সোমনাথ গুপ্ত: ‘‌৬১ নম্বর গড়পার লেন’‌ ছিল ঈপ্সিতা রায় সরকার ও রাজেশ দত্ত পরিচালিত প্রথম ছবি। সন্দেহ নেই, প্রথম ছবিতেই যথেষ্ট ভরসা দিয়েছিলেন এই নবীন পরিচালক জুটি। গড়পার লেনের বিষয়টা ছিল সমাজ, সংসারকে নিয়ে একটা সিরিয়াস ভাবনার ছবি। দ্বিতীয় ছবিতে কমেডিকে ধরেই এগিয়েছেন ঈপ্সিতা আর রাজেশ। ছবির নামেও সেই কমেডির ইঙ্গিত—‘‌আবার বসন্ত বিলাপ’‌।
দীনেন গুপ্তর সেই জনপ্রিয় ‘‌বসন্ত বিলাপ’‌-‌এর সঙ্গে এ ছবির বিষয়গত কোনও মিল নেই। এক প্রকাশনী সংস্থার মালিকের প্রিয় সিনেমা ‘‌বসন্ত বিলাপ’‌, তাই তিনি তাঁর প্রকাশনের নাম রেখেছেন ‘‌আবার বসন্ত বিলাপ’‌। এই প্রকাশনের ম্যানেজার পরানপ্রিয় (‌পরান বন্দ্যোপাধ্যায়)‌ অকৃতদার। এখানকার প্রুফ রিডার অনাদিবাবু (‌খরাজ মুখোপাধ্যায়)‌ আবার সংসার সামলাতে হিমসিম। অনাদিবাবুর ছেলে শিবু (‌অনুভব কাঞ্জিলাল)‌ বাবার হোটেলে খেয়ে প্রেম করতে চায় রাধিকার (‌দেবলীনা কুমার)‌ সঙ্গে। রাধিকা শিবুকে পাত্তা দেয় না। এদিকে একদিন প্রেসে আগমন ঘটে প্রৌঢ়া সুন্দরী শকুন্তলা দেবীর (‌মুনমুন সেন)। তিনি নিজের লেখা ছাপাতে চান বই হিসাবে।
ওদিকে পাড়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বেকার সংঘের ঘণ্টা (‌সুমিত সমাদ্দার)‌ আর প্রাইভেট টিউটর ডিম্পিদা (‌মীর)‌।
প্রচুর কমেডির উপাদান। একদিকে পরান-‌মুনমুন‌-‌খরাজের ত্রিভূজ। অন্যদিকে শিবু-‌রাধিকার টানাপোড়েন। এবং ঘণ্টার জড়িয়ে পড়া। আর ডিম্পিদার আবেগ।
বেশ কয়েকটা চরিত্রকে কেন্দ্রে রেখে ভুল বোঝাবুঝি, প্রেম, প্রত্যাখ্যান, নাটকীয়তা—নানা উপাদান নিয়ে এসেছেন পরিচালক জুটি। কিন্তু কমেডি ছবিতে সারাক্ষণই কমেডির উপাদান রাখার সচেষ্ট উদ্যোগের ফলে মাঝে মাঝেই কমেডি হারিয়ে গেছে। জোর করে হাসানোর চেষ্টায় খরাজ মুখোপাধ্যায় অজস্রবার একটা স্থূল সংলাপ এতবার বলে গেলেন যে, সেটা শেষ পর্যন্ত প্রায় অশ্রাব্য হয়ে ওঠে। খরাজ মুখোপাধ্যায়ের মতো একজন শক্তিশালী অভিনেতাকে এমন একটা সংলাপ বারবার কেন বলতে হবে হাসানোর জন্যে?‌ অথচ, এই ছবিতেও খরাজের অভিনয় যথেষ্ট প্রশংসনীয়। পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ও যথারীতি অনবদ্য তাঁর অভিনয়ে, কমিক-‌টাইমিং-‌এ। বহুদিন পরে বড়পর্দায় মুনমুন সেনকে দেখে ভাল লাগল। মীর অন্যরকম। ভাল লাগে মৌসুমী সাহাকে। জমিয়ে দিয়েছেন সুমিত সমাদ্দার। নতুন মুখ অনুভবকে ভাল লাগে। দেবলীনা কুমার ভাল অভিনয় করেছেন।
অনেকরকম চমক এনেছেন দুই পরিচালক। কমেডির আড়ালে সমাজের কিছু কঠিন সত্যকে তুলে ধরেছেন তাঁরা। কিন্তু চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেননি। চিত্রনাট্য আরও একটু শক্তপোক্ত হলে ভাল হত। কিন্তু সব মিলিয়ে ঈপ্সিতা, রাজেশ তথাকথিত ফর্মুলা এড়িয়ে, নিজস্ব গল্প নিয়ে একটা ফুরফুরে কমেডি ছবি উপহার দিতে চেয়েছেন। দর্শকের জন্যে এটাও কম প্রাপ্তি নয়। তাঁদের উদ্যোগকে স্বাগত।    ‌

জনপ্রিয়

Back To Top