আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দূষণ বিশেষ করে বায়ুদূষণে জর্জরিত গোটা দেশ। বিশ্বের ১০টি সবচেয়ে দূষিত শহরের মধ্যে ৭টি ভারতেরই। প্রতিদিনই প্রচুর মানুষ বায়ুদূষণের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। অনেকে মারা যান। দেশের শহরগুলির মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা রাজধানী দিল্লির। দিওয়ালির পর যা আরও খারাপ হয়ে পড়ে। এই সব দিক খেয়াল করেই বায়ুদূষণ কমাতে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। এমনকি দ্বিতীয় এনডিএ সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে অর্থমন্ত্রী বৈদ্যুতিন গাড়ি ব্যবহারে জোর দিতেও বলেছেন। কর ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি বৈদ্যুতিন গাড়ির উপর জিএসটিও কমানো হয়েছে। ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। আর পুরোটাই করা হয়েছে, পেট্রল–ডিজেল চালিত গাড়ির তুলনায় সাধারণ মানুষ আরও বেশি করে যাতে বৈদ্যুতিন গাড়ি ব্যবহার করে, সেব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করতে। কিন্তু জানেন কি, এই বৈদ্যুতিন গাড়িতে কমার বদলে আরও বেড়ে যেতে পারে বায়ুদূষণ। 
মনে করা হচ্ছে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতে বৈদ্যুতিন গাড়ির পরিমাণ প্রায় ১০গুণ বৃদ্ধি পাবে। সেক্ষেত্রে ৪৮৬ কোটি টাকা থেকে এই গাড়ির বাজার বেড়ে দাঁড়াবে ৪৮৩৮ কোটি টাকা। আর এতেই বাড়বে দূষণ। কারণ, বৈদ্যুতিক গাড়িতে হয়ত পেট্রল–ডিজেল লাগবে না। কিন্তু তাতে ব্যাটারি চার্জ করার প্রয়োজন হবে। আর এই ব্যাটারি চার্জ করতে আরও বেশি পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচ হবে। আর এখনও পর্যন্ত ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় কয়লা পুড়িয়ে। অপ্রচলিত শক্তি উৎস ব্যবহৃত হয় না বললেই চলে। ফলে যা ক্ষতি হওয়ার সেটা হবেই। বরং বায়ুদূষণের পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে। কারণ তখন আরও বেশি বিদ্যৎ উৎপাদনে বেশি করে কয়লা পোড়ানো হবে। এছাড়াও থাকছে বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যাটারি। এই গাড়িগুলির ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে সেটা ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনও গতি নেই। সেক্ষেত্রে ব্যাটারিতে ব্যবহৃত পারদ সোজা গিয়ে মিশবে মাটিতে। কারণ এদেশে এখনও ব্যাটারি তৈরিতে পারদের ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি হয়। তবে এই দু’‌টি জিনিসই এড়ানো যেতে পারে। সেজন্য আরেকটু বেশি সচেতন হতে হবে সাধারণ মানুষকে। আর তখনই মিলতে পারে বৈদ্যুতিক গাড়ির সবচেয়ে বেশি সুফল। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top