যুগ যুগ ধরে ভারতের মন্দিরগুলো অপরিমেয় ধনরত্নের ভাণ্ডার। মূলত ভক্তদের দানই ওই ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। তিন থেকে চার হাজার টন সোনার ঠিকানা মন্দিরগুলোর রত্নভাণ্ডার। হিরে, মণিমুক্তোর শেষ নেই। পুরীর মন্দিরের রত্নভাণ্ডারের চাবি খোয়া যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে উঠে এসেছে এই প্রসঙ্গ। মন্দিরে মন্দিরে ছড়িয়ে থাকা ধনরত্নের সন্ধান করলেন দেবাশিস পাঠক

জানা-অজানা তিনটে ঘটনা। ইতিহাস বইয়ের পাতা থেকে খবরের কাগজের প্রথম পৃষ্ঠা। 
প্রথমে আসাদুল বিলাদের লেখা। তিনি ত্রয়োদশ শতাব্দীর মানুষ। আরব থেকে আসা ভূগোলবিদ। তাঁর লেখাটির শিরোনাম ‘বিস্ময়কর জিনিসের সৃষ্টি এবং চমৎকারী বিষয়ের অস্তিত্ব’। সেখানে‌ বর্ণনা করা হয়েছে সোমনাথ মন্দিরের ছবি ও তার ধ্বংসের আখ্যান। সমুদ্র উপকূলে দাঁড়িয়ে সেই অবাক-করা মন্দির। মন্দিরের কেন্দ্রে সোমনাথ মহাদেবের মূর্তি। ওপর থেকে কোনও কিছু দিয়ে ঝোলানো নেই, আবার নিচে কোনও কিছু সেটাকে ধরে আছে, তাও নয়। আশ্চর্যজনক সেই দেবমূর্তি শূন্যে স্থির। চন্দ্রগ্রহণের দিন সেখানে হাজার হাজার ভক্তের ভিড়। শ-পাঁচেক দেবদাসীর নৃত্যগীতে প্রতিদিন দেবাদিদেবের বিনোদন। ২০০ মন সোনা দিয়ে তৈরি শিকল দেবমূর্তির কাছে। সেটার ঝনঝনানি শুনে রোজ ভোরে দেবাদিদেবের জাগরণ। মন্দির দাঁড়িয়ে আছে কাঠের তৈরি ৫৬টা থামের ওপর। গর্ভগৃহে আলো দিয়েছে যে সব ঝাড়বাতি, সেগুলোতে মণিমুক্তো বসানো। এসব দেখে জেনে তাজ্জব সুলতান আমিনুদ্দৌলা মহম্মদ বিন সুবুক্তিগিন। গজনির সুলতান। ১০২৫-এর ডিসেম্বরে সোমনাথের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি আদেশ দিলেন। সুলতানের হুকুমে মন্দিরের ছাদের পাথর সরানো হল। খান-দুই পাথর সরানো হলে শূন্যে ঝুলন্ত দেবমূর্তি নেমে এল মাটিতে। বোঝা গেল শক্তিশালী চুম্বকের কারসাজিতে ওটা এতকাল শূন্যে ভাসত। সোনাদানা. হিরেজহরত ওজন করে দেখা গেল সেগুলোর দাম দু’‌কোটি দিনারের আশপাশে। সুলতান বেজায় খুশি।
দ্বিতীয় ঘটনা ৮২৫ বছর পর, ১২৫৭ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দের। জানবাজারের রানি রাসমণি কলকাতা থেকে পুরী গিয়েছেন নৌকাযোগে। সঙ্গে তিনখানা মুকুট। সেগুলোতে হিরে বসানো। পুরীধামে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে উৎসর্গ করলেন মুকুট তিনটি। রানির হিসাবপত্রের খাতা জানাচ্ছে, মুকুট তিনটে তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ষাট হাজার টাকা। 
তৃতীয় ঘটনা একেবারে সাম্প্রতিক। আরও ২৬৮ বছর পরেকার, এই ২০১৮-র। ওই পুরীর মন্দিরেরই রত্নভাণ্ডারের চাবি খোয়া গিয়েছে। তা নিয়ে একেবারে হুলস্থুল কাণ্ড। সরকার অবধি ভীষণ তৎপর। চাবি পাওয়া গেলে রত্নভাণ্ডার খুললে দেখা যাবে, সেখানে হয়তো অজস্র ধনসম্পদের মধ্যে রয়েছে রানি রাসমণির দেওয়া মুকুট তিনটেও।
তিন ঘটনার সূত্রে একটা বিষয় পরিষ্কার। যুগ যুগ ধরে ভারতের মন্দিরগুলো অপরিমেয় ধনরত্নের ভাণ্ডার। মূলত ভক্তদের দানই ওই ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। আর সেসবের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে দেশি-বিদেশি, সবাই। 
বছর তিন-চার আগে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল হিসেব করে দেখেছিল ভারতে গচ্ছিত মোট সোনার পরিমাণ কমপক্ষে ২২ হাজার টন। তার মধ্যে তিন থেকে চার হাজার টন সোনার ঠিকানা মন্দিরগুলোর রত্নভাণ্ডার। এ স্রেফ সোনার আনুমানিক হিসেবমাত্র। এর মধ্যে হিরে বা অন্যান্য মণিমুক্তোর মূল্য ধরা নেই। আর এ ধরনের হিসেবের একেবারে ঠিকঠাক ছবি পাওয়া অতি দুরূহ কর্ম। সবটাই বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া নানা তথ্য সাজানোর ভিত্তিতে গড়ে ওঠা আন্দাজ। 
যেমন তিরুপতি মন্দিরের খতিয়ান। দান-দক্ষিণাপ্রাপ্তি এবং সম্পত্তির বিচারে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেবতা এখানকার ভেঙ্কটেশ্বর। ৩০০ খ্রিস্টাব্দে তিরুমালা পর্বতে নির্মিত এই মন্দিরে রোজ গড়ে ৫০ হাজার থেকে এক লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। বিশেষ বিশেষ উৎসবের দিনে সংখ্যাটা ৫ লক্ষ পর্যন্ত হয়। এই বিপুলসংখ্যক ভক্তের অর্ঘ্য হিসেবে ভেঙ্কটেশ প্রতি মাসে গড়ে ১০০ কেজি সোনা পান। সেক্ষেত্রে স্বর্ণপ্রাপ্তির বার্ষিক পরিমাণ ১.২ টন। স্বয়ং ভেঙ্কটেশের শ্রীঅঙ্গ এক হাজার কেজি সোনায় মোড়া। এ ছাড়া মন্দিরের রত্নভাণ্ডারে গচ্ছিত সোনাদানা গয়নাগাটির ওজন নয় নয় করে ৩৫০ টন। এমনটাই অন্তত শোনা যায়। এর মধ্যে সাড়ে চার টন সোনা মন্দির কর্তৃপক্ষ জমা রেখেছেন ব্যাঙ্কের ভল্টে। সেখান থেকে সুদ বাবদ বার্ষিক আয় ৮০ কেজি নিখাদ সোনা। সোনাদানা ছাড়াও ভেঙ্কটেশ্বর বালাজি ভগবান নগদ অর্থে প্রণামি পান। ২০১৬-র হিসেব বলছে সে বছর নগদ টাকায় দেওয়া দক্ষিণার পরিমাণ ছিল ৯৫৯ কোটি টাকারও বেশি। ৫০ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা এসেছিল চেক, ডিমান্ড ড্রাফট আর বৈদেশিক মুদ্রায়। প্রায় ৬২ লক্ষ ১২ হাজার দর্শনার্থী অনলাইনে টিকিট কেটেছিলেন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় দেবদর্শন করার জন্য। সেইসূত্রে মন্দিরের আয় হয়েছে ২০১ কোটি টাকা। মন্দিরের দানবাক্স বা হুন্ডিতে অনেক ভক্ত নিজেদের শেয়ার সার্টিফিকেট দান করেন। অত শেয়ার মন্দির-কমিটির নামে হস্তান্তরিত করার ঝক্কি অনেক। তাই তিরুমালা তিরুপতি অবস্থান ট্রাস্ট স্টক কর্পোরেশনের অধীনে একটা ডিম্যাট অ্যাকাউন্টও খুলতে বাধ্য হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে লাড্ডু প্রসাদের দাম। রোজ গড়ে দেড় লক্ষ লাড্ডু তৈরি হয় ভক্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য। সেখান থেকে আসে বছরে প্রায় ১১কোটি টাকা।
এত সব জানার পর অনিবার্য প্রশ্ন, কেন ভক্তরা এত এত অর্থ কেবল তিরুপতি মন্দিরেই দেন?
এর উত্তর মিলবে পুরাণগাথা পুরাণকথায়। বিয়ের সময় ভগবান শ্রীবিষ্ণু কুবেরের কাছে ঋণ নেন। সে ঋণের পরিমাণ ছিল এক কোটি টাকা আর ১১৪০০০০০ স্বর্ণমুদ্রা। এই বিরাট অঙ্কের দেনা মাথায় নিয়ে বিষ্ণু ভেঙ্কটেশরূপে পদ্মাবতী রূপিণী লক্ষ্মীদেবীকে বিয়ে করেন শেষাদ্রি পর্বতের এই অংশে। বিশ্বকর্মা তাঁদের জন্য এখানেই মন্দির নির্মাণ করে দেন। আর কুবেরের কাছে ভগবানের দেনা আজও শোধ করে চলেছেন কোটি কোটি ভক্ত।
আরও একটি পৌরাণিক আখ্যান। সেই সূত্রেও তিরুপতি মন্দিরে বিপুল ধনাগম।
শেষাদ্রি পাহাড়ে ভেড়া চরাত এক মেষপালক। অজান্তে সে জোর আঘাত করে বসে বালাজি ভগবানের মাথায়। চোট লেগে মাথার একাংশের চুল উঠে যায়। সে অংশে চুল আর গজায় না। ব্যাপারটা নজরে আসে গন্ধর্বরাজের কন্যার। নাম তাঁর নীলাদেবী। অমন সুন্দর মুখশ্রী অথচ মাথার একাংশে টাক। সহ্য হয়নি নীলাদেবীর। নিজের মাথার চুল কেটে যোগবলে তা বসিয়ে দেন ভগবানের মাথার ওই জায়গাটায়। সে কথা মনে রেখেই আজও অগণিত ভক্ত এই দেবস্থানে মাথা নেড়া করেন। আর উৎসর্গীকৃত সেই চুল বিক্রি করে মন্দিরের আয় বছরে প্রায় দুশো কোটি টাকা।
কেরলের পদ্মনাভস্বামী। তিরুবন্তপুরমে তিনিও ভগবান শ্রীবিষ্ণুর আর এক রূপ। অনন্তনাগের ওপর শায়িত তিনি সেখানে। তাঁর রত্নভাণ্ডারের কথা কিংবদন্তিকেও হার মানায়।
৬ ডিসেম্বর ১৯৩১। সকাল দশটায় খোলার চেষ্টা হয় এখানকার রত্নভাণ্ডার। এমিলি গিলক্রিস্ট হ্যাচ তাঁর বই “ট্র্যাভাঙ্কোর: আ গাইডবুক ফর দ্য ভিজিটর”-এ (১৯৩৩–এ অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস কর্তৃক প্রকাশিত) সেই ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। 
তিনি জানাচ্ছেন, প্রায় বছর পঁচিশ আগেও এরকম একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাজকোষে টানাটানি চলছিল। তাই মন্দিরের রত্নভাণ্ডার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত। তবে সে উদ্যোগ সফল হয়নি। যারা রত্নভাণ্ডারে ঢুকেছিল তারা সেখানে অসংখ্য কেউটে সাপ দেখে আর এগোনোর সাহস পায়নি। 
এবার তাই আটঘাট বেঁধে এগিয়েছেন স্বয়ং মহারাজ শ্রী চিথিরা তিরুমল বালশর্মা বর্মা। সময় ঠিক হয়েছে একেবারে পাঁজিপুঁথি ঘেঁটে। শান্তি-স্বস্ত্যয়ন যাগযজ্ঞ করে তবে নিজে হাতে নিয়েছেন চাবি। পুরোনো, লোহার তৈরি, তাতে মরচে পড়েছে। রত্নভাণ্ডারের চারটে কুঠুরি। মহাবার্তাকোণঠু, শ্রীপাণ্ডারথু কোণঠু, বেদব্যানা কোণঠু আর সরস্বতী কোণঠু। পণ্ডিতদের বিচার মেনে ঠিক হয়েছে কোন কুঠরি খোলা হবে। ইলেক্ট্রিক আলো আর পাখার ব্যবস্থাও হয়েছে। বাইরে আপৎকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় দাঁড় করানো আছে অ্যাম্বুল্যান্স। কিন্তু এত আয়োজন সত্ত্বেও আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পরও রত্নভাণ্ডারের দরজা খোলা গেল না। দরজা ভাঙতে হল। সেই কুঠুরি থেকে সেবার পাওয়া গিয়েছিল পিতলের তৈরি চারটে সিন্দুক। পুরোনো মুদ্রায় ঠাসা। একটা বস্তা। সেটা সোনা আর রুপোর মোহরে ভর্তি। ছ’‌টা খোপওলা কাঠের সিন্দুক, হিরে-জহরত উপচে পড়ছে। ৩০০টা স্বর্ণপাত্র আর চার পেটি ধনরত্ন। বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ এসব কিছু পাঠানো হল রাজপ্রাসাদে। ঠিক কত অর্থ পাওয়া গেল তা গুনে দেখার জন্য। 
৮০ বছর পরের ঘটনা। ৭ জুলাই, ২০১১। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে খোলা হয়েছিল পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের রত্নভাণ্ডার। যা পাওয়া গিয়েছিল তার আর্থিক মূল্য এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। বস্তাভর্তি হিরে, আড়াই কেজি ওজনের ১৮ ফুট লম্বা সোনার হার, ৫০০ কোটি টাকা দামের বিষ্ণুমূর্তি, সব কিছুই ছিল তাতে।
এই বিপুল রত্নভাণ্ডার কেবল ভক্তের প্রণামিতে গড়ে ওঠেনি, এটা গড়ে তোলার পেছনে ত্রিবাঙ্কুরের রাজারাজড়াদের অবদানও কম নয়। রাজ্যবিজয় থেকে রাজস্ব আদায়, রক্ত-ঘামের অনেক কাহিনী লেপ্টে আছে তাতে।
যে রত্নভাণ্ডারের চাবি উধাও নিয়ে ইদানীং এত হইচই, সেটার বহরও বড় কম নয়। ২০০৭-এর হিসেব মোতাবেক পুরীর রত্নভাণ্ডারে গচ্ছিত সম্পত্তির পরিমাণ একশো কোটি টাকারও বেশি। মাদলা পাঁজি বলছে, ওডিশারাজ অনঙ্গ ভীমদেব নিজেই আড়াই লক্ষ সোনার মোহর দান করেছিলেন তিনটি শ্রীবিগ্রহের গয়না গড়ানোর জন্য। ১৯৫২-র সরকারি নথি অনুযায়ী, জগন্নাথদেবের স্রেফ বাইরের ভাণ্ডারে ছিল শ-দেড়েক সোনার গয়না। সেগুলোর মধ্যে তিনটে হার রয়েছে যেগুলোর প্রতিটির ওজন ১৪ হাজার ৪০ কেজিরও বেশি। তিনটে সোনার মুকুট। জগন্নাথদেবের যেটা সেটার ওজন ৭১ হাজার ৩৭০ কেজি। বলরাম ও সুভদ্রার দুটির ওজন যথাক্রমে ৫০ হাজার ৭৭৮ কেজি ও ৩২ হাজার ১৭৫ কেজি।  
শিরডিতে সাঁইবাবার মন্দির। আজ থেকে বছর পাঁচেক আগে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছিল সেখানকার সম্পদের খতিয়ান। ৩১ মার্চ ২০১৩-র অডিট রিপোর্ট। গয়নাগাটি মণিমাণিক্যের আর্থিক মূল্য ৫০ কোটি ৫৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৪৭৩ টাকা। স্থায়ী আমানতের পরিমাণ ৬২৭ কোটি ৫৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ৪৮৮ টাকা। এর মধ্যে ছিল ২৩ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকার কিষান বিকাশ পত্র। বছরে ২০৬ কোটি টাকারও বেশি অঙ্কের প্রণামি জমা পড়ে মন্দিরে।
মহারাষ্ট্রেরই আর-একটি মন্দির মুম্বইয়ের সিদ্ধি বিনায়ক মন্দির। প্রতিদিন গণেশ দর্শনে আসেন ২৫ হাজার থেকে দু’‌লক্ষ মানুষ। তাঁদের মধ্যে অনেকেই সেলিব্রিটি। দানপাত্রে জমা পড়ে তাঁদের প্রণামি। বছরশেষে দেখা যায় জমা পড়েছে ৪৮ কোটি থেকে ১২৫ কোটির মধ্যে কোনও একটা অঙ্কের টাকা। প্রায় ১৬০ কেজি সোনা মজুত আছে মন্দিরের সিন্দুকে। কড়া পাহারা মোতায়েন সেই সিন্দুকের জন্য। মন্দিরের গম্বুজ সোনা দিয়ে বাঁধানো। সাড়ে তিন কেজিরও বেশি সোনা লেগেছে এই কাজে। পুরোটাই হয়েছে এক ব্যবসায়ীর অর্থে। তিনি আবার কলকাতারই লোক।
বৈষ্ণোদেবীর মন্দির। ১৯৮৫ থেকে এই মন্দির দেখাশোনার দায়িত্বে শ্রীমাতা বৈষ্ণোদেবী শ্রাইন বোর্ড। তাদেরই নথিপত্রে প্রকাশ, প্রতি বছর গড়ে ৪৫ লক্ষ থেকে এক কোটি দর্শনার্থী আসেন ‘‌জয়মাতাদি’‌ ধ্বনিতে আকাশ–বাতাস মুখরিত করে। তাঁদের দেওয়া প্রণামির পরিমাণ গড়ে ৫০০ কোটি টাকা। প্রায় দেড় টন সোনা মজুত এখানকার রত্নভাণ্ডারে। ২০০০-২০১৪, এই কালপর্বে প্রায় ১৯৪ কেজি সোনা প্রণামি হিসেবে জমা পড়ে। পরে দেখা যায় তার মধ্যে ৪৩ কেজিই নকল।
কেরলের গুরুবায়ুর মন্দির। এখানে পূজিত হন শ্রীকৃষ্ণ। ১১০ ফুট লম্বা মন্দিরের পতাকাদণ্ড। পুরোটা সোনা দিয়ে মোড়া। প্রতি বছর ভক্তরা গড়ে ১৫ কেজি সোনা দেন ভগবানকে। শোনা যায়, এ ছাড়া প্রায় ৬০০ কেজি সোনা আছে মন্দিরের রত্নভাণ্ডারে। ভক্তদের প্রণামি থেকে প্রাপ্তি বছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। কেরলের আর-একটি বৈভবশালী মন্দির শবরীমালা। বার্ষিক ভক্ত সমাগমের হার তিন কোটির কাছাকাছি। তাঁদের দেওয়া দক্ষিণা বাবদ প্রাপ্তি নাকি ১০৫ কোটি টাকার আশপাশে। তাছাড়া মন্দিরের রত্নভাণ্ডারে মজুত প্রায় ১৫ কেজি সোনা।
এসবের পাশে রত্নভাণ্ডারের জৌলুসে নেহাতই সাদামাঠা কলকাতার কালীঘাট।
প্রহ্লাদ গোয়েঙ্কার রুজু করা জনস্বার্থ মামলার সূত্রে জানা গিয়েছে ছবিটা। মাত্র কয়েকশো ভরি সোনারুপোর অলঙ্কার। তার বেশির ভাগটাই ব্যাঙ্কের ভল্টে রাখা। সামান্য অংশ দেবীমূর্তির গায়ে। তার মধ্যে আছে সোনার জিভ, দাঁতের পাটি, মুকুট, বালা, চুড়ি, নথ আর মুণ্ডমালা। হাতের খড়্গটি সোনা দিয়ে বাঁধানো। প্রহ্লাদ গোয়েঙ্কার আইনজীবীরা আদালতে দেবীমূর্তির একটি ফোটো দাখিল করেন। ১৯৬৩-তে তোলা। তাতে স্পষ্ট, মূর্তির চারটে হাত সোনার। ২০০৬-এ ওই মামলা চলার সময় সরেজমিনে দেখা যায় হাতগুলি পিতলের। পরে ব্রিটেনে বসবাসকারী এক অনাবাসী ভারতীয় ফের সোনার হাত গড়ে দিয়েছেন। 
কালীঘাটে দেবীর সোনার হাত সকলের চোখের সামনে পিতলের হয়ে গিয়েছিল। পুরীর রত্নভাণ্ডারের চাবি উদ্ধারের পর এরকম কোনও অলৌকিক উধাও ঘটবে কি? ঘটলেও টের পাওয়া যাবে তো? এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। ‌‌■

জনপ্রিয়

Back To Top