সম্রাট মুখোপাধ্যায়: ●‌ শান্তিলাল ও প্রজাপতি রহস্য। পরিচালনা:‌ প্রতিম ডি গুপ্ত। অভিনয়ে:‌ ঋত্বিক চক্রবর্তী, পাওলি দাম, গৌতম ঘোষ, অলকনন্দা রায়, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, শঙ্কর চক্রবর্তী, চিত্রাঙ্গদা চক্রবর্তী।
‘‌ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম’‌। তদন্তমূলক সাংবাদিকতা। গোয়েন্দাগিরির তুতো ভাই।
প্রতিম ডি গুপ্ত, প্রাক্তন সাংবাদিক, অধুনা চিত্র পরিচালক একটা কাজের কাজ করেছেন। তাঁর ‘‌শান্তিলাল ও প্রজাপতি রহস্য’‌ নামের ছবিতে নায়ক একজন সাংবাদিক এবং অন্তর্তদন্তমূলক‌‌ সাংবাদিক।
সাড়ে তিন দশক আগে বলিউডে তৈরি হয়েছিল এক পলিটিকাল কমেডি ছবি ‘‌জানে ভি দো ইয়ারো’‌। কুন্দন শা–‌‌র এ ছবিতে দুই চিত্র সাংবাদিক যেমন ‘‌কেঁচো খুঁড়তে কেউটে’‌ বের করে ফেলেছিল আর গোটা গল্পটাই একটু ‘‌পাল্প’‌ গোছের কায়দায় কমেডি মিশিয়ে পরিবেশিত হয়েছিল, ‘‌শান্তিলাল ও প্রজাপতি রহস্য’‌তেও যেন প্রতিমের খেলার ধরনটা তেমনই।
রহস্য আর কমেডি নিয়ে সত্যিই বিপজ্জনক এক অঞ্চলের ডকুমেন্টেশানে ঢুকে পড়েছে এ ছবির মাঝখানটা। নীল ছবি তৈরির আখড়া এবং ছড়ানো জাল। সাংবাদিক হিসেবে যে জগতের পিছু নেয় শান্তিলাল। আর তার সামনে ক্রমশ উন্মোচিত হতে থাকে এক অজানা জগৎ। দর্শকও পিছু নেয় শান্তিলালের। এই জগৎ, তার চিত্রায়ণ ইত্যাদিকে অবশ্য মোটামুটি সহনশীল দৃশ্যগ্রাহ্যতার মধ্যেই রেখেছেন প্রতিম। মধ্যবিত্ত দর্শকের ‘‌ভয়্যারিজম’‌–‌কে তৃপ্ত করা অথচ সহ্য ক্ষমতার মধ্যে ব্যাপারটাকে রাখা এই ভারসাম্যটা প্রতিম বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।
কড়া কফির কাপে দর্শককে চুমুক দেওয়াতে পরিচালক প্রতিমের প্রলোভন তীর হল ‘‌কমেডি’‌। তাঁর নায়ক শান্তিলাল তাই ‘‌চ্যাপলেনিস্ক’‌ ঢঙে আপাত ব্যর্থ এক  রিপোর্টার। 
সে শুধু আবহাওয়ার খবর লিখে চলে। আর ছুটি কিংবা সুযোগ–‌সুবিধা চাইতে গেলে প্রবল ধমকানি খায় নিউজ এডিটরের (‌গৌতম ঘোষ)‌ কাছ থেকে। তার মা–‌ও (‌অলকানন্দা রায়)‌ চিন্তিত ছেলের বহুদিন ‘‌বাইলাইন’‌ না পাওয়া নিয়ে। সহকর্মী টাইগার (‌শঙ্কর চক্রবর্তী)‌ চেষ্টা করে তার ‘‌স্পেশ্যাল স্টোরি’‌ জেনে নিয়ে ‘‌লিক’‌ করে দিতে। এমনকী অফিসের জুনিয়র রিপোর্টার ক্যান্ডিও (‌চিত্রাঙ্গদা চক্রবর্তী)‌ পাত্তা দেয় না তাকে। আর জীবনের এমন জলবায়ুর মধ্যে বাঁচতে বাঁচতেই একদিন এক অদ্ভুত রহস্যের সাক্ষী হয়ে যায় শান্তিলাল।
বাইরের জগতে আপাত ব্যর্থ, অন্তর্মুখী শান্তিলাল একটা সময়েই খালি নিজেকে খুঁজে পায়। রাতে বন্ধ ঘরে যখন সে খুলে বসে তাঁর পর্ণো ছবির ভাঁড়ার। আর এমনই এক ছবির ভেতরে সে খুঁজে পায় এক অভিনেত্রীকে। যার কোমরে একটি প্রজাপতির ট্যাটু আছে। আবার এক ছবির প্রিমিয়ারে নামী নায়িকা নন্দিতার (‌পাওলি দাম)‌ কোমরেও সেই একই ট্যাটু দেখতে পায় শান্তিলাল (‌এ দৃশ্যে অবশ্য তার লেডিজ বাথরুমে ঢুকে লুকিয়ে থাকাটা অলীক ও আরোপিত লেগেছে)‌। তাহলে কি নন্দিতা আর নীল ছবির নায়িকা মীনাক্ষী এক?‌ এ প্রশ্নের খোঁজে শান্তিলাল চলে যায় চেন্নাই। সেখানে নীল ছবির শুটিং স্পটেও পৌঁছে যায় সে। সহায় হয় হঠাৎই এসে পড়া (‌এবং যেন জোর করে এসে পড়া)‌ বাঙালি রকেটরঞ্জন। অম্বরীশ ভট্টাচার্য অবশ্য নিজের রসবোধ দিয়ে চরিত্রটিকে সজীব রেখেছেন। ওইখান থেকে শান্তিলাল চলে যায় সিঙ্গাপুরে, এই ব্যবসার আসন মালকিন রোশনির কাছে। এমন অসমতল চরিত্রে ঋত্বিক বরাবরই ‘‌চ্যাম্পিয়ন’‌। এবারও তাই। পাওলিও বিষাদে–‌গ্ল্যামারে অব্যর্থ। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top