তরুণ চক্রবর্তী: সব সময় না হলেও, কখনও কখনও স্বাদ আছে। ইলিশকে নিয়ে সাধও আছে। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে সাধ্য নিয়ে। সাধ্যে কুলোলে আপনিও পেতে পারেন সে-ই ইলিশ! একটু কষ্ট করতে হবে। তাইলেই মিলতে পারে কেষ্ট।
এই তো সেদিন জুলাইয়ের মাঝামাঝি। বাংলাদেশের গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় তিনি ধরা দিলেন। পেল্লাই সাইজ। ২ কেজি ৭০০ গ্রাম। পদ্মাপারের সেই ইলিশ চেখে নয়, পড়েই সুখ। আমজনতার স্বাদ নেওয়ার সাধ্য কী! ঘাটেই তো বিক্রি হয়ে গেল ১৯ হাজার টাকায়। হ্যাঁ, বাংলাদেশি টাকা। সে দেশের ১৯ হাজার মানে আমাদের ১৫ হাজার ৫০০-র কম নয়। এবার ক্যালকুলেটরে হিসেব করে দেখুন কেজি পড়ছে কত করে। তারপরে না হয় পিস–‌এর হিসেব হবে।
সত্যিই আগে, এতটা দুর্লভ ছিল না ইলিশ। দামও ছিল নাগালের মধ্যেই। এই তো কিছুদিন আগেও গেদে বা বনগাঁ দিয়ে চোরাপথে ঢুকত ইলিশের ঝুড়ি। দু-কিলো বা আড়াই কিলো মোটেই হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো বস্তু ছিল না। এক কেজি তো হামেশাই মিলত। এখন নেই। চোরাপথ বা সোজাপথ, কোনও পথেই সীমান্তের ওপার থেকে ইলিশ আসা বন্ধ। 
মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গলের মতোই ইলিশ নিয়ে রয়েছে বাঙাল-ঘটির লড়াই। একপক্ষের দাবি, ইলিশের স্বর্গ গঙ্গা। গঙ্গার ইলিশের আভিজাত্য নাকি সব্বার ওপরে। বহুকাল আগে একবার তরুণকুমার এক আড্ডায় বলেছিলেন, ‘দাদা, যাই বলুন, গঙ্গার ইলিশের তুলনা হয় না। লোকে পদ্মা-পদ্মা বলে ঠিকই। আসলে ইলিশ হচ্ছে গঙ্গার। গঙ্গার ইলিশের স্বাদে সব ভুলে যাই। এমন তুলতুলে নরম, তেমনি গন্ধ! আহ্! জিভে জল চলে এল মাইরি!’
বাঙালরা আবার পদ্মা ভক্ত। পদ্মার নাদুস-নুদুস ইলিশের কাছে নাকি গঙ্গা ফেলনা!  বাংলাদেশের মানুষ পদ্মার ইলিশের সঙ্গে কারও তুলনা করতেই নারাজ। এমনিতেই পদ্মা কলবরে অনেক বড়। গঙ্গার কৌলীন্য না থাকলেও ভরা বর্ষায় পদ্মার সঙ্গে বোধহয় গঙ্গার তুলনা করাটাই ছেলেমানুষি। ইলিশ নিয়েও যদি কথা হয়, গঙ্গার তুলনায় অনেক, অনেক বেশি ইলিশ ধরা পড়ে পদ্মায়। শুধু পদ্মা কেন, গোটা দুনিয়ার মধ্যেই ইলিশ আহরণে বাংলাদেশ সবার ওপরে। বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরাতেও দিঘা-শঙ্করপুর থেকেও এগিয়ে চট্টগ্রাম। 
বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ আমদানি বন্ধ। অসমে এনআরসি নিয়ে এত বিতর্কের মধ্যেও কিন্তু ইলিশের ‘ঘুষপেটিয়া’ বন্ধ হচ্ছে না। বরং সুনামির পর থেকে ইলিশ অবাধে ঢুকে পড়ছে অসমের সীমান্তে। বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম থেকে পদ্মায় ভেসে অসমের ধুবড়িতে ইলিশ আসাটা এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওপারে ইলিশ ধরা বন্ধ হতেই এপারে ধরা পড়ছে ইলিশের ঝাঁক। গত কয়েক বছরে কোচবিহার লাগোয়া ধুবড়ি ইলিশের নতুন ঠিকানা হয়ে উঠেছে। কিন্তু এখনও সেখানে প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে ওঠেনি। তাই ৪০০-৫০০ গ্রামের ইলিশ বিকোচ্ছে মাত্র ১০০ টাকায়। হিমঘর নেই। সুনামি অসমকে দিয়েছে ইলিশ অনুপ্রবেশের মহা সুযোগ। বাঙালির প্রিয় ইলিশের স্বাদে মজেছেন অসমিয়ারাও। 
সে মজুক ক্ষতি নেই। কিন্তু ইলিশের তো আকাল! বড় ইলিশ মিলছে কম। যাও বা মিলছে তার দাম আকাশছোঁয়া। মধ্যবিত্তের সাধ্যের বাইরে। কিন্তু কেন এত দাম? কম তাই, দাম বেশি। অর্থাৎ ইলিশের জোগান কম। বাজার তো ইলিশে-ইলিশে ছয়লাপ। কিন্তু এগুলি বেশিরভাগই সমুদ্র বা মোহনার মাছ। স্বাদ কম। তবে টাটকা হলে গন্ধ পাবেন। হিমঘরে ঢুকলেই ইলিশের সত্যনাশ। অনেক সময় ঝটকা বা ছোট ইলিশের গন্ধেও বাড়িঘর ম-ম করে। তেলও মেলে, মেলে স্বাদ। কারণ? টাটকা। বরফ চাপা থেকে বার করে কেটে ফ্রিজে ভরলেও ইলিশের দফারফা। বড় শৌখিন! 
ইলিশে চেখে নয়, লিখেই যখন দেখব, তখন কুলীনের ভাঁড়ারে নজর দেওয়াই ভাল। পোয়াতি ইলিশের ডিম মাথায় রেখেও বলতে হয়, ডিম ছাড়া মিষ্টি জলের (তা সে গঙ্গাই হোক বা পদ্মার) কালো চর্বিওয়ালা নাদুস-নুদুস চওড়া পেটি লা জবাব। তাই ইলিশের নবাব বাদশাদের সুলুক সন্ধানেই উঁকি মারা যাক।
কুলীনের মধ্যেও কিন্তু জাতভেদ আছে। কোনওটা লম্বা, কোনওটা চওড়া পেট। কোনওটা ধরা পড়েছে চাঁদপুরে। কোনওটা ঘোলা, বরিশাল, দৌলতদিয়া বা মাওয়াঘাটে। পদ্মার হলেই হবে না, স্থান-কাল-পাত্র ভেদে দামও ওঠানামা করে। পছন্দ হলে অবশ্য ইলিশভক্ত বড়লোকেদের দাম নিয়ে কুছ পরোয়া নেহি।
একবার পয়লা বৈশাখে এক বাংলাদেশি শিল্পপতি জানিয়েছিলেন, তিনি এক হালি (৪টি) ইলিশ এক লাখ টাকা দিয়ে কিনেছেন। জানতে চেয়েছিলাম ইলিশের সাইজ। উনি জানিয়েছিলেন, ৭০০-৮০০! তাতেই এত? বললেন, ‘কী করব?‌ বছরের প্রথম দিন ইলিশ না খেলে চলে?‌ তাই নিলাম। এবার ইলিশের খুব দাম। আকাল চলছে।’‌
কুলীন বা সাবালক ইলিশের দাম বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নরকম। চট্টগ্রামে খুবই সস্তা। সমুদ্র থেকে ধরে আনা ইলিশ ৩০০ টাকাতেও পাওয়া যায়। বর্ষায় ইলিশের ভরা মরশুমে দেদার বিক্রি হয় সেই ইলিশ। বাংলাদেশিদের কাছে অবশ্য খুব একটা কদর নেই এই ইলিশের। গন্ধ অসাধারণ। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি।
তখন আগরতলায় থাকি। ছোট্ট শহর। সবাই সবাইকে চেনে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে খুব সখ্য। বাটি চালাচালি লেগেই থাকে। ফ্ল্যাট কালচার এখনও গ্রাস করেনি ত্রিপুরাকে। সে যাই হোক। কর্মসূত্রে ঘন ঘন বাংলাদেশ যেতে হয়। এটা মোটামুটি সক্কলেই জানে। প্রতিবারই আবদার থাকে ইলিশ আনার। সঙ্গে শুঁটকি। শুঁটকি আনলেও সীমান্তের বিধিনিষেধের কারণে ইলিশ আনা হয় না। প্রতিবেশীরা বুঝে গিয়েছেন, এই লোককে বলে লাভ নেই। তাই ইলিশ নিয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। 
চট্টগ্রাম থেকে ফেরার সময় একবার কেজি খানেক ওজনের এক হালি ইলিশ উপহার হিসেবে পেলাম। চারজন ছিলাম। প্রত্যেকের ভাগে পড়ল একটি করে। সীমান্তে অনেক ডায়ালগ খরচ করে ঘরে এসে পৌঁছোল সেই চাটগাঁইয়া ইলিশ। কেউ টের পায়নি। কিন্তু গরম তেলে পড়তেই সারা বাড়ি গন্ধে ভরে গেল। তারপর সেই গন্ধ দাপিয়ে বেড়াল প্রতিবেশীদের নাকেও। এখানেই বিপত্তি। গন্ধ দিলেও ভাগ তো দেওয়া যাবে না। মাত্র তো কয়েক পিস!
গন্ধ হলেও মানতেই হবে স্বাদ কিন্তু অনেক কম। গায়ের সেই তেলতেলে ভাবটাই নেই চাটগাঁইয়া ইলিশের। ভাজার সময়ও তেল অনেক কম বার হয়। তাই লঞ্চে চেপে ঢাকায় এসেও দাম পায় না চট্টগ্রামের ইলিশ। কেজি-র ওপরে উঠলেও ঢাকা শহরে এখন চট্টগ্রামের ইলিশের দাম হাজারের নীচে। কর্ণফুলি বা বঙ্গোপসাগরের ইলিশ ঢাকার অনেকেই সহজে ধরে ফেলেন। এটা অবশ্য আমার-আপনার কম্ম নয়! সদর বাজার বা কওরন বাজারে কান পাতলেই শুনতে পাবেন ইলিশের ঠিকুজি-কুষ্ঠি সব যেন ক্রেতাদের মুখস্থ! পারলে ভাগ্যও বিচার করে দিতে পারেন ইলিশ গনতকারের দল!
ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, ‘আইতে শাল, যাইতে শাল, তার নাম বরিশাল।’ বরিশালের ইলিশের কদর কিন্তু চট্টগ্রামের থেকে একটু হলেও বেশি। বরিশালে কেজির ওপরে উঠলেই ইলিশ ৫০০ তো ছাড়াবেই। ঢাকায় সেটা ১২০০ মিনিমাম। বরিশালের ইলিশ কিন্তু মন্দ নয়। তবে ইলিশের সেরা ঠিকানা চাঁদপুর। বা উল্টোভাবে বলা যায়, চাঁদপুরের পরিচিতিই ইলিশকে ঘিরে। চাঁদপুর না গেলে নাকি ইলিশ-তীর্থ মোটেই পূর্ণ হয় না। ইলিশ ধরা থেকে শুরু করে ইলিশের রোজনামচা দেখতে হলে চাঁদপুর যেতেই হবে। সেখানে ইলিশকে ঘিরে সবকিছু। এমনকী, ফ্যাশন শো-ও হয় ইলিশকে নিয়েই। ইলিশের সবচেয়ে বড় বাজারও সেই চাঁদপুরেই। চলুন ঘুরে আসি ইলিশের রাজধানী।
চাঁদনি রাতে ঢাকা সদরঘাট থেকে বরিশালগামী লঞ্চে চাঁদপুর অভিযান। অভিযান তো বটেই। লঞ্চ তো নয়, যেন জাহাজ! তিনতলা। রয়েছে বিলাসবহুল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কেবিন। সেই কেবিন থেকে মাস্তুল, প্রচুর ভিড়। ডাকাতিয়া, মেঘনা আর পদ্মার সঙ্গমস্থল। ইলিশের এই শহর লঞ্চডুবির জন্য কুখ্যাত। চারিদিকে জল আর জল। কে বলে বাংলাদেশে পানি নাই! এত জল চারিদিকে। সঙ্গে ভয়। লঞ্চডুবির ভয়। ঢেউ আছড়ে পড়ছে লঞ্চের গায়ে। টলে উঠছে অত বড় জলযান। উঠে আসছে দুঃসহ সব লঞ্চডুবির স্মৃতি। নিজেও দেখেছি লঞ্চডুবিতে বুড়িগঙ্গায় ভাসমান লাশ। ভয় কাটাতে লুঙ্গি পরা সারেঙের সঙ্গে জুড়ে দিলাম শ্রাবণে আষাঢ়ে গপ্পো। সেই গপ্পোর মাঝেই সকালবেলার রোদ্দুর নদীতে পা ফেলার আগেই হাজির চাঁদপুর।
সকাল হতেই মেঘনা ও পদ্মায় হাজারো জেলেদের ভিড়। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে তাঁরা জাল টানায় ব্যস্ত। ইয়ামাহা মোটর লাগানো ভুটভুটিতে চেপে মেঘনা ও পদ্মায় এই দল ছেড়ে সেই দল, দিনভর চলল ছুট। ইলিশের সন্ধানে। নদীর স্রোতে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ভেসে চলেছেন জেলেরা। টানছেন জাল। বিশাল বিশাল জাল টেনেও উঠছে না তেমন রুপোলি শস্য। যাও বা উঠছে সাইজ তো পাতে দেওয়ার মতো নয়। হতাশা। সেই হতাশা থেকে আবার জাল টানা। এভাবেই পদ্মাপারে সন্ধে নামে। মাঝিরাই বলছেন, এখন আর আগের মতো সুদিন নেই। আগে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ত ইলিশ। বৃষ্টি হলেই মিষ্টি জলের মায়ায় মশগুল হয়ে উঠত ইলিশের ঝাঁক। ডিম পারার পর তো আরও স্বাদ! ইলিশেরও রয়েছে পুরুষ ও মহিলা প্রজাতি। পুরুষদের কদর বেশি। তাঁরা চেনেন। জলেই যে তাঁদের জীবন! পদ্মার ঢেউ তাঁদের কাছে ডাল-ভাত না হলেও জলভাত তো বটেই। তাই ইলিশ উঠুক বা নাই উঠুক, পদ্মায় মাছ ধরার নেশা তাঁরা ছাড়তে নারাজ।
চাঁদপুর মাছের বাজারে কিন্তু হতাশা নেই। ২৪ ঘণ্টা গমগম করছে ভিড়। গোটা বাজারটাই বরফের স্তূপে। ইলিশে ইলিশে ছয়লাপ। বাজারের সামনে সগর্বে ঘোষণা ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইলিশ বাজার’‌। তর্কে লাভ নেই। সত্যিই এত ইলিশ! ভাবা যায়!‌ সবরকম সাইজের রয়েছে। চাইলে সিন্দুক থেকে (হ্যাঁ, সিন্দুকের মতো বাক্সেই বরফ দিয়ে রাখা থাকে বাছাই করা ইলিশ) কুলীনদের মধ্যেও সম্ভ্রান্ত ইলিশ আপনার সামনে হাজির করবেন। দেখলেই জিভে জল আসতে বাধ্য। দামটা অবশ্য সাধারণের সাধ্যের বাইরে।
ইলিশ আছে। স্বাদও আছে। কিন্তু মানুষের জনসংখ্যা বাড়লেও তাদের সংখ্যা কমছে। কমার সবচেয়ে বড় কারণ বিস্বাদের ইলিশ! মোহনায় বা মাঝ সমুদ্রেই ধরা পড়ায় মিঠে জলের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আম বাঙালি। এক্ষেত্রে দিঘা বা শঙ্করপুরের মতোই ছবি চট্টগ্রাম বা বরিশালের। তা ছাড়া মিঠে জলে পড়েও কি শান্তি আছে! ঝটকা (‌ খোকা)‌ অবস্থাতেই ধরা পড়ছে জালে। জালও তো আর আগের মতো নেই। হরেক কিসিমের জাল বেরিয়ে পড়েছে। রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ব্যাটারি জালও। তাই অল্প বয়সেই বেঘোরে মরছে ইলিশের দল। ভবিষ্যৎ শেষ হচ্ছে খুব বেশি হলে কৈশোরেই। সাবালকত্ব এখন অনেকটাই দূরঅস্ত।
কলকাতার বাজারে নাদুসনুদুস ইলিশ গত কয়েক বছর ধরেই আসছে। বেশ বড়। ২-৩ কেজিও হতে পারে। কিন্তু সবই হায়-হায় কোম্পানির! মানে একবার কিনলেই আর কিনতে মন চাইবে না। কারণ আরব সাগরের ইলিশে স্বাদ বা গন্ধ কিছুই নেই। তাই বলিউডের সিনেমার কদর থাকলেও মুম্বইয়ের ইলিশ সিলভার কার্পের থেকেও খারাপ। একই কথা প্রযোজ্য মায়ানমারের ক্ষেত্রেও। তবু অনেকে মনে করেন, আগে রূপ বিচারি...!
অনেকের আশঙ্কা, ইলিশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। যে হারে অঙ্কুরেই বিনাশ হচ্ছে, তাতে আগামী প্রজন্মের কাছে ইলিশও ডাইনোসর না হয়ে যায়! আশঙ্কা অমূলক নয়। দু দেশের সরকার (‌এখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার)‌ ইলিশ বাঁচাতে বদ্ধপরিকর। বর্ষায় ভেতো বাঙালির ইলিশ না হলে চলে না! সেটা এপারেই হোক, ওপারেই হোক।
ইলিশ নিয়ে এপারেও তো উৎসবের অন্ত নেই। পাড়ায় পাড়ায় ইলিশ উৎসব। ভাল।
তাই ইলিশের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রয়োজনই বা কী! ইলিশ তো ইলিশ-ই। হিমঘরে না ঢুকলেই হল। কাঁচা ইলিশের গন্ধে তেমন তারতম্য নেই। আর গঙ্গা বা পদ্মার কুলীন ইলিশের স্বাদ পেতে সাধ্যটা একটু বেশি দরকার। 
তবে যবেই ইলিশ খান না কেন, গন্ধ কিন্তু থাকবে বহুদিন। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top