দ্বৈপায়ন দেব: • হেলিকপ্টার ইলা। পরিচালনা:‌ প্রদীপ সরকার।
অভিনয়ে:‌ কাজল মুখোপাধ্যায়, ঋদ্ধি সেন, টোটা রায়চৌধুরি, নেহা ধুপিয়া।
বাঙালি পরিচালক। বাঙালি বংশোদ্ভূত নায়িকা। বাঙালি নায়ক। এবং মূল পুরুষ চরিত্রেও বাঙালি অভিনেতা।
এমন চারটে জিনিস একসঙ্গে ঘটলে সে ছবিকেও প্রায় বাংলার ঘরের ছবি বলেই মনে হয়। পুজোয় এবার ছ–‌ছ’‌খানা বাংলা ছবি মুক্তি পেয়েছিল। তবু বাঙালি দর্শক এ ছবি দেখতে ছুটেছে। তা শুধু কাজলের সেকেন্ড কামব্যাক ছবি বলে নয়। এ ছবির ‘‌বেঙ্গলি কানেকশন’‌–‌এর জন্য। ফলে এটা ছিল এবারের পুজোয় সাত নম্বর ‘‌বাঙালি’‌ রিলিজ।
গল্পের মূল চরিত্র ইলা রাইতুরকর (‌কাজল)‌ আর তার সদ্য যুবক ছেলে ভিভান (‌ঋদ্ধি সেন)‌ চিত্রনাট্যে অবশ্য অবাঙালি। ইলার স্বামী অরুণ (‌টোটা রায়চৌধুরী)‌ বউ আর ছেলেকে ফেলে হঠাৎই এক মিথ্যে ভয় থেকে উদাসীন সন্ন্যাসে গেছে। সেই যাওয়াটার খুব ভাল ‘‌লজিক’‌ অবশ্য সিনেমার চিত্রনাট্যে নেই। এরপর মা আর ছেলেকে নিয়েই নাটক। ছোট্ট জায়গায় আটকানো একটা সম্পর্কের টানাপোড়েনের নাটক (‌হ্যাঁ, একটি মারাঠি নাটক থেকেই এ চিত্রনাট্যের জন্ম)‌। তাকে ছড়াতে গিয়ে পরিচালক প্রদীপ সরকার অনেক কিছু এনেছেন ছবিতে। আর তাতেই বিপদটাও ঘটিয়ে ফেলেছেন। হেলিকপ্টার–‌এর ‘‌চেম্বার’‌ বড্ড ভারি হয়ে গেছে।
‘‌ওভার পজেসিভ’‌ মা, যার অতিরিক্ত নজর রাখা কলেজে পড়া ছেলের জীবনকে অতিষ্ঠ করে দিয়েছে। ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে মা। নিভৃত ঘরে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর মধ্যে মা–‌র বাক্স–‌বিছানা হাঁটকে দেখা। বন্ধুদের সঙ্গে ফোনে কথা বলা আড়ি পেতে শোনা মা। এমনকী শেষমেশ সবাইকে চমকে দিয়ে কলেজেও ভিভানের ক্লাসেই এসে ভর্তি হয় মা!‌
চমক বা ঝাঁকুনি হিসাবে গল্পে এটা অব্যর্থ ছিল। একেবারে আধুনিক একটা সমস্যা। কিন্তু এই ব্যাপারটার উৎসে যেতে পারলেন না প্রদীপবাবু। কারণ, হারানো স্বামীর ছায়া ছেলের ভেতর দিয়ে খুঁজে পাওয়ার ভেতর যে ‘‌কমপ্লেক্স’‌, তাকে ধারণ করতে পারেনি এই চিত্রনাট্য। একজন একা মা–‌র বাচ্চাকে বড় করে তোলার ভেতর যে সামাজিক লড়াই সেটাও এল কই?‌ যেটুকু এল সেটুকু বড্ড শৌখিন!‌
এইসব গভীর অস্বস্তিগুলোর ভেতর ভ্রমণ করার বদলে প্রদীপ সরকার বেছে নিয়েছেন সহজ দুটো সরণি। এক, ছেলের কলেজের মিউজিক ফেস্ট ঘিরে একটা আবেগবহুল সাবপ্লট, সেখানে পুরনো হিট একটি হিন্দি গানকে নতুন ‘‌রিদম্‌’‌–‌এ ব্যবহার করা। ‘‌রুঠে খোওয়াব কো মানায়েঙ্গে’‌। দুই, কাজলের গ্ল্যামার আর অভিনয়ের স্মৃতিকাতর ‘‌কক্‌টেল’‌–কে ব্যবহার করে নতুন মদে পুরনো ঝাঁঝ আর গন্ধ আনা। কাজল অবশ্য এর জন্য একেবারে ‘‌পারফেক্ট ব্র‌্যান্ডিং’‌–‌এর মতো লড়ে গেছেন। ছবি শুরু হওয়ার দু’‌মিনিটের মধ্যে সদ্যস্নাতা কাজলের চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে ‘‌পরী হু ম্যায়’‌–‌এর সঙ্গে আলতো নাচ— এখনও স্নায়ুতে আঁচড় কাটে। তবে ঋদ্ধির প্রাণপণ চেষ্টা সত্ত্বেও মা–‌ছেলের ‘‌বন্ডিং’‌টা ঠিক জমেনি। টোটা নিজের জায়গায় সাবলীল ছিলেন। কিন্তু তার হঠাৎ আবার ফিরে আসা চরিত্রটাকে কোথাও অবাস্তব করে দিল! সব মিলিয়ে হেলিকপ্টার যতটা আশা জাগিয়েছিল শুরুতে, শেষ পর্য

জনপ্রিয়

Back To Top