অলোকপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়: কিছু অন্যরকম মানুষ, কিছু অন্যরকম ঘটনা, যা আমাদের চারপাশেই আছে, অথচ অনেকের সেভাবে নজর পড়ে না, সেটাই বুদ্ধি ও হৃদয় দিয়ে বহুমূল্য রত্নের মত গ্রহণ করেন এবং দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। সম্প্রতি ‘‌সিনেমাওয়ালা’‌, ‘‌ছোটদের ছবি’তে তার প্রমাণ মিলেছে। তাঁর মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘‌নগরকীর্তন’‌ও সেই প্রমাণ দেবে। আর, পুজোয় মুক্তি পাওয়া কৌশিকের ‘‌কিশোরকুমার জুনিয়র’‌-‌এর ভাবনাও সেরকমই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
কণ্ঠী গায়ক, গায়িকার গান শোনেননি, এমন মানুষ কী শহরে, কী গ্রামে দুর্লভ। আর কণ্ঠীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যার শিল্পীই কিশোরকুমারের গান করেন, এটা নিয়েও কোনও সন্দেহ নেই। তেমনই এক কিশোর-‌কণ্ঠী শিল্পীকে নিয়েই কৌশিকের ছবি ‘‌কিশোরকুমার জুনিয়র’‌। এই শিল্পী এমনই এক কিশোর-‌নিবেদিত মানুষ যে তার নিজস্ব নামটাও ক্রমশ হারিয়ে যায়, তার পরিচয় হয়ে ওঠে ‘‌কিশোরকুমার জুনিয়র’‌। কিশোরকুমার তার ভগবান, কিশোরকুমারের গান গেয়েই তার যশ, খ্যাতি, বেঁচে থাকা।
কতটা যশ?‌ কতটা খ্যাতি?‌ শহর, গ্রাম, মফস্‌সলের মাচার পর মাচায় তার গান শুনতে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। তাদের হাততালি। তাদের উল্লাস। এই উল্লাস, হাততালি তো তার গান শুনেই। হতে পারে, সেই গান কিশোরকুমার গেয়েছেন। কিন্তু মঞ্চে তো গাইছেন এই কণ্ঠী-‌শিল্পীই। হাজার হাজার মানুষের মন তো জয় করছেন এই কণ্ঠী গায়কই। এটা কি চাট্টিখানি কথা?‌
কিন্তু, এই কৃতিত্বকে, এই যশকে, এই হাততালির বেলুনকে ফুটো করে দেয় তারই কিশোরপুত্র, যে গিটার বাজিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নতুন গান গায়, ব্যান্ড তৈরির স্বপ্ন দেখে।
‘‌কী গান গাও তুমি?‌ একটাও নিজের গান আছে?‌ কিশোরকুমার ভাঙিয়ে আর কতদিন চলবে?‌ তুমি কে?‌ সারা জীবন শুধু ‘‌কিশোরকুমার’‌, কিশোরকুমার’‌ করে হেদিয়ে গেলে। লজ্জা করে না তোমার?‌’‌
এই রকম সব প্রশ্ন তীরের মতো ধেয়ে আসে এই কিশোরকণ্ঠী গায়কের দিকে।  তীর ছোঁড়ে তারই পুত্র। মাচা সেরে মদ্যপ হয়ে বাড়ি ফিরে এমন সব প্রশ্নে বিধ্বস্ত হয়ে যায় কিশোর-‌কণ্ঠী গায়ক। চিৎকার করে। চড় মারে বৌকে। গালাগাল করে ছেলেকে। তারপর মাতাল হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন সকালে অন্য মানুষ হয়ে জেগে ওঠে সে। বাজারে যায়। মাছ কেনে। তারপর, পাড়ার চায়ের দোকানে গুছিয়ে বসে চা খায়। আগের দিন মাচা কাঁপিয়ে আসা জনপ্রিয় এই কণ্ঠী-‌শিল্পী তখন পাড়ার মানুষ। একজন, দুজন তাকে অনুরোধ করে গান শোনানোর। চা খেতে খেতেই গান ধরে এই কিশোর-‌কণ্ঠী। ‘‌কী আশায় বাঁধি খেলাঘর’‌। ভিড় জমে যায়। লোকজন মুগ্ধ বিস্ময়ে তার গান শোনে। সেই ভিড় থেকে উঁকি দেয় একটা কিশোরের মুখ। কণ্ঠী-‌গায়কের পুত্র, যে আগের রাতে বাবাকে অপমানে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে।
এক অনবদ্য দৃশ্য রচিত হয় পরিচালকের মুন্সীয়ানায় আর কিশোর-‌কণ্ঠী গায়ক প্রসেনজিতের গভীর অভিনয়ে।
এ-‌ভাবে যখন এক কণ্ঠী-‌গায়কের জীবনের আনন্দ, বেদনায় ঢুকছিলাম আমরা দর্শকেরা, ভাবছিলাম, ওই মানুষটার লড়াই, গান, জয়, হেরে যাওয়া, মাচা, সংসার সব কিছুকে নিয়ে এক কণ্ঠী-‌গায়কের আত্মপরিচয় খোঁজার জার্নির অংশীদার হব আমরা, তখনই, ক্রমশ, এক থ্রিলারের দিকে এগিয়ে গেলেন পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। ফলে, ‘‌কিশোরকুমার জুনিয়র’‌ ঠিক দুটো ভাগে ভাগ হয়ে গেল। প্রথম অংশ কণ্ঠী-‌গায়কের জীবনের অসম্পূর্ণ খণ্ড হয়ে থেকে গেল। দ্বিতীয় অংশ হয়ে উঠল এক রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার। সেই থ্রিলার যে জমজমাট সন্দেহ নেই। কিন্তু কোথায় যেন প্রথম অংশের সঙ্গে দ্বিতীয় অংশ তেলে-‌জলে হয়ে গেল। মিশল না।
দ্বিতীয় অংশে ভারত-‌পাকিস্তান মৈত্রী প্রচেষ্টার অঙ্গ হিসেবে কিশোর-‌কণ্ঠী গায়ককে গান গাইতে যেতে হয় ভারত-‌পাক সীমান্তে। সেখানে তাকে এবং তার সঙ্গীদের অপহরণ করে একদল লোক। তারা কারা?‌ তারা কি জঙ্গী?‌ তারা কি পাকিস্তানি?‌ কিশোর-‌কণ্ঠীর সঙ্গে ছিল তার স্ত্রী এবং মিউজিশিয়ানরা। সকলেই অপহৃত এবং বন্দী। তারা কি উদ্ধার পাবে?‌ কীভাবেই বা সেটা সম্ভব?‌ জয়সলমীরের পটভূমিতে এক রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার। প্রাণে বাঁচার কৌশল হিসেবেই যেন সেখানে একটার পর একটা গান গাইতে হয় কিশোর-‌কণ্ঠীকে। আর, বাঙালি রান্না দিয়ে অপহরণকারী অবাঙালিদের মন জয়ের চেষ্টা চালায় গায়কের স্ত্রী। আদতে কি সেটা সম্ভব হবে?‌ প্রাণে বাঁচবে গায়ক ও তার সঙ্গীরা? এই প্রশ্ন থ্রিলারের আবহেই জাগিয়ে রাখেন পরিচালক। উত্তর দেবে এই ছবি, পর্দায়।
এ ছবির সবচেয়ে বড় সম্পদ প্রসেনজিতের অভিনয় এবং কুমার শানুর কণ্ঠে কিশোরকুমারের বেশ কিছু জনপ্রিয় বাংলা ও হিন্দি গান। মাচায় অনুষ্ঠান বহু বছর ধরেই করেছেন প্রসেনজিৎ। কিন্তু সেই অনুষ্ঠান করেছেন স্বয়ং প্রসেনজিৎ। এই ছবিতে কিশোরকুমার জুনিয়র হয়ে যেভাবে মাচা মাতিয়ে দিলেন তিনি, তা সত্যিই অনবদ্য। আর, জয়সলমীরে ‘‌সিং নেই তবু নাম তার সিংহ’‌ গানের সঙ্গে প্রসেনজিতের অভিনয়—ভোলা যাবে না। কখনও মদ্যপ, কখনও আদ্যন্ত সংসারী, কখনও প্রাণবন্ত‌, কখনও বিধ্বস্ত, কখনও পাড়ার চায়ের দোকানের আড্ডাবাজ—প্রতিটি ভূমিকা নিপুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর স্ত্রীর ভূমিকায় অপরাজিতা আঢ্য এবং ছেলের চরিত্রে ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় খুব সুন্দর। জুনিয়রের চেলা, মিউজিক দলের সঙ্গী, বাঁশি-‌বাদকের ভূমিকায় লামা চমৎকার। ভাল লাগে রাজেশ শর্মার অভিনয়। ক্যামেরায় গোপী ভগত ও সঙ্গীতে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর ভূমিকা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য।
সব মিলিয়ে, ‘‌কিশোরকুমার জুনিয়র’‌ এক অন্যরকম ছবি। মৌলিক ভাবনার ছবি। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা তিনিই বাড়িয়েছেন। তাই, মনে হয়েছে, ‘‌‌কিশোরকুমার জুনিয়র’‌কে তিনি দুটি ভাগে ভাগ করে দিয়েছেন। মনে হয়েছে, এক ছবিতে দুটো ছবি বুনেছেন তিনি। তবে, ছবির শেষে তিনি ‘‌সম’‌-‌এ ফিরেছেন। সেই প্রাপ্তিও কম নয়, যা, একই সঙ্গে আমাদের ভালো লাগা ও বিষন্নতাকে একটা বিন্দুতে মিশিয়ে দেয়। এবং তখন সত্যিই আমরা ফিরে পাই কিশোরকুমার জুনিয়রকে।
কিছু অন্যরকম মানুষ, কিছু অন্যরকম ঘটনা, যা আমাদের চারপাশেই আছে, অথচ অনেকের সেভাবে নজর পড়ে না, সেটাই বুদ্ধি ও হৃদয় দিয়ে বহুমূল্য রত্নের মত গ্রহণ করেন এবং দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। সম্প্রতি ‘‌সিনেমাওয়ালা’‌, ‘‌ছোটদের ছবি’তে তার প্রমাণ মিলেছে। তাঁর মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘‌নগরকীর্তন’‌ও সেই প্রমাণ দেবে। আর, পুজোয় মুক্তি পাওয়া কৌশিকের ‘‌কিশোরকুমার জুনিয়র’‌-‌এর ভাবনাও সেরকমই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
কণ্ঠী গায়ক, গায়িকার গান শোনেননি, এমন মানুষ কী শহরে, কী গ্রামে দুর্লভ। আর কণ্ঠীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যার শিল্পীই কিশোরকুমারের গান করেন, এটা নিয়েও কোনও সন্দেহ নেই। তেমনই এক কিশোর-‌কণ্ঠী শিল্পীকে নিয়েই কৌশিকের ছবি ‘‌কিশোরকুমার জুনিয়র’‌। এই শিল্পী এমনই এক কিশোর-‌নিবেদিত মানুষ যে তার নিজস্ব নামটাও ক্রমশ হারিয়ে যায়, তার পরিচয় হয়ে ওঠে ‘‌কিশোরকুমার জুনিয়র’‌। কিশোরকুমার তার ভগবান, কিশোরকুমারের গান গেয়েই তার যশ, খ্যাতি, বেঁচে থাকা।
কতটা যশ?‌ কতটা খ্যাতি?‌ শহর, গ্রাম, মফস্‌সলের মাচার পর মাচায় তার গান শুনতে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। তাদের হাততালি। তাদের উল্লাস। এই উল্লাস, হাততালি তো তার গান শুনেই। হতে পারে, সেই গান কিশোরকুমার গেয়েছেন। কিন্তু মঞ্চে তো গাইছেন এই কণ্ঠী-‌শিল্পীই। হাজার হাজার মানুষের মন তো জয় করছেন এই কণ্ঠী গায়কই। এটা কি চাট্টিখানি কথা?‌
কিন্তু, এই কৃতিত্বকে, এই যশকে, এই হাততালির বেলুনকে ফুটো করে দেয় তারই কিশোরপুত্র, যে গিটার বাজিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নতুন গান গায়, ব্যান্ড তৈরির স্বপ্ন দেখে।
‘‌কী গান গাও তুমি?‌ একটাও নিজের গান আছে?‌ কিশোরকুমার ভাঙিয়ে আর কতদিন চলবে?‌ তুমি কে?‌ সারা জীবন শুধু ‘‌কিশোরকুমার’‌, কিশোরকুমার’‌ করে হেদিয়ে গেলে। লজ্জা করে না তোমার?‌’‌
এই রকম সব প্রশ্ন তীরের মতো ধেয়ে আসে এই কিশোরকণ্ঠী গায়কের দিকে।  তীর ছোঁড়ে তারই পুত্র। মাচা সেরে মদ্যপ হয়ে বাড়ি ফিরে এমন সব প্রশ্নে বিধ্বস্ত হয়ে যায় কিশোর-‌কণ্ঠী গায়ক। চিৎকার করে। চড় মারে বৌকে। গালাগাল করে ছেলেকে। তারপর মাতাল হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন সকালে অন্য মানুষ হয়ে জেগে ওঠে সে। বাজারে যায়। মাছ কেনে। তারপর, পাড়ার চায়ের দোকানে গুছিয়ে বসে চা খায়। আগের দিন মাচা কাঁপিয়ে আসা জনপ্রিয় এই কণ্ঠী-‌শিল্পী তখন পাড়ার মানুষ। একজন, দুজন তাকে অনুরোধ করে গান শোনানোর। চা খেতে খেতেই গান ধরে এই কিশোর-‌কণ্ঠী। ‘‌কী আশায় বাঁধি খেলাঘর’‌। ভিড় জমে যায়। লোকজন মুগ্ধ বিস্ময়ে তার গান শোনে। সেই ভিড় থেকে উঁকি দেয় একটা কিশোরের মুখ। কণ্ঠী-‌গায়কের পুত্র, যে আগের রাতে বাবাকে অপমানে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে।
এক অনবদ্য দৃশ্য রচিত হয় পরিচালকের মুন্সীয়ানায় আর কিশোর-‌কণ্ঠী গায়ক প্রসেনজিতের গভীর অভিনয়ে।
এ-‌ভাবে যখন এক কণ্ঠী-‌গায়কের জীবনের আনন্দ, বেদনায় ঢুকছিলাম আমরা দর্শকেরা, ভাবছিলাম, ওই মানুষটার লড়াই, গান, জয়, হেরে যাওয়া, মাচা, সংসার সব কিছুকে নিয়ে এক কণ্ঠী-‌গায়কের আত্মপরিচয় খোঁজার জার্নির অংশীদার হব আমরা, তখনই, ক্রমশ, এক থ্রিলারের দিকে এগিয়ে গেলেন পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। ফলে, ‘‌কিশোরকুমার জুনিয়র’‌ ঠিক দুটো ভাগে ভাগ হয়ে গেল। প্রথম অংশ কণ্ঠী-‌গায়কের জীবনের অসম্পূর্ণ খণ্ড হয়ে থেকে গেল। দ্বিতীয় অংশ হয়ে উঠল এক রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার। সেই থ্রিলার যে জমজমাট সন্দেহ নেই। কিন্তু কোথায় যেন প্রথম অংশের সঙ্গে দ্বিতীয় অংশ তেলে-‌জলে হয়ে গেল। মিশল না।
দ্বিতীয় অংশে ভারত-‌পাকিস্তান মৈত্রী প্রচেষ্টার অঙ্গ হিসেবে কিশোর-‌কণ্ঠী গায়ককে গান গাইতে যেতে হয় ভারত-‌পাক সীমান্তে। সেখানে তাকে এবং তার সঙ্গীদের অপহরণ করে একদল লোক। তারা কারা?‌ তারা কি জঙ্গী?‌ তারা কি পাকিস্তানি?‌ কিশোর-‌কণ্ঠীর সঙ্গে ছিল তার স্ত্রী এবং মিউজিশিয়ানরা। সকলেই অপহৃত এবং বন্দী। তারা কি উদ্ধার পাবে?‌ কীভাবেই বা সেটা সম্ভব?‌ জয়সলমীরের পটভূমিতে এক রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার। প্রাণে বাঁচার কৌশল হিসেবেই যেন সেখানে একটার পর একটা গান গাইতে হয় কিশোর-‌কণ্ঠীকে। আর, বাঙালি রান্না দিয়ে অপহরণকারী অবাঙালিদের মন জয়ের চেষ্টা চালায় গায়কের স্ত্রী। আদতে কি সেটা সম্ভব হবে?‌ প্রাণে বাঁচবে গায়ক ও তার সঙ্গীরা? এই প্রশ্ন থ্রিলারের আবহেই জাগিয়ে রাখেন পরিচালক। উত্তর দেবে এই ছবি, পর্দায়।
এ ছবির সবচেয়ে বড় সম্পদ প্রসেনজিতের অভিনয় এবং কুমার শানুর কণ্ঠে কিশোরকুমারের বেশ কিছু জনপ্রিয় বাংলা ও হিন্দি গান। মাচায় অনুষ্ঠান বহু বছর ধরেই করেছেন প্রসেনজিৎ। কিন্তু সেই অনুষ্ঠান করেছেন স্বয়ং প্রসেনজিৎ। এই ছবিতে কিশোরকুমার জুনিয়র হয়ে যেভাবে মাচা মাতিয়ে দিলেন তিনি, তা সত্যিই অনবদ্য। আর, জয়সলমীরে ‘‌সিং নেই তবু নাম তার সিংহ’‌ গানের সঙ্গে প্রসেনজিতের অভিনয়—ভোলা যাবে না। কখনও মদ্যপ, কখনও আদ্যন্ত সংসারী, কখনও প্রাণবন্ত‌, কখনও বিধ্বস্ত, কখনও পাড়ার চায়ের দোকানের আড্ডাবাজ—প্রতিটি ভূমিকা নিপুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর স্ত্রীর ভূমিকায় অপরাজিতা আঢ্য এবং ছেলের চরিত্রে ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় খুব সুন্দর। জুনিয়রের চেলা, মিউজিক দলের সঙ্গী, বাঁশি-‌বাদকের ভূমিকায় লামা চমৎকার। ভাল লাগে রাজেশ শর্মার অভিনয়। ক্যামেরায় গোপী ভগত ও সঙ্গীতে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর ভূমিকা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য।
সব মিলিয়ে, ‘‌কিশোরকুমার জুনিয়র’‌ এক অন্যরকম ছবি। মৌলিক ভাবনার ছবি। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা তিনিই বাড়িয়েছেন। তাই, মনে হয়েছে, ‘‌‌কিশোরকুমার জুনিয়র’‌কে তিনি দুটি ভাগে ভাগ করে দিয়েছেন। মনে হয়েছে, এক ছবিতে দুটো ছবি বুনেছেন তিনি। তবে, ছবির শেষে তিনি ‘‌সম’‌-‌এ ফিরেছেন। সেই প্রাপ্তিও কম নয়, যা, একই সঙ্গে আমাদের ভালো লাগা ও বিষন্নতাকে একটা বিন্দুতে মিশিয়ে দেয়। এবং তখন সত্যিই আমরা ফিরে পাই কিশোরকুমার জুনিয়রকে।

জনপ্রিয়

Back To Top