সম্রাট মুখোপাধ্যায়: • হোয়াই চিট ইন্ডিয়া • পরিচালনা:‌ সৌমিক সেন • অভিনয়ে:‌ ইমরান হাসমি, স্নেহা ধনওয়ানত্রে, স্নিগ্ধদীপ চ্যাটার্জি।
ইমেজ বদলালেন ইমরান হাসমি। 
এছবিতে ইমরানের চরিত্র এক জয়েন্ট পরীক্ষা জালিয়াতের। যে নানাভাবে প্রশ্ন ফাঁস করে, খাতা দেখাকে ম্যানিপুলেট করে।
তবে ‘‌হোয়াই চিট ইন্ডিয়া’‌ নামের ছবিতে তাঁর এতদিনের ইমেজে মোচড় দুটো। এক, সে এসব অনৈতিক কাজ করলেও প্রবল ‘‌হৃদয়বান’‌। দুই, শেষমেষও সে জালিয়াতই থেকে যায়। প্রেমে পড়েও হৃদয় পরিবর্তন হয় না তার। বরং তার ধরা পড়া সত্ত্বেও তার ‘‌রবিন হুড’‌ সত্ত্বাটি অটুট থাকে।
শুধু এক্ষেত্রে মজার কথাটি হল সে ‘‌রবিন হুড’‌, গরীবদের মসীহা হয়ে নয়, বড়লোক বাপের নোটওয়ালা পুত্তুরদের মসীহা হয়ে। সাতের দশকে অমিতাভ বচ্চন একভাবে হিন্দি ছবির পর্দায় এই ‘‌মাফিয়া রবিন হুড’‌ ভাবমূর্তিটা তৈরি করেছিলেন। তা ছিল মহাকাব্যিক। আর এখন সময়টা অন্য। মূলত হাইটেক, আবেগপ্রবণ। এছবির নায়ক রাকেশ সিং ওরফে রকি একেবারে তেমনই। সেও আইন ভাঙে, তবে তা বড়লোকদের থেকে নোট নিয়ে। তার চরিত্রেও উপেক্ষিত কর্ণের একটা হালকা প্রেক্ষাপট জোড়া আছে। পরিবারের সব খরচা চালিয়েও সে মূল্য পায় না। সে সম্মান পায় তার অনাবাসী ডাক্তার ভাই। যাকে রাকেশই খরচা দিয়ে ডাক্তারি পড়িয়েছে। রকি (‌ইমরান হাসমি)‌ একটি অবৈধ গোপন ব্যবসা চালায়। যে ব্যবসার কার্যক্রম হল চাকরির পরীক্ষায় টাকার বিনিময়ে পাশ করানো। আর এই কাজটা করা হয় বিকল্প ভাড়াটে পরীক্ষার্থী নিয়োগ করে। তেমনই এক নকল পরীক্ষার্থী হয়ে গল্পে আসে সঞ্জু (স্নিগ্ধদীপ চ্যাটার্জি)‌, ভারি ভাল মানিয়েছে একে)‌। এক প্রতিভাবান কিন্তু অভাবী ঘরের মেধাবী ছাত্র। যে নিজ যোগ্যতাতেই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ঢুকেছে। এই ছেলেকে আর তার বাবাকে টাকার লোভ দেখায় রাকেশ। সঞ্জুকে বসায় অসংখ্য জয়েন্ট পরীক্ষার্থীর হয়ে পরীক্ষায়। নাম ও ছবি পাল্টে পাল্টে। তবে এই পর্বের প্রস্তুতি আর ‘‌টেনশন’‌ কোনওটাই ঠিক চিত্রনাট্যে জমাতে পারেননি পরিচালক সৌমিক সেন। তাই চাপে পড়ে সঞ্জু যখন আত্মহত্যা করে, সেটাও ঠিক চোখ ভেজাতে পারে না দর্শকদের।
এরপর গল্পে আসে সঞ্জুর দিদি নুপূর (‌শ্রেয়া ধনওয়াত্রে)‌। তার সঙ্গে প্রেম হয় রাকেশের। এবার নুপূরকে এম বি এ পরীক্ষায় পাস করাতে জালিয়াতির ক্ষেত্র বদলায় রাকেশ। এখানে চিত্রনাট্যে একটা মোচড় আসে ঠিকই তবে শেষরক্ষা হয়নি। কারণ ক্লাইম্যাক্সে ইমরানেরই পুরনো এক ছবির ছায়া বড্ড চেনা গেছে। তবু ভাল যে এইরকম একটা সামাজিক ব্যাধি নিয়ে ছবি করার কথা ভেবেছেন প্রযোজক ইমরান। আসলে এই ধরণের সোশ্যাল ইস্যু নিয়ে ছবি করে সাম্প্রতিক অতীতে আমির খান বা অক্ষয়কুমারের পাওয়া সাফল্যই হয়ত তাঁকে অনুপ্রাণিত করে থাকবে এই পথ বদলের।

জনপ্রিয়

Back To Top