঁতভাবে কাজ করতে হবে। তবে সেরকমই হবে, আত্মবিশ্বাসী ছিল ইসরো। তাই উদ্বেগ থাকলেও, সংশয় ছিল না কারও মনে। 
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে চন্দ্রযান–২ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়। তারও আগে ২০০৭ সালের ১২ নভেম্বর রুশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমস–এর সঙ্গে ইসরোর এক চুক্তি সইয়ের মধ্যে দিয়ে ভারতের চন্দ্র–‌অভিযান পরিকল্পনার সলতে পাকানো শুরু হয়, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছোল ২২ জুলাই। সেদিন অন্ধ্রের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উড়ান শুরু করে দ্বিতীয় চন্দ্রযান। শুক্রবার মাঝরাতে ল্যান্ডার বিক্রম চঁাদের মাটি ছোঁয়ার আগেই এক ঝঁাক ট্যুইটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, এই অভিযান ভারতের মেধা এবং নিষ্ঠার প্রমাণ। এই সাফল্য দেশের মানুষের উপকারে আসবে।

 

 

চাঁদেই থাকুন!‌ ঠেস মমতার : চাঁদে পাড়ি দিচ্ছে ভারত‌। আর তার কৃতিত্বও নিজেদের বলে দাবি করছেন নরেন্দ্র মোদি!‌ শুক্রবার বিধানসভায় এরই জেরে ঠেস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বললেন, ‘‌দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ধামা চাপা দিতে বিভিন্ন দিকে মুখ ঘোরানো হচ্ছে। চাঁদ দেখাচ্ছে !‌ জনগণের কাজ না করে শুধু রাজনীতি করছে।’‌ মমতা বলেন, ‘‌৬০–‌৭০ বছর ধরে গবেষণা চলছে। আর হঠাৎ করে সব নাকি ওরাই করেছে বলে প্রচার করছে। বিজ্ঞান, আকাশ, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারা সবই নাকি ওদের কৃতিত্ব। যেন মহামানব এসে গেছে!‌ বিজেপি নেতারা যাক, চাঁদে গিয়ে ফ্ল্যাট বানিয়ে থাকুক। মাল্টি স্টোরিড করুক!‌’‌

ছবি: ইসরো টুইটার

জনপ্রিয়

Back To Top