অয়ন চক্রবর্তী: পৃথিবী বাইনারিতে বিশ্বাস করে। বা বলা ভাল, আমরা, পৃথিবীবাসীরা, বাইনারিতে বিশ্বাস করি। বাঙালিরা তো বিশেষ করে। আমাদের গোটা জীবন জুড়েই বাইনারি। সিপিএম?‌ নাকি তৃণমূল?‌ মোহনবাগান?‌ নাকি ইস্টবেঙ্গল?‌ উত্তম?‌ নাকি সৌমিত্র?‌ কিশোর?‌ নাকি হেমন্ত?‌ জীবনের নতুন সংযোজন— ডিসি?‌ নাকি মার্ভেল?‌ জাস্টিস লিগ?‌ নাকি অ্যাভেঞ্জার্স?‌ এই ২০১৯-‌এর মে মাসের শুরুতে এগিয়ে গেল মার্ভেল কমিকস তথা অ্যাভেঞ্জার্স।
তারিখ ২৯ এপ্রিল, সময় বিকেল ৩-‌টে ৫৫, স্থান সাউথসিটি আইম্যাক্স। ছয় থেকে ষোল বছরের অগণন ভিড়ে দেখতে বসেছি ‘‌অ্যাভেঞ্জার্স :‌ এন্ডগেম’‌, আর মিস করছি নিজের ওই ফেলে আসা বয়সটাকে। ওই স্বতঃস্ফূর্ত হর্ষধ্বনি তো আমারও, ওই উত্তেজনা তো আমারও, ওই অনাবিল আনন্দ তো আমারও। কিন্তু হায়!‌ আমি যে ‘বড়‌’‌ হয়ে গেছি!‌ ক্রিস্টোফার নোলানের ব্যাটম্যান ট্রিলজির পর থেকে আমি ডিসি কমিকসের সিনেমার ফ্যান, মার্ভেলের মার্ভেলাস দুনিয়ায় আমি আজ বহিরাগত।
‘‌ইনফিনিটি স্টোনস’‌ হাতিয়ে নিয়ে মহাভিলেন থানোস সাবাড় করে দিয়েছে পৃথিবীর অর্ধেক জনসংখ্যা। ছবির একদম শুরুতেই একটা ছোট্ট দৃশ্যে কী অসাধারণ অভিঘাত এই তথ্যের!‌ মুন্সিয়ানা। একত্রিত হতে শুরু করল অ্যাভেঞ্জাররা। টনি স্টার্ক ওরফে আয়রন ম্যান, থানোসের এক মেয়ে নেবুলা, নাতাশা, ব্রুস বার্নার ওরফে হাল্ক, থর— আরও অনেকে। অ্যাভেঞ্জাররা ধরে ফেলে থানোসকে, নাকি থানোসই ধরা দেয়?‌ যাই হোক, অ্যাভেঞ্জাররা জানতে পারে, যা সর্বনাশ করার করে দিয়েছে থানোস। পৃথিবীর নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রাণকে বাঁচাতে গেলে তাদের একমাত্র ভরসা টাইম ট্রাভেল।
এই তো!‌ মুশকিল হয়ে গেল ডিসি ফ্যানের!‌ এত কাঁচা গল্প নিয়ে, এত সাধারণ বুনোট নিয়ে সিনেমা বানানো যায়!‌ যাবতীয় সংশয়, সন্দেহ ভেসে উড়ে গেল ছয় থেকে ষোলর তুমুল উচ্ছ্বাসে, বিপুল জোয়ারে!‌ পৃথিবী বাঁচাতে এক একজন সুপারহিরো আসছেন, প্রায় দেখতেই হচ্ছে না তাঁদের, গোটা হলজুড়ে সমবেত অভ্যর্থনা হচ্ছে তাঁদের নাম ধরে!‌ করতালি, উল্লাস, চিৎকার, হর্ষধ্বনি, মার্ভেল সুপারহিরোজ!‌
প্রৌঢ় আমি ভাবছিলাম, গল্পে তো তেমন জোর নেই, প্লটে তো তেমন বুনোট নেই, আন্তঃসম্পর্কে তো তেমন জটিলতা নেই!‌ তারপর বুঝলাম, আমি তো ছয় থেকে ষোলতে নেই, আমি অন্য এজ গ্রুপে। ছয় থেকে ষোল এসব চায়না, তারা চায় জেতার উদগ্র আগ্রহ, ভালর জিত এবং খারাপের হার। এবং একটা ছোট্ট নীতিবাক্য— প্রাণ দিয়ে কিছু চাইলে, খুব প্রাণের কিছু হারাতেও হয়।
এইটুকুই নীতিবাক্য, এইটুকুই না পাওয়া, স্পয়েলার না দেওয়া রিভিউয়ে এটুকুই লেখার। এই ছবির স্পয়েলার যাঁরা দেন, তাঁরা আসলে তাঁদের শৈশব হারিয়েছেন ছোটবেলাতেই। জয় মার্ভেল!‌ জয় ডিসি!‌ ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top