সম্রাট মুখোপাধ্যায়: ছবির নাম হতে পারত ‘‌শেষের কবিতা বৃদ্ধাশ্রম’‌। কারণ এই ছবির মূল পাত্র–‌পাত্রীরা বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা বা তার সঙ্গে সংশিষ্ট।
এবং এটি শেষের কবিতা পার্ট টু–‌‌ও। কারণ নানা চরিত্রের ভিড়ে রবি ঠাকুরের ‘‌শেষের কবিতা’‌র তিনটি চরিত্র এই বৃদ্ধাশ্রমে চলে এসেছে। অমিত রে (‌‌সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়)‌, তার বোন সিসি (‌‌পল্লবী চট্টোপাধ্যায়)‌‌ এবং অমিতের যৌবনে শিলং পাহাড়ে ছেড়ে আসা প্রেমিকা লাবণ্য দত্ত (‌‌মমতাশঙ্কর)‌‌। বাকিদের সঙ্গে রবি ঠাকুরের কোনও আলাপ ছিল না।
‌‌ এই নিয়েই পরিচালক জিৎ চক্রবর্তীর শেষের গল্প।
না, সে সব সাদা–‌কালো ‘‌রঙিন’‌‌ দিনের কোনও ছিটে‌‌ফোঁটাও এই ‌ছবিতে নেই। কমবয়সি অমিত–‌লাবণ্যের প্রেম এখানে শুধুই স্মৃতি। অথবা, আছে, একটু ঘুরপথে (‌বা ঘোরালো পথে)‌ রাখার চেষ্টা আছে। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো অমিতের ভাগনি কুহু (‌দুর্গা সাঁতরা)‌ আর লাবণ্যের ভাইপো (‌সেই যে লাবণ্যের ভাই যতিশঙ্কর, যাঁর কথা উপন্যাসে ছিল, এই ‘‌রেফারেন্স’‌টা পেয়ে দর্শক আবার একটু নড়েচড়ে উঠতে পারবেন, সেই যতিশঙ্করের ছেলে)‌ আকাশ (‌অণু মুখোপাধ্যায়, থিয়েটারের নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় মুখ)‌— এই দু’‌জনের প্রেম দেখিয়ে।
অমিত–‌লাবণ্যের প্রেমের ‘‌ক্লাসিকতা’‌ বা ‘‌চিরন্তনতা’‌ কোনও কিছুর ছাড়াই কি এতে আছে?‌ এই ‌ছবিতে ‘‌শেষের কবিতা’‌র সেই ‘‌শিলং’‌ নেই। বদলে আছে লং শটে ‘‌শিলং’‌–‌এর কিছু ফটোগ্রাফ!‌ এ–‌ও যেন তাই!‌
আর মাঝে মাঝে অমিত–‌লাবণ্যকে ঘিরে যা আছে, তা হল কখনও অমিতের ভাগনির সঙ্গে রেকর্ড চালিয়ে পার্টি ডান্স বা বৃদ্ধাশ্রমের বোর্ডারদের সামনে কখনও লাবণ্যের ‘‌এ‌ কি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ’‌ রবীন্দ্রসঙ্গীত চালিয়ে নাচ। অমিত পরে থাকে ট্রাকশ্যুট ও হাল–‌ফ্যাশনের চড়া রঙের টি শার্ট, কিন্তু কথা বলে প্রায় উনিশ শতকীয় কেতায়। থাকে বৃদ্ধাশ্রমে অথচ ‘‌নিবারণ চক্রবর্তী’‌ নামক ছদ্মবেশটি বজায় রেখেছে। লাবণ্য এখন অক্সফোর্ড ফেরত অধ্যাপিকা। তবে ফের ফিরে যাবে ফিরে যাবে করছে। তাঁদের দেখা হয় বৃদ্ধাশ্রমে। প্রথম দেখা হওয়ার মুহূর্তটি আশা জাগায়। দু’‌জন অভিজ্ঞ অভিনেতা–‌অভিনেত্রী প্রাণপাত চেষ্টাও করেন। কিন্তু এই ‌ছবির সৃজনী শক্তির অভাবে কিছু্ই যেন দানা বাঁধে না।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top