ধ্রুবজ্যোতি দে

উনিশ শতকের শেষ দশক। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন রয়েছেন হুগলি চুঁচুড়ার বড়বাজার এলাকায় গঙ্গার ধারে একটি বাগানবাড়িতে। সঙ্গে রয়েছেন মহর্ষিকন্যা স্বর্ণকুমারী ও দৌহিত্রী হিরণ্ময়ী দেবী। স্থানীয় ব্রাহ্মরা আসছেন নিয়মিত। কলকাতা থেকেও এসেছেন ভক্তরা। নিত্য বসছে প্রার্থনাসভা। চলছে উপাসনা, ঈশ্বরভজনা, প্রভাতফেরি। বাগানবাড়ির দক্ষিণেই অধুনালুপ্ত ফেরিঘাট। একদিন সেই ঘাটে স্টিমার থেকে নামলেন এক ব্রাহ্মদম্পতি। স্বামী আজীবন ব্রাহ্মপ্রচারক কুঞ্জবিহারী সেন ও স্ত্রী সদ্য ডাক্তারি পাশ করা হৈমবতী। কোলে অসুস্থ শিশুপুত্র। দুজনের কারওরই উপার্জন নেই। হৈমবতী পড়াকালীন যে বৃত্তি পেতেন, তাও বন্ধ। বাচ্চাটি জ্বরে একটানা ভুগে চলেছে। ওষুধের দোকান–সহ অন্যত্র দেনার পাহাড়। অনেকে ছেলেকে নিয়ে বায়ু পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সঙ্গতি কোথায়! এমনই একদিনে কুঞ্জবাবু হৈমবতীকে চুঁচুড়ায় গিয়ে দেবেন্দ্রনাথ দর্শনের প্রস্তাব দিলেন। আর চুঁচুড়ায় এসে বায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত ওষুধপথ্য পেয়ে শিশুটিও সুস্থ হয়ে উঠল। তখন ওঁরা চুঁচুড়ায় আরও কিছুদিন থেকে যাওয়ার মনস্থ করলেন। কুঞ্জবাবু থাকলেন প্রার্থনাসভা থেকে আধ্যাত্মিক জ্ঞানলাভের আশায়, হৈমবতী রইলেন ছেলেকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলার পার্থিব আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। হৈমবতীর কথায়, কুঞ্জবাবু ও তাঁর কর্মপথ আলাদা। তবে সন্তানের সুস্থতা কামনায় প্রত্যেক মায়ের প্রার্থনায় যে ঐকান্তিকতা থাকে তার সঙ্গে আর কিছুর তুলনা হতে পারে না।
চুঁচুড়ায় থাকাকালীন হৈমবতীদের আলাপ– পরিচয় হল জেলার সম্মানিত ব্রাহ্মদের সঙ্গে। ডাক্তারি পাশ করে বসে আছেন জেনে তাঁরা হৈমবতীকে চুঁচুড়ায় প্র্যাকটিস করতে বললেন। কিন্তু কুঞ্জবাবু সম্মতি না দিয়ে জানালেন, সরকারি চাকরি হলে তাঁর আপত্তি নেই। সব শুনে তাঁরা চুঁচুড়ায় একটি ‘লেডি ডাফরিন ব্রাহ্ম হাসপাতাল’ খোলার প্রচেষ্টা শুরু করলেন। শেষ পর্যন্ত পুরাতন ব্যারাকের একটি অংশে (এখন যেখানে চুঁচুড়া থানা তার পাশে) মহিলা হাসপাতালটি খোলার সিদ্ধান্ত হয়। কুঞ্জবাবুরা ইতিমধ্যেই কলকাতায় ফিরে গেছেন। হৈমবতী দূরবর্তী সীতাপুর, কোয়েটা প্রভৃতি স্থান থেকে একশো–দেড়শো টাকা মাইনের কাজের ডাক পেলেন কিন্তু সংসার ছেড়ে যেতে পারলেন না। কুঞ্জবাবুর উপার্জনে মতি নেই, তাই সংসার চালানোর যাবতীয় দায় হৈমবতীরই। অথচ প্র্যাকটিস করা মহা সমস্যার ব্যাপার। সেই সময়ে মহিলা ডাক্তারদের প্র্যাকটিসের জন্য অনেকটা নির্ভর করতে হত পসারওলা পুরুষ ডাক্তারদের ওপর। আর এজন্য তাঁদের তোয়াজ করে চলতে হত, যা হৈমবতীর পোষাত না।
একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল সমকালীন ডাক্তার যামিনী সেনের। যে কারণে তিনি প্র্যাকটিস ছেড়ে চাকরি নিয়ে বাইরে চলে যান। কলকাতায় একদিন সকালে হৈমবতীর ধাত্রীবিদ্যার শিক্ষক ডা. দয়াল সোম তাঁকে এক ইউরোপীয় মহিলার প্রসব করাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি হৈমবতীকে দায়িত্বে রেখে একেবারে রাতে এলেন। একজন স্থানীয় ধাইও ছিল। রাত দশটায় প্রসবের পর ডা. সোম ফি হিসেবে হাজার টাকা নিলেন এবং ধাইকে দেড়শো টাকা ও হৈমবতীকে পঞ্চাশ টাকা দিয়েছিলেন। এতে কুঞ্জবাবু খুশি হলেও হৈমবতী বঞ্চিত ও অসম্মানিত বোধ করেন। সেই সময়ে পাশ করা মহিলা ডাক্তারদের মর্যাদা ধাইদের থেকে বেশি কিছু ছিল না। যেমন প্রথম বাঙালি মহিলা ডাক্তার কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়কে সুপ্রসব করানোর পর রোগিণীর বাড়িতে খেতে দেওয়া হয়েছিল দাসীদের খাবার দালানে। এঁটো পাতা ফেলতে হয়েছিল দাসীরা তা ছোঁবে না বলে। তবে এ তো কেবল পেশাগত বঞ্চনা বা অসম্মান, যা সে সময়ের মহিলা চিকিৎসকেরা নিজ কর্মদক্ষতা, ধীশক্তি ও প্রবল আত্মমর্যাদাবোধ দিয়ে প্রতিহত করতেন। হৈমবতীকে কিন্তু বাল্যকাল থেকেই নিরন্তর অবহেলা, বঞ্চনা ও নিপীড়নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। আর হৈমবতী তা ক্রমান্বয়ে প্রতিরোধ করে গেছেন তাঁর লেখাপড়া শিখে আত্মপ্রতিষ্ঠার প্রবল বাসনা, প্রখর মেধা, আত্মসম্মানবোধ এবং আপসহীন মানসিকতা দিয়ে।
হৈমবতীর জন্ম ১৮৬৬ সালে অবিভক্ত বাংলার খুলনা জেলায়। সে এমন এক সময় যখন বেশিরভাগ পরিবারে মনে করা হত লেখাপড়া শিখলে মেয়েরা বিধবা হবে। বাল্যকালে রজোদর্শনের আগেই মেয়েদের বিয়ে দেওয়া ছিল সাধারণ রীতি। কুলীন পাত্র বয়স্ক হলেও তার সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ ছিল সম্পন্ন হিন্দু ঘরে। ফলে অল্পবয়সে বৈধব্য ও আজীবন কৃচ্ছ্রতা ছিল তাদের একমাত্র ভবিতব্য। শিশু বা বালিকা হলেও রেহাই ছিল না। এমনকী অনেক সময় বরাবরের মতো কাশী পাঠিয়ে দেওয়া হত তাদের। এতে তাদের বিষয় সম্পত্তি সহজে দখল নেওয়া যেত। সেই সঙ্গে ঠেকানো যেত বিধবাবিবাহের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতি এসেছিল হৈমবতীর জীবনেও। যদিও তাঁর জন্মের আগেই দেশে বিধবাবিবাহ আইন চালু হয়ে যায় বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায়। এই সময়ের মধ্যে তিনি একাই প্রায় ষাটটি বিধবা বিবাহ দিতে পেরেছিলেন। বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে জনমত গঠনের চেষ্টা শুরু হয়েছিল। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছিল স্ত্রীশিক্ষার উদ্যোগ। সংস্কারপন্থী ব্রাহ্মরা ছিলেন এইসব আন্দোলনে প্রধান অগ্রণী। হৈমবতীর জন্মের আগেই স্থাপিত হয় কলকাতার বেথুন স্কুল। মেয়েদের স্কুল খুলতে উৎসাহী হন অনেকেই। বাংলার বিভিন্ন জেলায় বিদ্যাসাগর প্রায় পঞ্চাশটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু গ্রামবাংলার আপামর ঘরে এসবের প্রভাব তখনও ছিল নগণ্য। জমিদার বংশে জন্মালেও হৈমবতীর শৈশব–কৈশোরে এর রেশ বিশেষ পড়েনি।
হৈমবতীর জন্মের আগে তাঁর বাবা জমিদার প্রসন্নকুমার ঘোষ ছেলে হবে এই আশায় নিত্য পুজোপাঠের ব্যবস্থা করেছিলেন। স্ত্রী নিয়মিত বার ব্রত করতেন। কিন্তু যথাসময়ে কন্যাসন্তান জন্ম নিলে ঠাকুরমা কন্যার মাকে দুষতে লাগলেন এবং মা দুঃখে হতাশায় অসুস্থ হয়ে পড়লেন। প্রসন্নকুমার অবশ্য খুশি হয়ে সবাইকে জানিয়েছিলেন, ‘ও আমার প্রথম পুত্রসন্তান, ওর নাম হল চুনীবাবু’। তবে এসব কথায় তার মা সান্ত্বনা পেলেন না। বরং মেয়ের জন্য রাখতে হয়েছিল একজন ধাইমা। বাড়ির মহিলারা পছন্দ না করলেও হৈমবতী ছেলেদের মতো ঘুরত আর বাইরের বাড়িতে বেশিরভাগ সময় কাটাত। সেখানে বসত ছেলেদের স্কুল। হৈমবতী তাদের পড়া শুনে শুনে শিখে নিত। হৈমবতীর আগ্রহ দেখে প্রসন্নকুমারের সম্মতিতে স্কুলের মাস্টারমশাই হৈমবতীকে লেখাপড়া শেখাতে শুরু করেন। প্রসন্নকুমার অবশ্য সাবধান করেছিলেন বাড়ির মহিলারা যেন না জানতে পারেন। কিন্তু হৈমবতী পারদর্শিতা দেখিয়ে একদিন ঠাকুরমাকে রামায়ণ শোনালে বাড়িতে শোরগোল পড়ে গেল। বন্ধ হল পড়তে যাওয়া। শুরু হয়ে গেল পাত্র খোঁজা। অবশেষে পাত্র মিলল, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, কুলীন কায়স্থ, বয়স পঁয়তাল্লিশ, দুই স্ত্রী প্রয়াত, দুটি মেয়ে জীবিত। হৈমবতীর বয়স তখন দশ পেরোয়নি। তবু অপেক্ষা না করে এখানেই মেয়ের বিয়ে দিতে ঠাকুরমা জোর করলেন কারণ হৈমবতী লুকিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিল।
শ্বশুরবাড়িতে হৈমবতী শাশুড়িমার কাছ থেকে দুর্ব্যবহার পায়নি কিন্তু স্বামী ছিলেন মাতাল ও লম্পট। শরীরে ছিল বিস্তর রোগ। ফলে এক বছরের মধ্যেই তিনি মারা গেলেন। শুরু হল হৈমবতীর বৈধব্যজীবন। বাপের বাড়ি এসে হৈমবতী ভাইদের সঙ্গে আবার লেখাপড়া শুরু করলে ঠাকুরমা তাকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। কিছু বই সঙ্গে নিয়ে হৈমবতী শ্বশুরবাড়ি ফিরে এল। বাবা তার জন্য মাসোহারার ব্যবস্থা করলেও সে টাকা হৈমবতী কখনও হাতে পায়নি। এমনকী বাবার মৃত্যু সংবাদ সে বাপের বাড়ি এসে পায়। হৈমবতীর বয়স তখন ষোলো বছর। মায়ের কাছে শোনে বাবা তার জন্য কিছু সম্পত্তিও রেখে গেছেন কিন্তু তা সে হাতে পাবে না। পরবর্তী দু’বছরের মধ্যে হৈমবতীর মা ও শাশুড়িমা প্রয়াত হলেন। তারপর শ্বশুরবাড়িতে সে যেন সকলের গলগ্রহ হয়ে গেল। সারাদিন দাসীর মতো খাটলেও কেউ কথা শোনাতে ছাড়ত না। স্বামীর অর্থ, সম্পত্তির খোঁজ করলে শুনতে হত খেতে, পরতে পাচ্ছ, এত খবরে দরকার কী। বাপের বাড়িতে দেখা গেল তার জন্য বাবার রেখে যাওয়া বিষয় বুঝিয়ে দেওয়া দূরস্থ তার গয়নাগুলো পর্যন্ত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অগত্যা নিজের দামি শাড়ি, শাল ও বাসন বিক্রির সামান্য টাকা, গায়ের গয়না, শ্বশুরবাড়ির বরাদ্দ দশ টাকা মাসোহারা আর দূর সম্পর্কের একটি ঠিকানা সম্বল করে হৈমবতীকে কাশী পাড়ি দিতে হল। সঙ্গে রইল তার বইগুলি আর মনে রইল ভালভাবে লেখাপড়া শিখে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার বাসনা।
কাশীতে নিয়ে আসা ঠিকানায় প্রত্যাখ্যাত হয়ে হৈমবতী ঘর ভাড়া নিতে বাধ্য হলেন। মাসোহারার টাকায় কোনও মতে একবেলা খাওয়ার উপায় হল। যদিও সেই টাকাও বন্ধ হয়ে গেল দু’তিন মাসের মধ্যে। শেষে যখন প্রায় উপবাসে কাটছে, তখন হৈমবতীর প্রতিবেশিনী ভুবনমোহিনী দেবী তাঁদের প্রতিষ্ঠিত বালিকা বিদ্যালয়ে মাসিক দশ টাকা বেতনে মেয়েদের লেখা, নামতা ও সেলাই শেখানোর প্রস্তাব দেন। সেখানের পুরুষশিক্ষক হৈমবতীর দুর্নাম রটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সে সবে কান না দিয়ে ভুবনমোহিনী তাঁকে বহাল রাখেন। কিছুদিন পর হৈমবতীর মনে হয় একটা পরীক্ষা পাশ থাকলে আরও ভাল পড়াতে পারতেন। তখন ভুবনমোহিনীর উদ্যোগে বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির পক্ষে ব্রাহ্ম নেতা পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রী ও দুর্গামোহন দাসকে দুটি চিঠি লিখে দেন। তাই নিয়ে হৈমবতী কলকাতায় পাড়ি দেন। উদ্দেশ্য কোনও ব্রাহ্ম বিধবানিবাসে থেকে প্রথাগত শিক্ষালাভ ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ নেওয়া যাতে তিনি কোনও সম্মানজনক পেশায় যুক্ত হতে পারেন। পথে বৈধ টিকিট সত্ত্বেও ইউরোপীয় টিকিট পরীক্ষকের কাছে হয়রানি ও আরও নানা দুর্ভোগের পর কলকাতায় পৌঁছে শুনলেন শিবনাথ শাস্ত্রীরা কিছুকালের জন্য লন্ডন যাচ্ছেন, ফিরে এসে ব্যবস্থা করবেন।
বিফল মনোরথ হয়ে হৈমবতী দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের ভরসায় পূর্ববঙ্গ গেলেন আশ্রয়ের আশায়। সেখানে নানা বিপদ ও হেনস্থা থেকে পরিত্রাণ পেয়ে অবশেষে হৈমবতী ঢাকার সমাজ সংস্কারক ব্রাহ্মনেতা নবকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের আশ্রয়ে এলেন। নবকান্তবাবুকে হৈমবতী বাবা বলতেন। হৈমবতী সহজেই মানুষের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক পাতিয়ে ফেলতেন। নবকান্তবাবু হৈমবতীর পুনর্বিবাহের চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু হৈমবতী শেষ পর্যন্ত লেখাপড়া শিখে সম্মানজনক কাজ পাওয়ার প্রত্যাশায় ফের কলকাতায় এলেন এবং কর্নওয়ালিস স্ট্রিটের ব্রাহ্মনিবাসে উঠলেন। সেখানে থেকে বেশ কিছু মেয়ে লেখাপড়া করত। হৈমবতী লেখাপড়া শেখার সুযোগ মিলছে না বলে অনুযোগ করলে নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক চণ্ডী কুশারী বলেন, যেহেতু তার দায়িত্ব নেওয়ার কেউ নেই, তাই তার আগে বিবাহ করা উচিত। পরিচয়ও করিয়ে দিলেন কুঞ্জবিহারীর সঙ্গে। কারণ ব্রাহ্মসমাজের রীতিতে পাত্র-পাত্রীকেই নিজেদের বিবাহ স্থির করতে হয়। এই বিবাহে আপত্তি জানিয়ে বাপেরবাড়ি থেকে লোক এসেছিল কিন্তু হৈমবতী জানিয়ে দেন তাঁর জীবনের সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নেবেন। অতঃপর ডাঃ সুন্দরীমোহন দাস, বিপিনচন্দ্র পাল, বিচারপতি চণ্ডীচরণ সেন প্রমুখের উদ্যোগে হৈমবতী ও কুঞ্জবিহারীর বিবাহ সুসম্পন্ন হয়। হৈমবতীর বয়স তখন প্রায় চব্বিশ, কুঞ্জবাবুর সাতাশ।
আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় বিয়ের পর হৈমবতী থেকে গেলেন বিপিন পালের স্ত্রীর কাছে আর কুঞ্জবাবু গেলেন ব্রাহ্মসমাজের পক্ষে দুর্ভিক্ষ ত্রাণের কাজে। তিনি ফিরলে কয়েকটি ব্রাহ্ম পরিবার মিলে বাসা ভাড়া নিলেন। এর পর হৈমবতী একটি মৃতসন্তান প্রসব করেন। অসুস্থ হৈমবতী ডাঃ সুন্দরীমোহন দাসের চিকিৎসায় সেরে উঠলে কুঞ্জবাবু সন্ন্যাসী বেশে একাই হিমালয়ে তীর্থভ্রমণে যেতে চাইলেন কারণ তাঁর মতে ধর্মকর্মে নারী বাধাস্বরূপ। কিন্তু হৈমবতী জোর করে সঙ্গ নিলেন। পরে পথে রান্না–খাওয়া ইত্যাদি ব্যাপারে কুঞ্জবাবু তাঁর ওপরই নির্ভর করতেন। কষ্টসাধ্য পথভ্রমণের পর ফিরে এসে কুঞ্জবাবু বললেন, এখন থেকে তিনি সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের আশ্রমে থেকে পুরো সময় সমাজের কাজ করবেন এবং তাতে দু’জনেরই থাকা–খাওয়া মিটে যাবে। হৈমবতী পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, খাওয়া–পরার জন্য দান– অনুগ্রহের ওপর নির্ভর না করে তিনি নিজ শ্রমে উপার্জন করতে চান। স্থির হয়, একে অপরের লক্ষ্যে কোনও বাধা দেবেন না।
প্রথম সন্তান মৃত প্রসব হওয়ার পর হৈমবতী প্রতিবেশী বরদা হালদারের বাড়িতে তাঁর তিন ছেলে–মেয়েকে কোলেপিঠে করতেন। এঁদেরই একজন বাসন্তী পরে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী হয়েছিলেন। সেই সময়ে বেশ কিছু বাঙালি মেয়ে ডাক্তারি পড়তে শুরু করেন। হৈমবতীও ডাক্তারি পড়তে আগ্রহী হন। তখন গ্র্যাজুয়েট পাঠ্যক্রম ছাড়াও অল্প যোগ্যতা সম্পন্নদের জন্য দেশি ভাষায় ‘ভার্নাকুলার লাইসেন্সিয়েট ইন মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি (ভি এল এম এস)’ পাঠ্যক্রম চালু হয়েছিল। কারণ তখন সরকার পাশ্চাত্ত্যবিদ্যায় শিক্ষিত দেশীয় চিকিৎসক, বিশেষত মহিলা ডাক্তারদের ঘাটতি কমাতে চাইছিলেন। ভি এল এম এস-দের উপাধি হত ‘হসপিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট’। কিন্তু বৃত্তিমানের পড়াশোনা ও ইংরেজি জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যায়ের কোনও পরীক্ষা পাশ না থাকায় তাঁর পক্ষে ডাক্তারিতে ভর্তি হওয়া সম্ভব ছিল না। এই সময় বরদাবাবুর বন্ধু ডাঃ দেবেন্দ্রনাথ রায় হৈমবতীকে আশ্বস্ত করলেন ভর্তিপরীক্ষা দিয়ে পাশ করলে ক্যাম্পবেল স্কুলে ভি এল এম এস পড়া যাবে। কুঞ্জবাবুর অনুরোধে অধ্যাপক ডাঃ যোগেন্দ্র চ্যাটার্জি হৈমবতীকে প্রস্তুত করতে থাকলেন। অবশেষে ভর্তি পরীক্ষায় ৩য় স্থান পেয়ে সাত টাকা ডাফরিন বৃত্তি নিয়ে হৈমবতী মেডিক্যাল স্কুলে পড়ার সুযোগ পেলেন।
পাঠ্যক্রমে অ্যানাটমি, শবব্যবচ্ছেদ, শারীরতত্ত্ব, ওষুধ তৈরি, রোগনির্ণয়— শিখতে হয়েছে সবই। চূড়ান্ত পর্বে ইউরোপীয় অধ্যাপক ছাত্রীদের পরীক্ষা নিতে রাজি ছিলেন না। পরে হৈমবতীকে অত্যন্ত কঠোরভাবে পরীক্ষা নেন। এমনকী আট মাসের গর্ভবতী হৈমবতীকে গুটিবসন্ত ও কলেরা ওয়ার্ডে রোগী দেখতে পাঠান। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় হৈমবতী প্রথম স্থান লাভ করে স্বর্ণপদকের অধিকারী হন। কিন্তু একজন মেয়ে স্বর্ণপদক পাবে, ছাত্ররা তা মানতে পারলেন না। তাঁরা ধর্না, অবরোধ, মেয়েদের গাড়িতে ঢিল ছোঁড়া সবকিছু করলেন। খবরের কাগজেও চিঠি বেরিয়েছিল ‘মেয়েদের এভাবে মাথায় তোলা ঠিক নয়’! শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা থামাতে কর্তৃপক্ষ হৈমবতীকে ডেকে জানতে চান স্বর্ণপদকের বদলে তিনি অন্য কিছু নিতে পারেন কিনা। হৈমবতী শিশুপুত্র কোলে নিয়ে এসে বলে যান তিনি বিনা খরচে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পড়তে চান। অতঃপর কর্তৃপক্ষ তাঁকে রৌপ্যপদক ও মাসে ত্রিশ টাকা বৃত্তি দিয়ে ‘এল এম এস’‌ পড়ার সুযোগ দেন। তখন কুঞ্জবাবুরা ব্রাহ্ম যৌথ ব্যবস্থায় থাকতেন, খেতেন। এজন্য হৈমবতী তাঁর বৃত্তি থেকে খরচ দিতেন। এমনও হয়েছে বৃত্তির টাকা দেরিতে এসেছে। হৈমবতী ঘরে ছেঁড়া কাপড়ে রয়েছেন। ঠিকমতো খাবার জোটেনি। কিন্তু এসব নিয়ে কুঞ্জবাবুর মাথাব্যথা ছিল না। তবু এরই মধ্যে হৈমবতী ভাল ফল করে আবার রৌপ্যপদক পেলেন। কিন্তু চাকরি না পেয়ে বেকার রয়ে গেলেন। সে সময়ে কলকাতার ডাফরিন মহিলা হাসপাতালে চাকরি করতেন প্রধানত ইউরোপীয় মহিলা ডাক্তাররা। প্র্যাকটিসের সমস্যার কথা তো আগেই বলেছি। এমনই এক সময়ে হৈমবতীদের চুঁচুড়া–যাত্রা।
চুঁচুড়ায় নতুন মহিলা হাসপাতালটি ‘হুগলি ডাফরিন উইমেনস হসপিটাল’ নামে ১৯৯৪ সালে চালু হয়। ডাঃ হৈমবতী সেন এখানে চল্লিশ টাকা বেতনে কাজে যোগ দেন এবং সপরিবার হাসপাতালের দোতলায় কোয়ার্টারে থাকতে শুরু করেন। প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন সিভিল সার্জন। ডাঃ সেন-এর কোনও ডাক্তার সহকর্মী ছিল না। অধীনস্থ কর্মী ছিলেন কম্পাউন্ডার, ড্রেসার, আয়া, করণিক ইত্যাদি। সিভিল সার্জন ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সিভিল সার্জন প্রধানত মেজর অপারেশনগুলি করতেন এবং ডাঃ সেন তাঁদের সাহায্য করতেন। দু’বছরের মধ্যে তিনি নিজেই কঠিন অপারেশন করতে থাকেন। হাসপাতালটিতে ছিল বারো শয্যার সার্জিকাল ও মেডিসিন ওয়ার্ড। যোগদানের পর ডাঃ সেন প্রথমে ওষুধ ঘর, ওয়ার্ড, রোগী পরীক্ষার ঘর ইত্যাদি গোছাতে শুরু করলেন। তারপর চালু করলেন বহির্বিভাগ। ফলে হাসপাতালটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠল। ডাঃ সেন প্রতিদিন ভোর ৪টেয় উঠে ঘরের কাজ সেরে বাচ্চাকে প্রাতরাশ খাইয়ে নীচে নামতেন। এরপর আয়াদের সাহায্যে রোগিণীদের পরিষ্কার করে, খেতে দিয়ে, বহির্বিভাগ ও
ওয়ার্ডে চিকিৎসা, অপারেশন, পথ্যের ব্যবস্থা ইত্যাদি সামলে দুপুরে ঘরে খাওয়া পর্ব মিটিয়ে ‘কল’-এ যেতেন। বিকেলের পর আবার ওয়ার্ডে রোগী দেখতেন। এই সব সারতে তাঁর রাত হয়ে যেত। এর ওপর অতিথি–অভ্যাগত আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করতে হত।
ডাঃ হৈমবতী সেন তাঁর কর্মক্ষেত্র ও সংসারের মধ্যে ভারসাম্য রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতেন, তবে তা সহজসাধ্য ছিল না। সিভিল সার্জন অনৈতিক চিকিৎসার কাজে তাঁকে যুক্ত করার চেষ্টা করতেন। অ্যাসিস্ট্যান্ট সিভিল সার্জন অশালীন কথা বলে ও নানাভাবে হয়রান করতেন। হৈমবতীও তাঁর বিরদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁরা বদলি হলে ডাঃ সেন স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ পান। অপরদিকে যোগদানের পর থেকে পরবর্তী সাত বছরে তিনি পাঁচটি সন্তানের মা হয়েছেন, এমনকী একবার তাঁর গর্ভপাতও হয়ে যায়। যদিও তিনি একাই গড়ে বছরে প্রায় তিন হাজার জনকে বহির্বিভাগে এবং আড়াইশোর কাছাকাছি রোগিণীর অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা করেছেন। ডাফরিন তহবিলের তথ্য থেকে জানা যায়, তিনি ফোড়া কাটা, প্রসব করানো ইত্যাদি ছাড়াও বছরে অন্তত দশটি জটিল অপারেশন করতেন। চিকিৎসক হিসেবে ডাক্তার সেন খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। একবার কলেরা মহামারীর রূপ নিলে, তিনি নিজেই আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তখন একজন রোগিণী মারা গেলে রটে যায় ডাঃ সেন মারা গেছেন। হাসপাতালের বাইরে কয়েকশো লোকের ভিড় জমে যায়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও খোঁজ নিতে চলে আসেন। পরে কলকাতা থেকে শিবনাথ শাস্ত্রী
এসেছিলেন হৈমবতীকে দেখতে।
ডাঃ হৈমবতী সেন ছিলেন হুগলি জেলার প্রথম মহিলা ডাক্তার, যিনি সরকারি চাকরির সঙ্গে সঙ্গে প্রাইভেট প্র্যাকটিসও
করেছেন। সব মিলিয়ে রোজগার ছিল মাসে প্রায় চার–পাঁচশো টাকা। প্রতি মাসে বেতনের সঙ্গে প্র্যাকটিসের টাকাও ডাঃ সেন কুঞ্জবাবুর হাতে তুলে দিতেন। অবশ্য প্রয়োজনে তা থেকে নিয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষজনকে দান করতেও দ্বিধা করতেন না। তাঁর ভাবনায়, দান মানুষকে আত্মত্যাগ করতে শেখায়, হৃদয় নম্র করে, তাই হাজারো ধর্মকর্ম থেকে দান অনেক বড় পুণ্যকর্ম। সে সময়ে হাসপাতালে আসা কোনও নিঃসহায় মহিলার মৃত্যু হলে তাঁর শিশুগুলি অনাথ হয়ে যেত। কর্মজীবনের নানা সময়ে ডাঃ সেন এরকম কয়েকশো শিশুকে আশ্রয় দিয়েছেন। এজন্য তাঁকে অতিরিক্ত কাজের লোক রাখতে হয়েছিল। ছেলেগুলিকে বড় করে ব্রাহ্ম বা মিশনারি আশ্রমে পাঠিয়ে দিতেন। মেয়েদের বেথুন ছাত্রী নিবাসে পাঠাতেন, বড় হলে ব্রাহ্ম বা মুসলিম রীতিতে বিবাহ দিতেন। এভাবে তিনি ছত্রিশটি বিবাহ দিয়েছিলেন। তাই যথেষ্ট উপার্জন করলেও ডাঃ হৈমবতী সেন কখনও সচ্ছলতার মুখ দেখেননি।
কিন্তু তাঁর কাজের চাপ বাড়ছিল। একদিন এক মরণাপন্ন রোগিণীর চিকিৎসার জন্য ডাঃ সেন ঘরে আসতে দেরি করছিলেন। তাঁর বাচ্চা মেয়েটি কান্নাকাটি করছিল। হৈমবতী ফেরার পর কুঞ্জবাবু রাগারাগি করলে তিনি প্রত্যুত্তর করেন। তখন কুঞ্জবাবু তাঁকে মারতে শুরু করেন। মুখ কেটে রক্তপাত হলে হৈমবতী তখনকার সিভিল সার্জনের কাছে যান ও চাকরি ছাড়বেন মনস্থ করেন। হৈমবতীকে চিকিৎসার পর কুঞ্জবাবুকে ডেকে পাঠালে তিনি সিভিল সার্জনকেও মারতে উদ্যত হন। পরে কুঞ্জবাবুর আচরণের জন্য ডাঃ সেন ক্ষমা চেয়ে নেন ও কোয়ার্টার ছেড়ে দেন।
বছর কয়েক পরে ডায়াবেটিস ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে কুঞ্জবাবুর মৃত্যু হল। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে হৈমবতী আবার বিধবা হলেন। তাঁর বড় ছেলের বয়স তখন আট বছর ও ছোট ছেলের বয়স পাঁচ মাস। ছেলেমেয়েদের বড় করতে পরিশ্রম বেশি করতে হচ্ছিল। হাসপাতালের চাপ বাড়ছিল। জনৈক ইউরোপীয় ডাক্তার হাসপাতাল পরিদর্শনের নামে যখন–তখন রোগিণীদের পরীক্ষা ঘরে ঢুকে পড়তেন। এই নিয়ে ডাঃ সেন-এর সঙ্গে তাঁর তীব্র বিরোধ হয়। ডাঃ হৈমবতী সেন চিরকাল পুরুষতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদ-এর বিরুদ্ধে লড়েছেন। এখনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যার পরিণতি ১৯১০-এ তাঁর পদত্যাগ বা কর্মচ্যুতি। ঠিক কী ঘটেছিল জানা যায় না কিন্তু এই বছরেই হাসপাতালটি ‘ডাফরিন’ তকমা হারায় ও পরে ইমামবাড়া হাসপাতালে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এর পর ডাঃ সেন প্র্যাকটিস চালিয়ে যান এবং শেষ বয়সে মেজ ছেলে কর্নেল ডাঃ আত্মজ্যোতির চেম্বারে বসতেন। বড় ছেলে ধ্রুবজ্যোতি ছিলেন আইনবিদ ও অধ্যাপক। সেজ ও ছোট ছেলে, শান্তজ্যোতি ও জগজ্যোতি, ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, মেয়ে ভক্তিসুধা বেথুন থেকে পাশ করে পরে শিক্ষকতা করেন।
ডাঃ হৈমবতী সেন তাঁর শেষ বয়সে একটি স্কুলের খাতায় একান্ত ঘরোয়া বাংলায় নিজের স্মৃতিকথা লেখেন। সেখানে যে তিনি শুধু নিজের জীবন কাহিনি লিখেছেন তাই নয়, নিজের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক ভাবনাচিন্তাও প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, কেবল নিজের পরিবার প্রতিপালন ও তার মঙ্গল প্রয়াসের মধ্যে যে সঙ্কীর্ণতা তা মানুষকে ঈশ্বরের নৈকট্য দেয় না। কতগুলি আচার, বিচার, রীতি, প্রথাপালন করেও ঈশ্বরকে পাওয়া যায় না। জাত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দুর্গত–নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকাই প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের সান্নিধ্যলাভ। স্মৃতিকথা ছাড়া তিনি গল্প–কবিতাও লিখেছেন। কিন্তু সেসবের কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। ১৯৩৩-এ স্তন ক্যান্সারে তাঁর মৃত্যু হয়। এর বহু বছর পরে তাঁর উত্তরাধিকারীর কাছ থেকে স্মৃতিকথাটি সংগ্রহ করেন ইতিহাস ও মানবীবিদ্যার অধ্যাপিকা জেরাল্ডিন ফোর্বস। সেটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ঐতিহাসিক তপন রায়চৌধুরি। অধ্যাপিকা ফোর্বস-এর ভূমিকা–সহ অনুবাদটি ‘দি মেমোয়ার্স অফ ডঃ হৈমবতী সেন : ফ্রম চাইল্ড উইডো টু লেডি ডক্টর’ শিরোনামে ২০০০ সালে প্রকাশিত হয় যেটি ‘বিকজ আই অ্যাম এ উওম্যান : এ চাইল্ড উইডোজ মেমোয়ার্স ফ্রম কলোনিয়াল ইন্ডিয়া’ নামে ২০১১–তে পুনঃপ্রকাশিত হয়। ডাঃ হৈমবতী সেন-এর মূল বাংলা স্মৃতিকথাটি পাওয়া যায় না, ইংরেজি অনুবাদ গ্রন্থও সহজলভ্য নয়। অধ্যাপক রায়চৌধুরি কৃত ইংরেজি অনুবাদটির ওপর নির্ভর করে ডাঃ সেন-এর বিস্তৃত জীবনী ও সমসময়ের ইতিহাস নিয়ে আমার লেখা আশাদীপ থেকে প্রকাশিত ‘সাদা থান থেকে সাদা অ্যাপ্রন: ডাঃ হৈমবতী সেন-এর জীবন ও সময় (১৮৬৬–১৯৩৩)’ বই অবলম্বনেই বর্তমান রচনাটি আধারিত।‌‌‌‌‌‌‌

ছবি দেবব্রত ঘোষ।

জনপ্রিয়

Back To Top