সম্রাট মুখোপাধ্যায়: ●‌ মাটি। পরিচালনা:‌ লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনয়ে:‌ আদিল হুসেন, পাওলি, মনামি, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, অপরাজিতা আঢ্য, চন্দন সেন, অনসূয়া মজুমদার, শংকর চক্রবর্তী, লাবণী সরকার, ভরত কল, সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়।
কোনটা আসল স্বদেশ?‌ যেটায় মানুষ   বসবাস করে সেটা?‌ নাকি মনের ভেতরে পেছনে ফেলে আসা যে স্বপ্নের দেশটা থাকে সেটা?‌ বাস্তবতার কাঠিন্য যাকে স্পর্শ করে না। 
কিন্তু কখনও যদি তা করে?‌ স্বপ্নের দেশের কঠিন বাস্তবতাগুলো চোখে পড়তে থাকে, কেমন লাগে তখন?‌ সেই সঙ্কটটাকেই ‘‌মাটি’‌ ছবিতে ধরতে চেয়েছেন দুই পরিচালক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়। যে চিত্রনাট্যে স্বপ্নভঙ্গ আছে বাস্তবের ঘায়ে। আবার বাস্তবসম্মত বোধে সেই স্বপ্নকে পুননির্মানও আছে। 
আর এসব মিলিয়ে বাংলাদেশ ও তার মাটিই এ’‌ ছবির মূল আকর্ষণ। দুই পরিচালক বাংলাদেশকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন তার আত্মার দিক থেকে। আতিথেয়তা, সহজ প্রাণের আনন্দ, অসাম্প্রদায়িকতা এসবের ভেতর দিয়ে। দেবজ্যাতি মিশ্র তাকে সুর–‌ভাবনায় ধরেছেনও ভারি ভালো। শুধু একটাই অভিযোগ, গানের সংখ্যা বড্ড বেশি। হয়ত শ্রুতিমধূর লেগেছে, কিন্তু নাটকের গতি কমে গেছে।
এ’‌ছবির মূল জোর এর চিত্রনাট্য। ইতিহাসের অধ্যাপিকা মেঘলা চৌধুরির (‌পাওলি দাম)‌ সামনে হঠাৎই সুযোগ এসে যায় বাংলাদেশ যাবার। যেখানে ছিল তার পিতৃপুরুষের কয়েক শতাব্দীর ভিটে। মেঘলার দাদু সত্যব্রত চৌধুরী (‌চন্দন সেন)‌ গোটা পরিবারসহ এ’‌ বাংলায় চলে এলেও থেকে যায় দিদিমা কুমুদিনী দেবী (‌অপরাজিতা আঢ্য)‌। বাংলাদেশের নদী–‌মাটি–‌ফুল ভালোবেসে। এতবছর পরে এই বাংলাদেশে যাবার নিমন্ত্রনের পাশাপাশি আরও একটা জিনিস হাতে আসে মেঘলার, কুমুদিনী দেবীর লিখে রেখে যাওয়া এক দিনলিপি। এই দিনলিপির পাতায় বদলে যাওয়া পূর্ববঙ্গের বৃত্তান্ত। যে বদলে যাওয়ার পেছনে আছে সাম্প্রদায়িক মেরুকরন। 
এয়ারপোর্টে মেঘলাকে ‘‌রিসিভ’‌ করতে আসে জামিল (‌আদিল হুসেন)‌ নামের এক হাসিখুশি মানুষ। তার সঙ্গে হাল্কা একটা বন্ধুত্বও গড়ে ওঠে মেঘলার। কিন্তু সেদিনই সে গ্রামে পৌছে জানতে পারে জামিল আর তার মা (‌সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়)‌ এখন থাকে তাদের বাড়িতে। এক অদ্ভূত আক্রোশ জন্ম নেয় তার মনে, যদিও ধীরে ধীরে যেসব ঘটনাক্রম আর সত্য তার চোখের সামনে উন্মোচিত হতে থাকে, তাতে সে বুঝতে পারে ইতিহাসের বিচার এত সরলভাবে, এতটা সাদায় কালোয় করা যায না। বাংলাদেশের সঙ্গে রাজাবাজারকে অদ্ভূত মসৃনতায় জুড়ে দেওয়ায় দেশভাগের যন্ত্রনাকে ব্যাপকতার চেহারা যেমন দেওয়া গেছে, তেমনই ধর্মীয় বিভাজনগত ভারসাম্যও বজায় থেকেছে। আবার এ’‌ ছবিকে কোথাওই স্লোগানধর্মী বলে মনে হয় না। সব মিলিয়ে ‘‌মাটি’‌ চলতি ঝঁাক থেকে সত্যিই আলাদা। 
আদিল হুসেন অসাধারণ অভিনয় করেছেন। ভাল অভিনয় করেছেন পাওলি।  সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় অনবদ্য অভিনয় করেছেন আরও একবার। ভাল লাগে অপরিজিতা আঢ্য, মনামি ঘোষকে। চন্দন সেন দারুন কাজ করেছেন ছবি জুড়ে

জনপ্রিয়

Back To Top