দ্বৈপায়ন দেব: ●‌ হাউসফুল ফোর। পরিচালনা:‌ ফারহাদ সামজি। অভিনয়ে:‌ অক্ষয়কুমার, ববি দেওল, রীতেশ দেশমুখ, কৃতি শ্যানন, পূজা হেগড়ে, কৃতি খারবান্দা, রানা ডাগ্গুবাতি, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি, রঞ্জিত, চাঙ্কি পান্ডে, মনোজ পাওয়া, পরিক্ষিৎ সাহানি, জনি লিভার, জ্যামি লিভার।
এ ছবির সুপার–‌ডুপার আকর্ষণ একজনই। তিনি অক্ষয়কুমার। বছরে হিট–‌এর হ্যাটট্রিক করাটা যিনি মোটামুটি অভ্যাসে পরিণত করেছেন। তিন নায়ককে নিয়ে চিত্রনাট্য। কিন্তু মূল কেন্দ্রবিন্দু একজনই–‌ অক্ষয়কুমার। ছবির অন্তত‌ আশিভাগ ফ্রেমেই তিনি। গোটা সৌরপথে একজনই সূর্য। আর তাঁকে ঘিরেই যাবতীয় গ্রহ–‌তারারা। এই ফর্মুলাতেই ওই ছবি ৭৫ কোটি টাকা প্রযোজনা–‌ব্যয়ে আটকে রাখা গেছে। যা ছবি মুক্তি পাওয়ার প্রথম তিনদিনে দেওয়ালির ভরা উইক–‌এন্ডেই উঠে এসেছে।
নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি এই ছবিতে আছেন বটে, তবে তা একটি মাত্র দৃশ্যে। অতিথি শিল্পী হিসেবে। তবে কিনা নওয়াজ তো, ফলে সেটুকুতেই কামাল করে দিয়েছেন!‌ সংলাপ বলায়, নাচে, চোখের মুদ্রায়। এই একবারই ছবিতে অক্ষয়ের আসন টলোমলো করেছে।
‘‌বাহুবলী’‌ খ্যাত ‘‌ভল্লালদেব’‌ রানা ডাগ্গুবাতি আছেন। তিনি এই ছবির সুপার ভিলেন। প্রথম পর্বে দু’‌টি দৃশ্যে তাঁর অভিনয় গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো। ‘‌বাহুবলী’‌র স্মৃতি ফের জাগিয়ে তুলবে। পরের পর্বে ভোল বদলে কমেডিতেও তিনি বেশ সাবলীল। দু’‌পর্বে রূপ পাল্টে দু’‌রকম বিপরীতধর্মী অভিনয় দেখে মনে বেশ তারিফও জাগবে। কিন্তু ওই যে, মুশকিল হল এই ছবি অক্ষয়–‌কেন্দ্রিক। ফলে নায়ক বা বাজেট–‘‌‌যা হোক কিছু’‌র কথা ভেবে ডাগ্গুবাতির ‘‌গামা’‌ চরিত্রটা তেমন হাত–‌পা মেলার জায়গা পেল না। পেলে কিন্তু জমে যেত এটা বোঝা গেছে।‌ অতএব, অক্ষয়জি কেবলম। এই ছবিতে সচেতনভাবেই অক্ষয় ‘‌থ্রি–‌ইন–‌ওয়ান’‌। এক অবতারে হ্যারি, যে নির্বোধ, ভুলো, মাঝবয়েসি পাকা চুলের এক লোক। এই পর্বে অক্ষয়ের এখনকার না–‌মেক–‌আপ–‌করা চেহারাটা দেখা গেছে!‌ দ্বিতীয় পর্বে ৬০০ বছর আগের এক রাজকুমার বালাদেব সিং। মুণ্ডিত মস্তক। চূড়ান্ত গ্ল্যামার–‌খচিত শরীর, কিন্তু মুখে–‌চোখে এক আশ্চর্য ধূর্ততা, শঠতা। এই দুই পর্বের সমান্তরাল গল্পে সত্যিই আলাদা দু’‌রকম অভিনয় করেছেন অক্ষয়!‌ এখানেই শেষ নয়, জন্মান্তরের স্মৃতি ফিরে আসায় তৃতীয় পর্বে হ্যারির যে রসায়ন তৈরি হচ্ছে, তা আবার আরও অন্য এক রকম। এবং এই মধ্যস্থ চরিত্রটা তৈরি করাতেও অসাধারণ অক্ষয়। অনবদ্য তাঁর ‘‌টাইমিং সেন্স’‌।
তবে এ কথাও বলতে হবে, এই জন্মান্তরের গল্পটা বা রাজকীয় প্রতিশোধের গল্পটা বলতে গিয়ে এ ছবি ‘‌ট্রিটমেন্ট’‌–‌এ একটা বুদ্ধিদীপ্ত ‘‌স্পুফ’‌ এনেছে। আর সেই ‘‌স্পুফ’‌ বা ব্যঙ্গ হল দক্ষিণ ভারতীয় কিছু হিট ছবির ফর্মুলার প্রতি। যেমন ‘‌‌বাহুবলী’‌ বা ‘‌মগধীরা’‌।এ
তবে অক্ষয়ের পাশে মুখে–‌প্রতিক্রিয়া–‌না–‌খেলা ববি দেওল বা একঘেয়ে রীতেশ দেশমুখকে বড় ক্লান্তিকর লেগেছে। একইরকম আকর্ষণহীন তিন নায়িকা। বরং জনি লিভার আর তাঁর মেয়ে জ্যামি লিভারকে একই চরিত্রের দুই জন্মান্তরে বেশ মজাদার লেগেছে। ও হ্যাঁ, গল্পটা এক লাইনে বলে দেই। তিন নায়ক ও তিন নায়িকা জন্মান্তরের স্মৃতি ও ভিলেন–বাবাজিকে ৬০০ বছর বাদে বিয়ের মণ্ডপে ফিরে পেয়ে বুঝতে পারে, তারা জন্ম–‌জন্মান্তরের সাথি।‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top