‌সোমনাথ গুপ্ত: দুটি ভরসা দিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। এক, সিনেমার নায়িকা মানেই যে শুধু গ্ল্যামার নয়, প্রমাণ করে দিলেন ‘‌ছপাক’‌-‌এ। দুই, এই ছবি মুক্তির আগে প্রমাণ করে দিলেন নায়িকা মানেই সমাজের আঁচ বাঁচিয়ে চলা নয়। তাই জে এন ইউ-‌তে পৌঁছে তিনি রক্তাক্ত ঐশী ঘোষের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেন, আমি দীপিকা পাড়ুকোন, আপনাদের পাশে আছি।
‘‌ছপাক’‌ তুলে আনল এক জ্বলন্ত ইস্যু মেঘনা গুলজারের পরিচালনায়। অ্যাসিড আক্রান্ত লক্ষ্মী আগরওয়ালের ঘটনাকে সিনেমার মতো করে ‘‌ছপাক’‌-‌এর কেন্দ্রে রেখেছেন তিনি। এবং মালতীর ভূমিকায় অভিনয় করে চমকে দিয়েছেন দীপিকা। এটা বায়োপিক নয়। তাই দীপিকা এখানে মালতী। এবং একথা স্বীকার করতে কেউ-‌ই দ্বিধাবোধ করবেন না, এভাবে পর্দায় মালতী হয়ে ওঠা চাট্টিখানি কথা নয়। কোথাও গ্ল্যামারের ছিটে ফোঁটা তো নেই-‌ই, প্রস্থেটিক মেক-‌আপ-‌এ দীপিকা যেন সত্যিই মালতী।
এক সাধারণ মেয়ে কিন্তু অসাধারণ তার লড়াই। এই লড়াই হিন্দি সিনেমার সমস্ত ফর্মুলাকে অগ্রাহ্য করে এগিয়েছে। কোথাও কোনও মেলোড্রামার ছিটে ফোঁটা নেই।
অনেক প্রশ্ন তুলেছে ‘‌ছপাক’‌। অ্যাসিডে আক্রান্ত নারীকেও প্রতিবন্ধী চিহ্নিত করে দিতে চায় সমাজ। সেই সমাজকে উত্তর দিয়েছে ‘‌ছপাক’‌। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, মেঘনা কিংবা দীপিকা, কেউ-‌ই বক্স অফিসের সঙ্গে কোনও সমঝোতা করতে চাননি। এবং এই ছবির প্রযোজকও দীপিকা।
দীপিকার প্রস্থেটিক মেক-‌আপ অনবদ্য। এবং অসাধারণ তাঁর অভিনয়। তাঁর জেদ। তাঁর রসবোধ। তাঁর সঙ্গে সমানতালে অভিনয় করেছেন বিক্রান্ত মেসি। এবং লড়াকু আইনজীবীর চরিত্রে মধুরজিৎ সারঘি মনে থেকে যাবেন।
চোখ রাঙানিকে ভয় না পেয়ে, নিজের পথে সত্যের পথে হেঁটে যাওয়ার সাহস দেখাল ‘‌ছপাক’‌। সাহস দেখালেন দীপিকা এবং মেঘনা গুলজার। তাঁদের সেলাম।‌

জনপ্রিয়

Back To Top