সোমনাথ গুপ্ত: নন্দিনী (‌ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত)‌ আর শৌভিকের (‌শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়)‌ দাম্পত্যে একদিন অসুখ ঢুকে পড়ে। কিন্তু ছোট্ট মেয়ে সুজাকে নিয়ে তাদের মোটামুটি স্বচ্ছল এবং সুখের পরিবার। যদিও, দুজনেই ডাক্তার, কিন্তু কিছুদিন আগে নন্দিনী নার্সিংহোমের চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এবং, ঘটনা চক্রে, এবার শৌভিকও নার্সিংহোমে অশান্তির কেন্দ্রে‌। তাকেও কি ছেড়ে দিতে নিরাপত্তার চাকরি?‌
এসব নিয়ে তোলপাড় হওয়ার আগে নন্দিনীর নামে একটা পার্সেল এসে হাজির। কে পাঠাল, জানা নেই। এভাবে, কদিন অন্তর একটা করে পার্সেল আসে নন্দিনীর নামে। সেই পার্সেলে কখনও নন্দিনীর একার ছবি, কখনও মেয়ের সঙ্গে নন্দিনী, কখনও নন্দিনীর সঙ্গে শৌভিক। কে পাঠাচ্ছে এইসব পার্সেল?‌
খোঁজ শুরু করে নন্দিনী। যত খুঁজতে চায়, ততই আরও অসহায় হয়ে পড়ে সে। এবং সন্দেহবশত, নন্দিনী, ফিরে যায় তার নানান অপরাধবোধের কাছে। এবং সেই অপরাধবোধের উৎসে পৌঁছনোর যাত্রা শুরু হয়।
উৎসে গিয়েও কিণারা হয় না পার্সেল-‌কাণ্ডের। শৌভিক যতই অগ্রাহ্য করতে বলে, ততই যেন জেদ চেপে যায় নন্দিনীর। তাহলে কি শৌভিক সন্দেহ করে নন্দিনীকে?‌ প্রশ্ন ওঠে। উত্তর আসে না। সব প্রশ্নের উত্তর হয় না।
কে বা কারা পার্সেল পাঠাচ্ছে, তার উত্তর না দিয়ে, পরিচালক ছবির শেষ পর্বে এমন একটি চমক উপস্থাপিত করেন, যা দর্শকদের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করবে, অথবা, বুঝিয়ে দেবে, জীবনের সব উত্তর পাওয়া যায় না। পেশাগত ক্ষেত্রে এক রোগীকে ভেন্টিলেশনে না দেওয়ার জন্যে একজনের চাকরি যায়, আর একজন রোগীকে ভেন্টিলেশনে দেওয়ার জন্যে চাকরি হারানোর মুখোমুখি।
এই বৈপরীত্যকেই গাঁথতে চেয়েছেন পরিচালক ইন্দ্রাশিস‌ আচার্য, তাঁর ‘‌পার্সেল’‌-‌এ। সন্দেহ নেই, সোজাসাপটা গল্প বলার পথে হাঁটেননি পরিচালক। ঘটমান বর্তমানকে কীভাবে ছুঁয়ে থাকে অতীত, অতীতের অপরাধবোধ, তার ওপরেই তির্যক আলো ফেলেছেন পরিচালক।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর অভিনয় আবার মুগ্ধ করল ‘‌পার্সেল’‌-‌এ। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ও খুব সুন্দর অভিনয় করেছেন। ছোট্ট সুজার চরিত্রে ভাল লাগে তিয়াসা দাশগুপ্তকে। দামিনী বেণী বসু, শ্রীলা মজুমদার, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, অনিন্দ্য চ্যাটার্জি ভাল অভিনয় করেছেন।
জয় সরকারের সঙ্গীত ছবিকে গভীরতা দিয়েছে। বেহালা বাজানোর দৃশ্যের ব্যবহার খুব সুন্দর। শান্তনু দে-‌র ক্যামেরা প্রশংসনীয়। সব মিলিয়ে, ‘‌পার্সেল’‌ জীবন-‌খননের ছবি।

জনপ্রিয়

Back To Top