আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছবিটা শেষ করার পর প্রথম যে দু’‌টো শব্দ মাথায় আসে, তা হল ‘‌প্রয়োজনীয়’‌ ও ‘‌অপ্রয়োজনীয়’‌। কেন প্র‌য়োজনীয়?‌ প্রথমত, অভিনয়। ‌‘‌হম তুমহে মার নহি রহে হ্যায়। হম মুক্ত কর রহে হ্যায়।’‌ ব্যস! সত্তু ভাইয়ার (পঙ্কজ ত্রিপাঠী) মাজিক চালু। গোটা ছবি জুড়েই যা দর্শককে অবাক করে গিয়েছে। একটা শব্দে বললে, ভগবানতুল্য (যদি ধরে নিই, ‘‌ভগবান’‌ এক অবর্ণনীয় শক্তি)। কিন্তু বাকিরাও ছয়ের পর ছয় মেরে গিয়েছেন। রাজকুমার রাও, সানিয়া মালহোত্রা, অভিষেক বচ্চন, ফতিমা সানা শেখ, আদিত্য রয় কাপুর, রোহিত সরফ, পার্লে মানে, ছোট্ট ইনায়াত ভার্মা, ইশতায়াক খান, শালিনী ভাতসা, প্রমুখ। দ্বিতীয়ত, চরিত্রায়ন। এটা নতুন না। পরিচালক অনুরাগ বসু এই কাজটির জন্য বহুদিন ধরেই ‘‌ক’‌ পেয়ে আসছেন। এখানেও তাই। এরকমটা নয় যে এমন চরিত্র আশেপাশে দেখা যায় না বা আগে কোনও ছবিতে দেখা যায়নি। কিন্তু তাদের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্য হাসি ফুটবে দর্শকের মুখে৷ তৃতীয়ত, কাস্টিং। অর্থাৎ অভিনেতা বেছে নেওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত খেটেছেন সকলে, সেটা স্পষ্ট। ক্যাটরিনা কইফকে না নিয়ে ফতিমা, সানিয়া, শালিনী, পার্লে, ইনায়াতকে কাস্ট করায় ছবির খামতিগুলো অনেকটা ঢাকা পড়ে গিয়েছে। পুরুষ অভিনেতাদের ক্ষেত্রে যদিও বক্স স্টারদের কাস্ট করা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা সুপারস্টারের চাইতে অভিনেতা হিসেবেই বেশি পরিচিত। আর দর্শকদের একবারের জন্যেও হতাশ করেননি পুরুষেরা। মহিলারা তো তুরুপের তাস বটেই। চতুর্থত এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, ভায়োলেন্সের ব্যবহার। যা আগে বসুর ছবিতে অন্যভাবে আসত। কিন্তু এই ছবিতে ডার্ক কমেডির ধারাটা বজায় রেখেছেন তিনি। এই একটিমাত্র জায়গায় তিনি নিজের ধাঁচ থেকে বেরিয়েছেন। পঞ্চমত, কম সংলাপ। প্রেম বা অপ্রেম, যাই বোঝানোর দরকার তা কথাবার্তার চাইতে চোখ, হাত, পায়ের মাধ্যমে বেশি বোঝাতে চেয়েছেন পরিচালক। মোদ্দা কথায়, চারটি গল্প ও তাঁদের মাঝের সুতো অর্থাৎ পঙ্কজ ত্রিপাঠী আলাদা আলাদা করে দেখলে চমৎকার। কিন্তু প্রত্যেক গল্পকে লুডোর চারটি রঙ ও ১৬টি গুটির সঙ্গে মেলানোর জন্য যে কসরৎ করা হয়েছে, তা বড্ড অপ্রয়োজনীয়। উপমার ব্যবহার বড্ড আরোপিত। কিন্তু ছবির শুরু আধঘণ্টায় তাঁর গল্প বলার ধরনের প্রেমে পড়ে যাওয়া যায়। তার পর থেকেই কেমন যেন থিতিয়ে গেল সবটা। তার ওপরে জ্ঞান। অনুরাগ বসু কখনও এত জ্ঞান দিতেন না তাঁর ছবিতে। এবারে জ্ঞান দেওয়ার জন্য একেবারে ক্যামেরার সামনে যমরাজ রূপে প্রকট হয়েছেন। যমরাজ (‌অনুরাগ বসু)‌ ও চিত্রগুপ্তর (‌রাহুল বগ্গা)‌ কথোপকথনটা অনেকটা ‘‌শক্তিমান’ সিরিয়ালের উপসংহারগুলোর মতো। ‘‌অপ্রয়োজনীয়’‌ বলার কারণের সংখ্যা এখানেই শেষ নয়। ভায়োলেন্সের নতুন ধরনের ব্যবহার ছাড়া আর কোনও ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে ভাঙতে পারেননি। সেই একরকম ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যবহার। কেবলমাত্র ‘‌ভগবান দাদা’ ছবির ‘ও বেটাজী’ গানের ব্যবহারগুলো অসাধারণ। এছাড়া‌ অভিষেক বচ্চন ও ইনায়াত ভার্মার গল্প, সেখানে ক্যামেরার কাজ, দু’‌জনের সম্পর্ক বারবার ‘‌বরফি’ ছবির কথা মনে করিয়ে দেবে। ‌কিছু কিছু চেজিং সিকোয়েন্সও (‌পালানোর দৃশ্য) ‌‘‌বরফি’–এর মতো। ক্যামেরার ফ্রেমগুলোও তাঁর আগের দু’‌টি ছবির থেকে আলাদা নয়। যতই ওপরে ওপরে গার্নিশিং বদলান, খাদ্যবস্তুটি সেই একই উপাদানে তৈরি। স্বাদ একই। কিন্তু কোনও কোনও গ্রাসে গার্নিশিংয়ের নতুন উপাদান মুখে পড়ে গেলে ক্ষণিকের আনন্দ। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top